Templates by BIGtheme NET
আজ- রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২০ :: ৫ আশ্বিন ১৪২৭ :: সময়- ১০ : ৪৯ পুর্বাহ্ন
Home / টপ নিউজ / জুয়াড়িদের নিয়ন্ত্রণে ৩ থানার পুলিশ !

জুয়াড়িদের নিয়ন্ত্রণে ৩ থানার পুলিশ !

নিজস্ব সংবাদদাতা: রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার দু’টি ইউনিয়নের করতোয়া নদীর ধার ঘেঁষা পৃথক ৬টি স্থানে বছরের পর বছর ধরে জমজমাট জুয়ার আসর চলে। এসব জুয়ার আসর নির্বিঘ্নে চালাতে জুয়াড়িদের ১০ নেতা রংপুর-দিনাজপুর ও গাইবান্ধার জেলার ৩ থানাকে নিয়ন্ত্রণ করছে। থানাগুলো হচ্ছে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ,রংপুরের পীরগঞ্জ এবং গাইবান্ধার পলাশবাড়ী। জুয়া খেলার সীমানা নিয়ে জুয়াড়ি-পুলিশ এবং ইউপি চেয়ারম্যানদের আত্মপক্ষ সমর্থনের কারণে কোনদিনই জুয়াখেলা বন্ধ হয় না। এসব জুয়ার আসরের নেতৃত্বে রয়েছেন বিভিন্ন ইউ’পির কয়েকজন বর্তমান এবং সাবেক ইউপি সদস্যরা।

সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা গেছে, রংপুর-দিনাজপুর-গাইবান্ধার সীমানার উপর দিয়ে বয়ে চলা করতোয়া নদীর দু’পাড়ে পীরগঞ্জ, পলাশবাড়ী এবং নবাবগঞ্জ উপজেলা। এরমধ্যে পীরগঞ্জের টুকুরিয়া ইউনিয়নের পারবোয়ালমারী,চতরা ইউনিয়নের মাটিয়ালপাড়া, ন্যাংড়ারঘাট,টোংরারদহ,বড় আলমপুর ইউনিয়নের রামনাথপুর ঘাট, শালপাড়া ঘাট, নবাবগঞ্জের কবলীপাড়া এবং পলাশবাড়ীর কাশিয়াবাড়ী ও সুলতানপুর পাচগাছি ইউনিয়নের মোজাফ্‌ফরপুর,এনায়েতপুর,বিরাহীমপুর ও পলসা নামকস্থানে পুলিশের সহযোগিতায় পৃথক ১২টি স্থানে জুয়ার আসর চলছে মর্মে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব এলাকার লোকজন বারবার পুলিশ-ইউপি চেয়ারম্যানদের কাছে অভিযোগ দিয়েও খেলাগুলো বন্ধ করতে পারেনি।

পুলিশ, ইউপি চেয়ারম্যান এবং জুয়াড়িরা এলাকাবাসীর কাছে এলাকায় জুয়া খেলা হচ্ছে না বলে দায় এড়িয়ে যায়। যদিও এসব জুয়া খেলাকে কেন্দ্র করে ইতিপূর্বে একাধিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। চতরা ইউনিয়নে জুয়ার টাকা ভাগবাটোয়ারাকে কেন্দ্র করে এক ভয়াবহ সংঘর্ষে শতাধিক বাড়িঘর ভাংচুর-অগ্নি সংযোগ, লুটপাট এবং জাহিদুল ইসলাম নামে ১ ব্যক্তি খুন হয়।

ভুক্তভোগী এলাকাবাসী জানায়, জুয়াড়িদের ২০ নেতা ওই ৩ থানা পুলিশের ঝক্কি-ঝামেলা মেটাতে পীরগঞ্জ নবাবগঞ্জ ও পলাশবাড়ী থানা পুলিশের সাথে গোপন চুক্তিতে আবদ্ধ রয়েছে। এরা হচ্ছে- পারবোয়ালমারী জুয়া আসরের নেতা আব্দুর রহিম ওরফে রহিম জুয়াড়ি, মাটিয়ালপাড়া জুয়া আসরের নেতা- চতরা ইউপি সদস্য আনিছার রহমান, দেলদার হোসেন ও মহিলা সদস্যার স্বামী আব্দুল ওয়াহেদ, শালপাড়া ঘাট জুয়া আসরের নেতা- মদনখালী ইউপির সাবেক সদস্য- মন্টু মিয়া ও পুতুল মিয়া, সাবেক ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম, রামনাথপুর জুয়া আসরের নেতা- বড়-আলমপুর ইউপির সাবেক ইউপি সদস্য রকি মিয়া ও মোনায়, কবলীপাড়া জুয়া আসরের নেতা- আনছার আলী, পলাশবাড়ীর কাশিয়াবাড়ি জুয়া আসরের নেতা- দুদু মিয়া। এই ২০ জুয়াড়িই নিয়ন্ত্রণ করছে ৩ থানা পুলিশকে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে,পীরগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এবং থানার মোড় থেকে প্রতিদিন পড়ন্ত বিকেলে ভাড়ায় চালিত মোটর সাইকেলগুলো যোগে জুয়াড়িরা ওইসব জুয়ার আসরে পৌঁছে এবং ভোররাত পর্যন্ত নির্বিঘ্নে জমজমাট জুয়া খেলায় মত্ত থাকে। খেলোয়াড়দের পরিবহনে ভাড়ায় চালিত মোটর সাইকেলগুলো যেন বিকেল থেকেই ব্যস্ত হয়ে পড়ে। এজন্য মোটর সাইকেল মালিকদের জুয়াড়িরা মোটা অংকের বকশিস দেন। এছাড়াও সন্ধ্যার পর মাইক্রোবাসে যোগে দুর দূরান্তের খেলোয়াড়রাও এসব আসরে আসে। করতোয়া নদীপাড়ের গ্রামে প্রায় বাড়িতেই ভাড়ায় চালিত মোটর সাইকেলগুলো জোরপূর্বক গ্যারেজ করে রাখা হয়। পীরগঞ্জ থানার পুলিশ দু বার অভিযান চালিয়ে মাটিয়ালপাড়ায় জুয়ার আসর থেকে দু দফায় ১১টি মোটর সাইকেল আটক করলেও তা পরবর্তীতে রাতারাতি মোটা অংকের বিনিময়ে তা ছেড়ে দেয়া হয়।

এসব জুয়ার আসরে বিভিন্ন এলাকার চিহ্নিত অপরাধীদের মিলন ঘটায় এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। গরুচুরি-ছিনতাই, মোটরসাইকেল ছিনতাই ব্যাপকহারে বেড়েছে। কৃষকরা তাদের গো সম্পদ রক্ষায় গোয়াল ঘরে নিদ্রাহীন রাত কাটাচ্ছেন। এ ব্যাপারে কয়েক জুয়াড়ি জানায়, “ভাই আপনারা লিখে কি করবেন? পুলিশ তো ম্যানেজ আছে”।

পাচগাছি ও চতরা ইউপির কয়েকজন সদস্য জুয়া খেলার নেতৃত্ব দিলেও চেয়ারম্যান তোতা বলেন, আমার ইউনিয়নের প্রকাশ্যে কোন জুয়া নেই। উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় জুয়া বন্ধের আলোচনা ও রেজুলেশন হলেও তা বাস্তব রূপ পায় না। এ ব্যাপারে পীরগঞ্জ থানার ওসির বক্তব্য-”আমার উপজেলায় কোথাও জুয়া খেলা চলে না। তবে উপজেলার সীমান্তে এরকম ঘটনা মাঝে মধ্যে ঘটতে পারে। এজন্য আমরা তৎপর রয়েছি।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful