Templates by BIGtheme NET
আজ- শনিবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২০ :: ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ :: সময়- ৩ : ০০ পুর্বাহ্ন
Home / ইতিহাস ও ঐতিহ্য / বাংলা আমার অহংকার

বাংলা আমার অহংকার

আনওয়ারুল ইসলাম রাজু

Ekushey-February“মোদের গরব, মোদের আশা, আ-মরি বাংলা ভাষা”-
বাংলা আমাদের মাতৃভাষা। এটি বিশ্বের অন্যতম প্রধান ভাষাও বটে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের একাধিক দেশের কমবেশি ত্রিশ কোটি মানুষ বাংলাভাষায় কথা বলে। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারতের পশ্চিমবঙ্গের প্রধান ভাষা বাংলা। এ ছাড়া ভারতের বিহার, আসাম, মনিপুর ও ত্রিপুরা রাজ্যের অনেক লোক বাংলাভাষাতেই কথা বলে। তবে মাতৃভাষা বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদায় প্রতিষ্ঠার জন্য একমাত্র আমরাই রক্ত দিয়ে বিশ্বের বুকে ইতিহাস সৃষ্টি করেছি। ১৯৫২-এর মহান ভাষা আন্দোলনের সেই রক্তাক্ত পথ বেয়ে ১৯৭১-এ এক সাগর রক্তের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ।

বছর ঘুরে আবার এসেছে ফিরে মাতৃভাষার জন্য জীবন দানের মাস ফেব্রুয়ারি। মহান ভাষা আন্দোলনের এ মাসে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি মাতৃভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠার আন্দোলন এবং মাতৃভূমির স্বাধীনতার জন্য মহান মুক্তিযুদ্ধে যারা শহীদ হয়েছেন তাঁদের অমর আত্মদানের স্মৃতি।

ভাষা বহতা নদীর মতো গতিশীল ও সদা পরিবর্তমান। স্থিরতা এর স্বভাব বিরুদ্ধ। পরিবর্তন পরিবর্ধন ভাষার বিশেষ বৈশিষ্ট্য। এ বৈশিষ্ট্যের কারণে একই ভাষা নানা রূপবৈচিত্রের মধ্য দিয়ে বিকশিত হয়। ভাষার প্রমিত রূপের পাশাপাশি অঞ্চলভেদে জন্ম নেয় আঞ্চলিক কথ্যরীতির ভাষা। ভাষার এই পরিবর্তনশীলতার পথ ধরেই একদিন এই উপমহাদেশে প্রচলিত সাধারণ মানুষের মুখের ভাষা ‘প্রাকৃত-অপভ্রংশ’ থেকে জন্ম নিয়েছিল আমাদের প্রিয় বাংলাভাষা । এই বাংলা ভাষার প্রমিত রূপের পাশাপাশি অনেক আঞ্চলিক রূপ বা উপভাষা রয়েছে। এইসব আঞ্চলিক উপভাষার উৎপত্তি বা উদ্ভবের কারণ হল বিশেষ কোন গোষ্ঠীর বা অঞ্চলের জনগণের নিজেদের মধ্যে ভাবের আদান প্রদান ও সেই অঞ্চলের লোকসাহিত্য ও লোকসংস্কৃতিকে ধারণ করা। আর এইসব আঞ্চলিক কথ্যরীতির উপভাষার মধ্যদিয়েই বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের প্রাণের স্পন্দন তথা ভাষার প্রকৃত সৌন্দর্য যথার্থ-রূপে প্রতিভাত হয়ে ওঠে।

মানুষের সমাজবদ্ধতার সাথে ভাষার উদ্ভব জড়িত, কারণ পরস্পরের কাছে মনের ভাব ব্যক্ত করার জন্যই ভাষার আবশ্যিকতা। সংস্কৃতির সাথেও রয়েছে ভাষার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ। আঞ্চলিক ভাষা বিকশিত হয় কোন নির্দিষ্ট সাংস্কৃতিক অঞ্চলকে কেন্দ্র করে । বলা-বাহুল্য এই সংস্কৃতি মূলত লোকসংস্কৃতি। আর অঞ্চলভেদে বিকশিত লোকসাহিত্য বা সংস্কৃতি একটা দেশের ঐতিহ্যবাহী জাতীয় সম্পদ, তাই তা সংরক্ষণ করাও একান্ত আবশ্যক। সৌভাগ্যের বিষয় হলো ভৌগোলিক-প্রাকৃতিক-সামাজিক-সাংস্কৃতিক দিক থেকে বৈচিত্র্যময় বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল লোকসাহিত্য ও লোকসংস্কৃতির ক্ষেত্রে গৌরবময় ঐতিহ্যের উত্তরাধিকারী। এই ঐতিহ্যবাহী জাতীয় সম্পদকে সংরক্ষণ করতে হলে প্রত্যেক অঞ্চলের লোকসাহিত্য ও লোকসংস্কৃতিকে ধারণ করে চলেছে যেসব কথ্যরীতির আঞ্চলিক উপভাষা সেগুলোকে স্ব-মহিমায় বিকশিত হওয়ার পথ খোলা রাখা প্রয়োজন । মূলত প্রত্যেক অঞ্চলের প্রতিটি মানুষের মুখের ভাষায় তথা নিজ নিজ আঞ্চলিক ভাষায় ভাবের আদান-প্রদান করার অধিকার একুশের চেতনার সাথে একান্তভাবে সাযুজ্যপূর্ণ।একুশের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে প্রতিটি আঞ্চলিক ভাষা আপন সৈৗন্দর্যে আরও বিকাশ লাভ করবে এ কামনা করি।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful