Templates by BIGtheme NET
আজ- বুধবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২০ :: ১১ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ :: সময়- ২ : ৪৪ পুর্বাহ্ন
Home / খোলা কলাম / একজন সর্বজনীন মা চাই

একজন সর্বজনীন মা চাই

আবু সাঈদ
hasina khaledaবিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর অকাল প্রয়াণে মা খালেদা স্বভাবতই শোকে বিহ্বল হয়ে পড়েছেন। এই বিহ্বলতা সন্তান বাৎসল্যের চিরন্তন রূপেরই বহিঃপ্রকাশ। সন্তানকে ঘিরে মায়ের অলৌকিক বেদনা আছে। এটি পরম সত্য। বিভিন্ন প্রিন্ট মিডিয়া, ইলেকট্রনিক মিডিয়া ও অন লাইন মিডিয়ায় পোষ্ট করা বেগম জিয়ার শোক সন্তপ্ত বিমর্ষ ছবি মানবিক বোধসম্পন্ন যে কারুরই মনে বেদনার সঞ্চারন ঘটাবে। আমরা সবাই শোকাভূত, সমব্যথায় ব্যথিত।

২০১৪ সালের কোন একদিনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর বিদেশ ফেরত সন্তান সজীব ওয়াজেদ জয়কে নিজ হাতে রান্না করে খাওয়ানোর জন্য কোছানী (কিচেন এপ্রোন) পড়ে রাঁধুনী সেজেছিলেন। সন্তানের জন্য মা হাসিনার রাঁধুনী সাজার আনন্দও মাতৃত্বের চিরন্তনরূপ। তখন রাঁধুনী হাসিনার ছবি পৃথিবী জুড়ে বিভিন্ন মিডিয়ায় আলোড়ন তুলেছিল, প্রশংসা কুড়িয়েছিল। সন্তানকে ঘিরে মায়ের অলৌকিক আনন্দ আছে, আবার বেদনাও আছে। সুখের চূরন্ত রূপটি যিনি উপলব্ধি করেছেন বেদনার চূরন্ত রূপটি কেবল তারই পক্ষে উপলব্ধি করা সম্ভব। খুব সম্ভবত প্রকৃতিগতভাবে অবস্থা ঘটনার প্রেক্ষিতে আনন্দ-বেদনার এই পরম রূপটি মায়ের উপলব্ধিতে বেশী আসে। ‘অলৌকিক আনন্দের ভার বিধাতা যাহারে দেন তার বক্ষে বেদনা অপার’-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

খলিফা হারুন-অর-রশিদ এর দরবারে একবার এক খুঁজে পাওয়া শিশুর মাতৃত্বের দাবীতে দু’জন নারী উপস্থিত হলেন। তারা দু’জনই নিজেদেরকে শিশুটির মা বলে দাবী করলেন। বাদশা হারুন সভাষদবর্গকে নিয়ে শিশুটির আসল মায়ের পরিচয় বাহির করার বিভিন্ন পন্থা অবলম্বল করে ব্যর্থ হলেন।

প্রজ্ঞাবান হারুন অবশেষে কিছুক্ষণ অবনত মস্তকে চিন্তা করে কোতায়লকে তলোয়ার আনার হুকুম দিলেন এবং মাতৃত্বের দাবীদার দু’নারীকে জানালেন, শিশুটিকে সমান অংশে দু’ভাগ করে দু’জনকে দেয়া হবে । যথারীতি কার্যসম্পাদনের সময় ঘনিয়ে এলে একজন মা এরূপ কার্য থেকে নিবৃত্ত হতে বাদশাকে করজোড়ে অনুরোধ জানালেন এবং নিজে মাতৃত্বের দাবী প্রত্যাখান করলেন। মহামতি খলিফার বুঝতে বাকি থাকলো না সন্তানটির গর্ভধারিনী কে। অবশেষে তিনি মমতাময়ী মাতার কাছে যথোপযুক্ত উপঢৌকন সহ সন্তানটি ফেরত দিলেন।

আমি এমন এক সময় এ ছোট্ট অথচ অর্থবহ কাহিনীটুকু উদাহরণ হিসেবে ব্যবহার করছি যখন আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি রাজনৈতিক অস্থিরতায় একটা মহাসংকটকাল অতিবাহিত করছে। বলার অপেক্ষা থাকে না যে, এই সংকট সৃষ্টির পেছনে দুই নারীর স্ব স্ব অনড় অবস্থানই দায়ী। আমরা নিরীহ মানবকূল এই দুই দেশ প্রেমিক দেশ মাতার চাপাচাপিতে পড়ে প্রাণে মরছি। দু’জনই আবার দেশমাতা কিংবা দেশ প্রেমিক হিসেবে নিজেদের পরিচয় দিতে ভালবাসেন। দু’জনই জণগনের জানমালের নিরাপত্তা বিধানের কথা হরহামেশাই উচ্চারণ করেন। বলা বাহুল্য এই নিরাপত্তা বিধানের লক্ষ্যে প্রয়োজনে হত্যা, খুন, সন্ত্রাস, লুটপাট চালাতে ভোলেন না এবং দু’জনই এই হত্যাযজ্ঞ লুটপাট সন্ত্রাসের ক্ষেত্রে একচুল পরিমান কম কিংবা বেশী হতে নারাজ। দু’জনই দেশাত্ববোধের প্রমাণ দিতে গিয়ে বাক্যবাণে একে অপরকে বিদ্ধ করার চেষ্টা করেন। কিন্তু ফল হয় এর উল্টো-রাজায় রাজায় যুদ্ধ হয়, উলুখাগড়ার প্রাণ যায় ।

প্রশ্ন হলো ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটে যে শিশুটি মৃত্যু যন্ত্রনায় কাতরাচ্ছে এই শিশুটির মায়ের সাথে জয় কিংবা কোকোর মায়ের পার্থক্য কোথায়? যারা প্রতিনিয়ত মারা পড়ছে, প্রতিনিয়ত যাদের জানমাল খোয়া যাচ্ছে, শান্তি প্রিয় সাধারণ মানুষ-রাজনৈতিক অস্থিরতায় যাদের জীবন বিষিয়ে উঠছে, তারা কারা? আরাফাত রহমান কোকো আর সজীব ওয়াজেদ জয়ের মায়ের প্রার্থীত জনগণ কারা?– সত্যিকার সর্বজনীন দেশ মাতা কিংবা দেশ প্রেমিক কি রক্তপাত দেখতে চান? আমরা গভীর শ্রদ্ধার সাথে বলতে চাই,আমরা দ্বার্থহীন কন্ঠে বলতে চাই আমরাও মায়ের সন্তান,আমাদের অধিকার আছে বাঁচার। আমাদের মায়ের আবেগ আছে, অনুভূতি আছে। বার্ণ ইউনিটে মৃত্যু যন্ত্রনায় কাতরানো শিশুটি আমার মায়ের। আমাদেরকে নিয়ে আমাদের মায়ের অলৌকিক আনন্দ আছে,অপার বেদনা আছে।

আমরা হারুন-অর-রশীদের দরবারের ঐ মাকে চাই যে মা মাতৃত্বের দাবী ছেড়ে দিয়ে মায়ের চিরন্তন রূপটিকে সাবলাইম করেছেন। আমরা দেশ হিতৈশী জনহিতৈশী একজন সর্বজনীন মা চাই। যে মা উচ্চারণ করবে,‘ শত পুত্র শোকে বুক ফাটিছে আমার।’

‘হায়! অদ্ভূদ আধার এক এসেছে পৃথিবীতে আজ- যারা অন্ধ, তারা আজ বেশী দেখে চোখে । যাদের হৃদয়ে প্রেম নেই ভালবাসা নেই করুণার ধারা বহে না, পৃথিবী অচল আজ তাদের সু পরামর্শ ছাড়া।’ আজকে মিশর জ্বলছে , সিরিয়া জ্বলছে, ইরাক জ্বলছে, ফিলিস্তিন জ্বলছে। এর মধ্যিখানে বিচারকের আসনে বসেছে সাম্রাজ্যবাদী শকূনের দল। বাননের পিঠা ভাগের মতো শেষটুকু না খাওয়া পর্যন্ত যারা কোনকালেই তৃপ্ত হয়নি। যারা জনগণ! জনগণ! জনগণ! ও মানবতার কথা বলে মুখে ফেনা তুলছে তারাই ইন্ধন যোগাচ্ছে মানুষ মারতে। আমাদের বলতে দি¦ধা নেই এই নিষ্টুর হত্যাযজ্ঞের হাওয়া লেগেছে,এই নিষ্ঠুর মোড়লীপনার আঁচর লেগেছে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিতেও।

কলহ প্রিয় এই আমরা নিজেরা দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করে নির্লজ্জের মত আগবাড়িয়ে ভিন দেশীদের মধ্যস্থতার জন্য ডাকছি। আজ আ্যমেরিকা তো কাল ভারত, পরশু ইউরোপীয় ইউনিয়ন, বৃটেন। এই সংকটকালীন সময়ে আমাদের দরকার সত্যিকার মানবপ্রেমিক, সত্যিকার সর্বজনীন একজন দেশমাতার, সত্যিকার একজন দেশ প্রেমিকের। যে নি:শঙ্কচিত্তে উচ্চারণ করবে, কান্ডারী! বল, ডুবিছে সন্তান মোর মা’র!

লেখক- প্রভাষক ও সাংবাদিক।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful