Templates by BIGtheme NET
আজ- বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০ :: ৯ আশ্বিন ১৪২৭ :: সময়- ৯ : ০১ অপরাহ্ন
Home / টপ নিউজ / উত্তরাঞ্চলের আলুর বাজার ফরিয়া পাইকারের দখলে : চাষীদের মাথায় হাত

উত্তরাঞ্চলের আলুর বাজার ফরিয়া পাইকারের দখলে : চাষীদের মাথায় হাত

সেন্ট্রাল ডেস্ক: প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও রোগ বালাই না হওয়ায় এবার আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। কৃষি বিভাগ বলছে, যতটা ভালো হলে আলুর বাম্পার ফলন বলা হয়, ঠিক ততোটাই। কিন্তু ভরা মৌসুমের আলুর বাজারের ধস, বেকায়দায় ফেলেছে উত্তরাঞ্চলের প্রান্তিক কৃষকদের। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও হরতালে কারণে হাট-বাজারে বড় ব্যবসায়ীরা আলু না কেনায় কৃষকরা পানির দরে আলু বিক্রি করছে ফরিয়া পাইকারদের কাছে। ফলে আলুর বাজার এখন ফরিয়া পাইকারের দখলে।

কৃষকরা জানায়, বোরো ও আমন ধান চাষের লোকসান পুশিয়ে নিতে এবার বেশি জমিতে আলু চাষাবাদ করেছেন। কিন্তু গত দুই বছর ধরে ধান আর চলতি মৌসুমে আলু আবাদে লোকসানের চাবুক খেয়ে তাঁদের শুষ্ক মুখে গভীর হচ্ছে দুশ্চিন্তার বলিরেখা। হিসাব মেলাতে না পেরে প্রান্তিক ও বর্গা কৃষকের মাথায় হাত পড়েছে।
সরজমিনে বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে শোনা গেলো আলুচাষীদের বিবর্ণ চিত্র। বল্লভবিষু গ্রামের কৃষক সামছুল আলম (৪৭) হতাশার সুরে জানান, “রোবো ও আমন ধান আবাদ করিয়া নোকসান গুননো।  সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এবার ঋণ করিয়ে আলু আবাদ কইননো। কিন্তু ভরা মওসুমে বাজারত আলুর দাম নাই। একবস্তা (৮৪কেজি) আলু বেচায়া নিজের খাটনি বাদেও নোকসান হবার নাগছে। বর্তমানে প্রতিবস্তা (৮৪কেজি) গ্রানুলা ৩৫০ থেকে ৩৮০ আর কার্ডিনাল ও ডায়মন্ড জাতের আলু ৬শ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এই দরে আলু বিক্রি করি আবাদে খরচাপাতি উঠছে না। আশা আছিল এবার আলু বিক্রি করি গত বছরের হাল ও সারের বাকী টাকা পরিশোধ করমো। কিন্তু সেই আশায় এবার গুঁড়োবালি।”
সারাই আলুটারী গ্রামের শিক্ষিত ও সামর্থবান কৃষক আশরাফুল ইসলাম (৪২) বলেন, “একদোন (২৪ শতাংশ) জমি গ্রানুলা জাতের আলু আবাদ করতে ৪০০০ টাকার বীজ, ৮০০ টাকার জমি চাষ, ঔষধ ২৫০০, সার ৫০০০, রোপণ, কান্দি মোড়ানো, উত্তোলন ৪০০০, স্প্রে ভাড়া ১২০০, মোট সাড়ে ১৭ হাজার থেকে সাড়ে ১৮ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয়। একদোন জমিতে (৮৪কেজির) গড়ে ৩৫ বস্তা অর্থাৎ (প্রায় ৩ মেট্রিকটন) আলু উৎপাদন হয়। বর্তমান বাজারমূল্য যার দাম ১৬ হাজার টাকা। সে তুলনায় বাজারে আলুর দাম কম। ভরা মৌসুমে ধানের বাজারে ধস নামায় কৃষকরা উৎপাদন খরচ তুলতে পারছেন না।”

তিনি জানান, “দ্বিগুন দামে সার, কৃষি উপকরণ ও শ্রমিক মুজরি বৃদ্ধির কারণে আলু আবাদে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। প্রতিবস্তা আলু উৎপাদনে খরচ হয় ৫০০ টাকা আর বর্তমান বাজারে প্রতিবস্তা আলু বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৩৮০ টাকা দরে। সেই হিসাবে প্রতিবস্তা ১২০/১৫০টাকা করে লোকসান গুনছে কৃষকরা। এরপরও হাট-বাজারে আলু কেনার বড় ব্যবসায়ীরা দেখা নাই।”

রংপুরের হারাগাছ ধুমগড়া গ্রামের কৃষক রমজান আলী (৫২) বলেন, “ক্ষেতে আলু উত্তোলনের শুরুতেই প্রতিবস্তা গ্রানুলা জাতের আলু সাড়ে ৬শ থেকে ৭শ টাকা, কার্ডিনাল ও ডায়মন্ড জাতের আলু সাড়ে ৯শ থেকে ১০৫০ টাকা দরে বিক্রি হয়। কিন্তু ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে আলু বাজারে ধস নেমে আসে। বর্তমানে প্রতিবস্তা গ্রানুলা জাতের আলু সাড়ে ৩শ টাকা, কার্ডিনাল ও ডায়মন্ড জাতের আলু সাড়ে ৫শ থেকে ৬শ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এরপরও আবার হাট-বাজার ও মাঠে আলু কেনার বড় পাইকার বা ব্যবসায়ি নাই। একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে মৌসুমের শুরুতেই কৃষকদের কাছ থেকে আলু কেনা শুরু করলেও এখন তারা কিনছে না। বর্তমানে কৃষকদের উৎপাদিত আলু পানির দরে ফরিয়া পাইকাররা কিনছে। ফলে আলু বাজার এখন ফড়িয়াদের দখলে রয়েছে। তারাই আলুর দাম নিয়ন্ত্রণ করছে।

আলু ব্যবসায়ী মোশারফ হোসেন ও মোতালেক হোসেন বলেন, “হাট-বাজার নতুন আলুর আমদানী হচ্ছে। কিন্তু চলতি মাসের শুরুতেই রাজনৈতিক অস্থিরতা ও হরতালের কারণে আলুর সরবরাহ না থাকায় আলুর দাম অনেকটা কমেছে। হরতালে রাস্তায় যানবাহন আটকে পড়ে কাঁচামাল পচে যাওয়ার ভয়ে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বড় আলুর ব্যবসায়ীরা এখানে আলু কিনতে আসছে না। আলু ব্যবসায়ীরা এ অঞ্চলে আলু ক্রয়ের পর তা ঢাকা রাজধানী সহ বিভিন্ন জেলায় নিয়ে যায়। বর্তমানে নতুন আলু সাড়ে ৩শ থেকে ৩৮০ টাকা পর্যন্ত কেনাবেচা হচ্ছে। গত তিন সপ্তাহের তুলনায় এখন প্রতিবস্তা আলুর দাম ২শ থেকে ২৫০ টাকা কম। তিনি বলেন, বড় আলু ব্যবসায়ীরা আলু ক্রয় শুরু না করলে আলু বাজার আরো কমতে পারে। এখনই লোকসান হলে, তখন কৃষকদের আরো বেশি লোকসান হবে।”

জানাগেছে, এ এলাকার উৎপাদিত আলু স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে বাকী আলু বিক্রি করে। আর আলু ব্যবসায়ী কৃষকদের উৎপাদিত আলু ক্রয় করে বিভিন্ন কোল্ড স্টোরেজে সংরক্ষণ করেন। কিন্তু বিভিন্ন কারণে আলু ব্যবসায়ীরা পর্যাপ্ত আলু ক্রয় না করায় আলুর ন্যায্য দাম প্রান্তিক কৃষকরা পাচ্ছে না। আর এর সুফল ভোগ করছে ফরিয়া পাইকাররা।
কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মাহাবুবর রহমান জানান, আবহাওয়া এবার আলু চাষের অনুকূলে ছিল। এছাড়া ভালো বীজ, সার ও কৃষি উপকরণ পাওয়ায় এবং রোগ-বালাই না হওয়ায় এবার আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এবার আলুর উৎপাদন বেশি হয়েছে এবং হরতালের কারণে ব্যবসায়ীরা আলু ক্রয় ও কোল্ড স্টোরেজগুলোতে এখনো আলু সংরক্ষণ শুরু না হওয়ায় বর্তমানে আলুর দাম কম হতে পারে বলে তিনি ধারণা করেছেন।
তবে কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলেন, এ অঞ্চলের কৃষকরা গত দুই-আড়াই বছর ধরে ধান, আলু সহ বিভিন্ন ফসল চাষাবাদ করে একের পর এক লোকশানের মুখে পড়ায় আগামী চাষাবাদে আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে পারে। তাই কৃষকদের বাঁচাতে হলে সরকারকে আলুর ন্যায্য দাম নিশ্চিত করতে হবে। কৃষকদের লোকসান কাটিয়ে তুলতে এবং আলু আবাদের উদ্যেগ অব্যাহত রাখতে এই অঞ্চলে পটোটো প্রক্রিয়াজাতকরণ বিভিন্ন মিল প্রতিষ্ঠা জরুরী হয়ে পড়েছে। এজন্য সরকারকে স্বল্প সুদে ঋণ দিয়ে বেসরকারি খাতকে উৎসাহ করার দাবি জানান।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful