Templates by BIGtheme NET
আজ- মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২০ :: ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ :: সময়- ৩ : ৪৫ অপরাহ্ন
Home / খোলা কলাম / বিএনপির মেধাহীন রাজনীতি এবং তারেক রহমান

বিএনপির মেধাহীন রাজনীতি এবং তারেক রহমান

বিজন সরকার

bijonতারেক রহমান। বাংলাদেশের রাজনীতিতে আলোচিত নামগুলোর অন্যতম। সেনা ছাউনিতে জন্ম নেওয়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান।

তারেক রহমান কারও কাছে বিতর্কিত, কারও কাছে নিন্দিত, কারও কাছে উগ্র এবং জঙ্গিবান্ধব রাজনীতির সহায়ক, কারও কাছে দুর্নীতি শব্দটির সমার্থক হিসাবে পরিচিত। এরা সবাই যে বিএনপি বিরোধী শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত তা নয়। অনেকেই বিএনপি বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরের নীরব সমর্থক। আবার সাধারণ জনগণের একটি বিশাল অংশও রয়েছে।

অন্যদিকে তারেক রহমান দেশের একটি বিরাট অংশের কাছে নন্দিত এবং জনপ্রিয়। তারেক রহমান বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান। বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বিএনপির বহু নেতা কর্মীদের কাছে তারেক রহমান অনুপ্রেরণা এবং উজ্জীবিত হওয়ার উৎস। দলটির নেতা কর্মীদের বড় একটি অংশ দলটির ভবিষ্যৎ কাণ্ডারি হিসাবে তারেক রহমানকেই মেনে নিয়েছে। বিশেষ করে দলটির ভেতরকার তরুণ অংশটি তারেক রহমানকেই দলের ভবিষ্যৎ প্রধান নেতা হিসাবেই গণ্য করে।

তবে দলটির ওপরের স্তরের সিনিয়র নেতাদের একটি অংশের মধ্যে তারেক রহমানের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে একটি অস্পষ্ট অবস্থান অনুধাবন করা যায়। খালেদা জিয়ার অবর্তমানে তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলটির সিনিয়র নেতৃত্ব কতটুকু সক্রিয় থাকবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। নিষ্ক্রিয় থাকার বেশ কিছু উপসর্গও লক্ষ্য করা গেছে। ২০১০ সাল থেকেই মহাজোট সরকার বিরোধী আন্দোলনে দলটির সিনিয়র নেতারা নীরব দেখা যাচ্ছে। বিএনপি ৫ জানুয়ারির নির্বাচন প্রতিহতের ডাক দিলেও দলটির ওপরের স্তরের নেতাদের তেমন সক্রিয় ভূমিকাতে দেখা যায়নি। ফলে দেশব্যাপী জামাত-শিবিরের জঙ্গি উন্মাদনা ছাড়া আন্দোলন বলতে যা বোঝায়, তা দেশবাসী দেখেনি। গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে একটি প্যাটার্ন লক্ষ্য করা যায়, ২০০১ থেকে বিএনপিতে সিনিয়র নেতাদের নিষ্ক্রিয়তা এবং তারেক রহমানের প্রভাব বৃদ্ধি সমান্তরাল ভাবেই এগিয়েছে।

বেশ কিছুদিন ধরেই লন্ডনে দলের বিভিন্ন আলোচনা সভায় তারেক রহমান বঙ্গবন্ধু, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং দেশের মীমাংসিত ইতিহাস বিষয়ে বিতর্কিত কথাবার্তা বলতে শুরু করেন। এর জন্য বিএনপির সাবেক নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান বেসরকারি টেলিভিশনের টকশোতে তারেক রহমানের তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। উপলব্ধি করা যায়, দলের ভেতর অনেকেই আখতারুজ্জামানের মতো মিডিয়াতে সরাসরি না বলে নীরব থাকার কৌশল নিয়েছেন। অতীতেও দেখা গেছে, দলের ভেতর অনেকেই তারেক রহমানের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেছেন এবং দল থেকে অন্যায় শাস্তি পেয়েছেন। আবার অনেকেই দল ছেড়ে চলে গিয়ে নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেছেন। এদের মধ্যে দুই জন বিএনপি নামক রাজনৈতিক দলটির গঠন করার প্রক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন।

আবার তারেক রহমান আইনের দৃষ্টিতে একজন পলাতক আসামি। ওয়ান ইলাভেনের পর তারেক রহমান দেশ থেকে চিকিৎসার নামে লন্ডনে পাড়ি জমান। চলে যাওয়ার সময় রাজনীতিতে ফিরবেন না বলে একটি মুচলেকাও দিয়েছিলেন। তার নামে বহু মামলা বিচারাধীন। তৎকালীন বিরোধীদলের প্রধান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার  জনসভাতে গ্রেনেড হামলার মামলা থেকে শুরু করে দুর্নীতির বহু মামলাই রয়েছে তারেক রহমানের নামে। আদালতের নির্দেশ থাকার পরও উনি দেশে ফিরছেন না। ফেরারি জীবন বেছে নিয়েছেন বিএনপির এই ভবিষ্যৎ কাণ্ডারি।

নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বে চারদলীয় জোট সরকারে আসার পরে তারেক রহমানের ক্ষমতা বহুগুণে বেড়ে যায়। তারেকের প্রতি আনুগত্য আছে এই রকম এক ঝাঁক তরুণ রাজনীতিবিদকে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। 

১৯৯১-১৯৯৬ সালের বিএনপির শাসনামলে সরকার কিংবা দলে তারেক রহমানের তেমন প্রভাব ছিল না। ২০০১ সালে জাতীয় নির্বাচনের সময় থেকেই তারেক রহমান দলে এবং দল ক্ষমতায় গেলে সরকারে ভূমিকা রাখতে শুরু করেন। বিশেষ করে ২০০১ সালে সাধারণ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন প্রদান ও নির্বাচন পরিচালনায় ভূমিকা রাখেন। ফলে দলের ভেতর তারেক রহমানের অবস্থান সুদৃঢ় হয়। নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বে চারদলীয় জোট সরকারে আসার পরে তারেক রহমানের ক্ষমতা বহুগুণে বেড়ে যায়। তারেকের প্রতি আনুগত্য আছে এই রকম এক ঝাঁক তরুণ রাজনীতিবিদকে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। প্রায় প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী দলের একজন সিনিয়র নেতা হলেও প্রতিমন্ত্রী দেওয়া হয় তারেক রহমানের বিশ্বস্ত জুনিয়র নেতাদের। এভাবে সরকারের ভেতর আরেকটি সরকার গঠন করে সেটির প্রধান হয়ে হাওয়া ভবন থেকে নিয়ন্ত্রণ করতেন তারেক রহমান।

২০০১ সালের নির্বাচনে চার দলীয় জোটের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভের পেছনে জামায়াতে ইসলামের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা ছিল। ফলশ্রুতিতে জামায়াতের ওপর বিএনপির নির্ভরশীলতা বহুগুণে বেড়ে যায়। জামায়াতের সঙ্গে খালেদা জিয়ার চেয়ে তারেক রহমানের সম্পর্ক ছিল বহু গভীরে। জামায়াতের দলীয় ইফতার পার্টি ছাড়া খালেদা জিয়াকে দলটির অনুষ্ঠানে তেমন একটা দেখা যায়নি। কিন্তু এই দলটির বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে তারেক রহমানকেই দেখা যেতো।

বিএনপির যে অংশটির সমর্থনের কারণেই জঙ্গি কার্যকলাপ বেড়ে গিয়েছিল সেই অংশটি তারেক রহমানের নেতৃত্বেই পরিচালিত হত।

২০০১-২০০৬ সাল পর্যন্ত দেশব্যাপী জঙ্গি হামলার পেছনে মূল কারিগর ছিল জামায়াতে ইসলাম। তারা বুঝতে পারে, বিএনপির ভবিষ্যৎ কাণ্ডারি যেহেতু আমাদের হাতে, এই ধরনের জঙ্গি কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে কোনও সমস্যা নেই। জঙ্গি কর্মকাণ্ডে বিভিন্নভাবে প্রশাসনিক সমর্থন দিয়ে গেছে হাওয়া ভবন। তারেক রহমানের হাওয়া ভবনেই জামায়েত ইসলামের তৎকালীন আমির এবং সেক্রেটারি জেনারেলকে প্রায়ই ছুটে যেতে দেখা গেছে। এমনকি তৎকালীন বিরোধী দলের নেতা বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার পরিকল্পনার দুই একটি প্রস্তুতি সভা তারেক রহমানের উপস্থিতিতে হাওয়া ভবনে হয়েছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিএনপির যে অংশটির সমর্থনের কারণেই জঙ্গি কার্যকলাপ বেড়ে গিয়েছিল সেই অংশটি তারেক রহমানের নেতৃত্বেই পরিচালিত হত।

বিএনপি-জামায়েত জোটের শাসনামলে বাংলাদেশ দুর্নীতিতে চারবার চ্যাম্পিয়ন হয়। দেশের মানুষের একটি বিশাল অংশ মনে করে, এর মূলেও ছিল তারেক রহমানের হাওয়া ভবন। সেই সময়ের পরিচিত এক থানা যুবদলের সভাপতি আক্ষেপ করে বলেছিলেন,’যে দেশের সরকার প্রধানের ছেলেমেয়ের অবৈধ টাকা পয়সা দরকার হয়, সেই দেশের জনগণের মত অভাগা আর নেই’। যদিও বিএনপি দাবি করে আসছে, সবই ছিল তারেকের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণা। কিন্তু দেশের সাধারণ মানুষ জানে, কিভাবে হাওয়ার ভবন দুর্নীতির প্রতীক হয়ে গিয়েছিল।

দেশের ভেতর দুর্নীতি, জঙ্গিবাদ এবং স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত-শিবিরের ক্ষমতার দাপটের কারণে বিএনপির ভেতর থেকেই প্রতিবাদ আসা শুরু হয়েছিল। বিশেষ করে সরকারের সমান্তরাল ‘হাওয়া ভবন সরকার’ অনেকেই মেনে নেয়নি। এমন প্রতিবাদের কারণে দল থেকে ছিটকে পড়েন এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী এবং অলি আহমেদের মত অভিজ্ঞ নেতারা।

খালেদা জিয়া কাছে রাজনীতির চেয়ে পুত্রস্নেহ বড় হয়ে ওঠে। তারেক রহমানের বিরুদ্ধে এইসব অভিযোগের দায় মিডিয়া, আওয়ামী লীগ আর ভারতের ওপর চাপিয়েছেন তিনি। প্রথমদিকে জঙ্গিদের উত্থান মিডিয়ার সৃষ্টি বললেও পরে জঙ্গি হামলার জন্য পুরো দায় দিয়েছেন ভারতকে। এমনকি ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার জন্য খালেদা জিয়া সরাসরি শেখ হাসিনাকে দায়ী করেছেন। খালেদা জিয়ার এই অবস্থানে তারেক রহমান আরও ক্ষমতাধর হয়ে উঠেন। কারণ কোথাও তার জবাবদিহি করতে হয়নি। এমনকি বিএনপির এক অদৃশ্য ক্ষমতার নক্ষত্র মোসাদ্দেক হোসেন ফালুকেও ছিটকে পড়তে হয়েছিল তারেক রহমানের কারণে।

হয়ত বেগম জিয়ার ধারণা ছিল, তারেক রহমানকে বাধা দিতে গেলেই তারেক রহমান বিরোধী গ্রুপটি আস্কারা পেয়ে যাবে। এতে তারেক রহমানের বিএনপির নেতৃত্বে আসা বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তারেক রহমান সম্পর্কে আন্তর্জাতিক অঙ্গনও নেতিবাচক ধারণা পেতে শুরু করে। উইকিলিস তারবার্তা থেকে জানা যায়, তৎকালীন ঢাকাস্থ মার্কিন রাষ্ট্রদূত তারেক রহমানকে আমেরিকার জন্য বিপদজনক আখ্যায়িত করে তাকে আমেরিকাতে ভ্রমণের সুযোগ না দিতে মার্কিন প্রশাসনকে অনুরোধ করেন।

এমনকি মাফিয়া ডন দাউদ ইব্রাহিমের সঙ্গে তারেক রহমানের সভার খবর মিডিয়াতে প্রকাশ স্বত্ত্বেও বেগম জিয়ার পুত্রস্নেহ কাটেনি।

আওয়ামী লীগের মত একটি দলকে মোকাবেলা করতে যে মেধা ও প্রজ্ঞা দরকার, সেই তুলনায় তারেক রহমান ছিলেন দুগ্ধপোষ্য শিশুর মতোই। মনে রাখতে হবে, আওয়ামী লীগ পাকিস্তানি সামরিক শাসকদের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রাম করে বাংলাদেশের জন্ম দিয়েছে। 

তারেক রহমানের কারণেই বিএনপি আস্তে আস্তে বুদ্ধিভিত্তিক রাজনীতি করার যোগ্যতা হারায়। অনেকেই হয়ত বলবেন, তারেক রহমান বিএনপিকে তৃণমূলে শক্তিশালী করেছেন। তবে আওয়ামী লীগের মত একটি দলকে মোকাবেলা করতে যে মেধা ও প্রজ্ঞা দরকার, সেই তুলনায় তারেক রহমান ছিলেন দুগ্ধপোষ্য শিশুর মতোই। মনে রাখতে হবে, আওয়ামী লীগ পাকিস্তানি সামরিক শাসকদের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রাম করে বাংলাদেশের জন্ম দিয়েছে। তারেক রহমানের কারণেই বিএনপি নামক দলটির ভেতর মেধাহীনতা জেঁকে বসে, আর মেধার জায়গায় প্রতিস্থাপিত হয় উগ্রতা এবং হঠকারিতা। আর বাংলাদেশ রাজনীতিতে এই মেধাহীনতার কুফল ভোগ করছে। কারণ আগে আওয়ামী লীগ এবং তার অঙ্গ সংগঠনকে বাম ঘরানার মেধাভিত্তিক দলগুলোকে মোকাবেলা করতে হত। আর এখন দলটির সামনে দানব জামায়াতে ইসলাম এবং তারেক রহমানের বিএনপি।

একটি উদাহরণ দিলেই দলটির মেধাহীনতার বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে। ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের আগে শেখ হাসিনা খালেদা জিয়াকে ফোন করেন। সেই সময় প্রধানমন্ত্রীর পাশে ছিলেন অভিজ্ঞ কিছু নেতা। ছিলেন তোফায়েল আহমেদ, আমির হোসেন আমু, সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ও এইচটি ইমাম। আর বিএনপি নেত্রীর পাশে ছিলেন ফখরুল ইসলাম আলমগীর, খালেদা জিয়ার প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান সোহেল এবং তার সহকারী ও শ্রমিক নেতা শিমুল বিশ্বাস। শেখ হাসিনা ফোন করার আগে দলীয় সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে একটি হোম ওয়ার্ক করে নিয়েছিলেন তা দুই নেত্রীর আলাপচারিতায় প্রতিফলিত হয়।

খালেদা জিয়ার পাশে থাকেন শিমুল বিশ্বাসের মতো একজন শ্রমিক নেতা, যাকে প্রায়ই আওয়ামী লীগের পক্ষে কাজ করার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়।

বেগম জিয়ার কোনও প্রস্তুতি ছিল বলে মনে হয়নি। যদি তা থাকতই, বেশিরভাগ সময় অর্থহীন কথা বলতেন না তিনি। অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে খালেদা জিয়ার হোম ওয়ার্ক না থাকার আরও প্রমাণ পাওয়া যায়। উদাহরণ স্বরূপ, খালেদা জিয়ার দেওয়া কেয়ারটেকার ফর্মুলা থেকেই ১০ জন সম্ভাব্য উপদেষ্টা খুঁজে পাওয়া যায়নি। আরেকটি উদাহরণ বেশ প্রাসঙ্গিক মনে হচ্ছে। অতি সম্প্রতি বিজেপির প্রধান অমিত শাহের সঙ্গে বেগম জিয়ার ফোনালাপ এবং মার্কিন ছয় কংগ্রেস সদস্যের স্বাক্ষর ও সিল নকল করে মিথ্যা প্রচারণার চিন্তাটি বিএনপির কোনও রাজনৈতিক সিদ্বান্ত নয়। এতে দলটির নীতি নির্ধারণী ফোরামের কোনও ভূমিকা নেই। তারেক রহমানের আস্থাভাজন মারুফ কামাল, শিমুল বিশ্বাস এবং দলের যুগ্ম মহাসচিব আবাসিক নেতা রুহুল কবির রিজভী আহমেদ জড়িত। আর বেগম জিয়া পুত্রস্নেহে এদের মতো কিছু ব্যক্তির কথায় পরিচালিত হচ্ছেন। খালেদা জিয়ার পাশে থাকেন শিমুল বিশ্বাসের মতো একজন শ্রমিক নেতা, যাকে প্রায়ই আওয়ামী লীগের পক্ষে কাজ করার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়।

১/১১-র পর থেকেই তারেক রহমান এবং তার সাঙ্গপাঙ্গদের কীর্তিকলাপ দেশবাসীর সামনে সম্পূর্ণরূপে উন্মোচিত হয়। তারেক রহমান দেশ থেকে চিকিৎসার নামে লন্ডনে পাড়ি জমান। রেখে জান এক বিধ্বস্ত বিএনপিকে। দলটি বহু দলে উপদলে বিভক্ত হয়ে পড়ে। দলটিকে ক্ষতিগ্রস্ত করার পেছনে দায় খালেদা জিয়ার অন্ধ পুত্রস্নেহ আর তারেক রহমানের একক নেতা হওয়ার খায়েশ।

তারেক রহমান লন্ডনে প্রবাস জীবনের প্রথম দিকে নিভৃতেই চলাফেরা করতেন। দলীয় নেতা কর্মী, জনগণ এমনকি মিডিয়াকেও এড়িয়ে গেছেন। কোনও আলোচনাতেই তিনি আসেন নাই। তবে তারেক রহমানের ফেলে যাওয়া বিধ্বস্ত বিএনপি উনার দেখিয়ে দেওয়া পথেই হাঁটতে থাকে। দলটি যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষেই অবস্থান নেয়। ইনিয়ে বিনিয়ে বিচার প্রক্রিয়াকে বিতর্কিত এবং বাধাগ্রস্ত করার সকল কলাকৌশল অবলম্বন করে। বিএনপির এই চালাকি দেশের জনগণ বুঝে যায়। ফলে দলটি কেয়ারটেকার ইস্যুটিকে সামনে নিয়ে আসতে ব্যর্থ হয়।

৫ জানুয়ারির নির্বাচনের বেশ কয়েকমাস আগ থেকেই তারেক রহমান বিভিন্ন রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়ে আবারও আলোচনায় আসতে থাকে। আদালত থেকে বার বার দেশে ফেরার আদেশ দিলেও তিনি দেশে ফেরেন নাই। প্রথম দিকে চিকিৎসার কারণে আসা অসম্ভব বলে জানিয়েছেন। সাধারণ জনগণও বিশ্বাস করেছিল। পরে লক্ষ্য করা যায় তিনি মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর এবং সৌদি আরব ভ্রমণ করেছেন। বিভিন্ন দলীয় সভায় রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়ে বেড়াচ্ছেন। তার বিরুদ্ধে  অভিযোগগুলো এসে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মোকাবেলার সৎ সাহস তারেক রহমান দেখাননি। একজন ফেরারি আসামি হিসাবে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পরে তারেক রহমান ইতিহাস বিকৃত করার প্রকল্প হাতে নেন। এতে দেশের স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি এবং কট্টর আওয়ামীবিরোধী শিবির খুশি হলেও দেশের সুশীল সমাজ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং সাধারণ জনগণ তারেক রহমানকে আবারও নতুন করে আবিষ্কার করে। এমনকি বিএনপির ভেতরে কিছু নেতা ছাড়া তারেক রহমানের পক্ষে সাফাই গাইতে কাউকে দেখা যায়নি। বরং তারেক রহমানকে বেয়াদব গালি দিয়ে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করছেন মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের মতো সাবেক নেতা।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির অধিকাংশ সদস্যসহ দলের অধিকাংশ নেতা নিষ্ক্রিয় হওয়ার পিছনে দায়ী তারেক রহমান। দলটি আজ মেধাহীনতা এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের অভাবে ভুগছে। আগে যে সব উৎস (উদাহরণ ভারত বিরোধিতা ও ধর্ম) থেকে ভোটের রাজনীতি বিএনপি করত, ভোট সংগ্রহের সেই মাল্টি-লেয়ার সিস্টেমও আজ অকেজো হয়ে পড়েছে। তার মানে এই নয় যে বিএনপির ভোট আগের চেয়ে কমেছে। কমেছে দলটির মেধা, যোগ্যতা আর দলটির নেতা কর্মীদের অভ্যন্তরীণ বিশ্বাস।

যে নেতা দলের এই অসহায় অবস্থার জন্য দায়ী, দলের দুর্দিনে মামলা-হামলার ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন এবং এখনও বিভিন্ন বিতর্কিত বক্তব্য দিয়ে বিএনপির মতো বড় দলকে শক্তিহীন করে তুলছেন, তিনি বিএনপির মতো একটি রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের সুবিধাবাদী নেতা হতে পারেন, দেশের দায়িত্ব নেওয়া সামান্যতম যোগ্যতাও রাখেন না। একবার ভাবুন, একাত্তরে তারেকের রাজনৈতিক অবস্থান আজকের মতো থাকলে তার ভূমিকা কি থাকত? যে ব্যক্তি মামলা হামলার ভয়ে পালিয়ে বেড়ায়, তার নেতৃত্বে দেশের সার্বভৌমত্ব কতটুকু নিরাপদ?

বিএনপির নেতা কর্মীদেরকে তারেক রহমানের ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে গভীরভাবে জানতে হবে। পাশাপাশি দেশের মানুষকে বুঝতে হবে তারেক রহমান কোন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নন, তিনি একজন ফেরারি আসামি।

লেখক: গবেষক এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক, চন্নাম ন্যাশানাল ইউনিভার্সিটি, সাউথ কোরিয়া

ইমেইলঃ bipoly3001@yahoo.com

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful