Templates by BIGtheme NET
আজ- সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০ :: ১৩ আশ্বিন ১৪২৭ :: সময়- ১ : ১০ পুর্বাহ্ন
Home / টপ নিউজ / সৈয়দপুরে নারীদের তৈরি পাপোস জার্মানিতে রপ্তানি

সৈয়দপুরে নারীদের তৈরি পাপোস জার্মানিতে রপ্তানি

নীলফামারী প্রতিনিধি: নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর উপজেলার বোতলাগাড়ী ইউনিয়নে নারীদের তৈরি পাপোস রপ্তানি হচ্ছে জার্মানিতে। সেখানে দিন দিন এ পাপোসের চাহিদাও বাড়ছে। আর পাপোস কারখানায় কাজ করে হত-দরিদ্র পরিবারের নারীরা হচ্ছেন স্বাবলম্বী। তাদের পরিবারের সদস্যদের জন্য দুবেলা দুমুঠো খাবার জোটানো ছিল কষ্টসাধ্য ব্যাপার। আগে তাদের মাথা গোজার ঠাই বলতে ছিল একমাত্র খড়ের ঘর। স্বামীর রোজগারেই ছিল সংসার পরিচালনার একমাত্র ভরসা তাদের। ফলে সংসারে অভাব অনটন সব সময় লেগেই থাকতো। কিন্তু গত সাড়ে তিন বছরের মধ্যে ওই পরিবারগুলো আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটেছে। আর তা সম্ভব হয়েছে একটি এনজিও পরিচালিত পাপোস কারখানায় কাজ বদৌলতে। সৈয়দপুর উপজেলার বোতলাগাড়ী ইউনিয়নে পাপোস কারখানাটি গড়ে তুলেছে রামনাথপুর বহুমুখী নবায়ন সংঘ (আরবিএনএস) নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। সেখানে এলাকার হত-দরিদ্র ২৫ জন নারীকে প্রথমে তিন মাসের প্রশিক্ষণ দেয়া হয় পাপোস তৈরি বিষয়ে। এরপর থেকে ওই পাপোস কারখানায় প্রশিক্ষিত নারীরা কাজ করছেন। সেখানে কাজ করে এখন তারা সবাই স্বাবলম্বী। এখন তাদের সংসার জীবনে স্বাচ্ছন্দ্য এসেছে। তাদের ছেলেমেয়েরা স্কুলে গিয়ে লেখাপড়া করছে। ঘরে টিন ও প্রয়োজনীয় মূল্যবান আসবাবপত্র উঠেছে। তাদের একজন হলেন, লক্ষ্মীরানী (২৬)। তার বাড়ি বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের উত্তর সোনাখুলি গ্রামে। তার স্বামী পরীক্ষিত দাস পেশায় একজন জেলে। বিয়ের পর স্বামীর সামান্য রোজগারে সংসার চলতো না হত-দরিদ্র এ পরিবারটির। এ অবস্থায় এনজিও আরবিএনএস’র মাধ্যমে ওই পাপোস কারখানায় কাজের সুযোগ হয় তার। লক্ষ্মীরানী জানান, প্রতিদিন তারা একেকজন ১৫ থেকে ১৮ট পর্যন্ত পাপোস তৈরি করতে পারে ওই পাপোস কারখানায়। প্রতিটি পাপোস তৈরিতে মজুরি পান ১৪ টাকা। সেই হিসেবে এখন তারা প্রত্যেক দিনে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত রোজগার করছেন।
তিনি আরও জানান, এখন স্বামী ও তার প্রতিদিনের রোজগারে সংসারের দৈনন্দিন চাহিদা মিটিয়ে প্রতিমাসে বেশকিছু টাকা সঞ্চয় হচ্ছে। এভাবে গত সাড়ে তিন বছরে তিনি ঘরে খড়ের বদলে টিন তুলেছেন। অন্যের জমি বর্গা নিয়ে চাষাবাদ করছেন। ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া করাচ্ছেন। এখন আর তাদের সংসারে আগের মতো অভাব অনটন নেই। লক্ষ্মীরানীর মতো পাপোস কারখানায় কাজ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন সুমিত্রা দাস (২৬), আমিনা বেগম (৩৫), নূরনাহার (৩০), মজিদা খাতুন (২৮)। তারা সবাই হত-দরিদ্র পরিবারের সদস্য।
ওই সংস্থার কমিউনিটি ফ্যাসিলেশন অফিসার নিতাই রায় জানান, সৈয়দপুর উপজেলার বোতলাগাড়ী ইউনিয়নটি ছিল অবহেলিত একটি জনপদ। আশ্বিন-কার্তিক মাসে এ অঞ্চলের মানুষের হাতে তেমন কোন কাজ থাকে না। ঘরে ঘরে হত-দরিদ্র পরিবারের সদস্যদের উপোষ করতে হতো। এ এলাকায় সময়টি মঙ্গার মাস হিসেবে অভিহিত। তাই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাটির পক্ষ থেকে ওই ইউনিয়নের হত-দরিদ্র পরিবারগুলোকে চিহ্নিত করা হয়। আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা কেয়ার বাংলাদেশের অর্থানুকূলে বোতলাগাড়ীতে কর্মসংস্থানের উদ্যোগ গ্রহণ করে। চিহ্নিত হত-দরিদ্র পরিবারের সদস্যদের আয়মূলক কাজের জন্য অনেকগুলো প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়। এসব কর্মমুখী প্রতিষ্ঠান বিপুল সংখ্যক হত-দরিদ্র মানুষের কাজের সংস্থান হয়। তিনি জানান, পাপোস কারখানাটিও এ ধরণের একটি উদ্যোগ। এতে ২৫ জন অভাবী নারী কাজ করছেন। হত-দরিদ্র মানুষের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত ও জনসচেতনতা বাড়াতে কাজ করছে ওই সংস্থাটি। হত-দরিদ্র পরিবারের নারীরা যাতে নিজের পথে দাঁড়াতে পারে এ জন্য সব রকম পৃষ্ঠপোষকতা দেয়া হচ্ছে। এতে সাফল্যের মুখ দেখছে বোতলাগাড়ীর গ্রামীণ নারীরা।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful