Templates by BIGtheme NET
আজ- বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২০ :: ১৬ আশ্বিন ১৪২৭ :: সময়- ১২ : ১৬ পুর্বাহ্ন
Home / টপ নিউজ / সুবিধা বঞ্চিত আদিবাসী এবং সুবিধাবাদী গোষ্ঠী

সুবিধা বঞ্চিত আদিবাসী এবং সুবিধাবাদী গোষ্ঠী

বিভূতি ভূষণ মাহাতো

বাংলার সংস্কৃতিতে আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীগুলোর অবদান অপরিসীম। আদিবাসী সংস্কৃতি বাংলা সংস্কৃতির সাথে মিশে বাংলার সংস্কৃতিকে করেছে বৈচিত্র্যপূর্ণ ও সমৃদ্ধশালী। বাংলাদেশে প্রায় ৫৬ টিরও বেশি আদিবাসী জাতিগোষ্ঠী বসবাস করে। প্রত্যেকের আলাদা আলাদা নিজস্ব ভাষা, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, কৃষ্টি ও সামাজিক ব্যবস্থা ও বিধান রয়েছে। কিন্তু এখনো মেলেনি সকল আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর ”আদিবাসী” হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি বা মর্যাদা। বরঞ্চ আদিবাসীদের পরিণত করা হচ্ছে দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিকে। নামকরণও করা হচ্ছে নতুন করে।

পূর্ববঙ্গ রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন,১৯৫০ (East Bengal State Acquisition and Tenancy Act,1950) এবং রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব (সংশোধিত) আইন, ২০০৪ (The State Acquisition and Tenancy (Amendment)Act, 2004) এ আদিবাসীদের Aboriginal’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এখন আদিবাসীদের বানানো হচ্ছে ”ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী।” কিন্তু বাংলার আদিবাসী জনগণ এটি কখনও মেনে নেয়নি এবং মেনে নেবেও না।কারো নাম কেউ খেয়াল খুশিমতো পরিবর্তন করবে আর সেটা কি সে মেনে নেবে? কখনো না। আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর সংখ্যা নির্ণয় নিয়েও চলছে গড়িমসি। “বাংলাদেশে কোনো আদিবাসী নাই” – এ কথাও বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে।

২০১০ সালে “জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০” প্রণয়ন করে। জাতীয় শিক্ষানীতিতে আদিবাসীদের “আদিবাসী” উল্লেখ করে আদিবাসী শিশুদের শিক্ষার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু সরকার ২০১০ সালেই “ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক বিল-২০১০” নামে একটি আইন পাশ করে। এই আইনে সরকার আদিবাসীদেরকে ”ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী” বলছে। আবার এই একই আইনে আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর সংখ্যা কমিয়ে দেখানো হয়েছে। তালিকাভুক্ত করা হয়েছে মাত্র ২৭ টি জাতিগোষ্ঠীকে। এই আইনে বাদ পড়ে গেছে অনেক প্রকৃত আদিবাসী। জাতিগোষ্ঠী হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে আদিবাসীদের গোত্রগুলোকে এবং অ-আদিবাসীকে। বাদপড়া আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর অধিকাংশই উত্তরবঙ্গের আদিবাসী জাতিগোষ্ঠী। বাদপড়া আদিবাসী সম্প্রদায়সমূহ- সিং, মাহাতো, রবিদাস, মালো, মাহালী, রাজোয়ার, কর্মকার(লহরা), কোলকামার, তেলী, পাটনী,বেদিয়া, ভুইমালি, তুরি, বেদিয়াসহ আরো অনেক। তালিকাভুক্তি থেকে বাদ পড়ার কারণে এই সকল জাতিগোষ্ঠীর জনগণ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। এর ভুক্তভোগী হচ্ছে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা। কারণ তারা জেলা প্রশাসকের নিকট থেকে আদিবাসী প্রত্যয়ন নিতে পারছে না এবং কোন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিক্যাল কলেজ এবং কলেজসমূহ) ভর্তির সুযোগ পাচ্ছে না। এবং চাকুরী ক্ষেত্রেও কোটার সুযোগ পাচ্ছে না। এমনকি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে ভর্তি ও সরকারী চাকুরীতে কোটার যথাযথ সংরক্ষণ ও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না। ফলে সকল আদিবাসী জনগণ সুবিধা বঞ্চিত হচ্ছে।

যে সম্প্রদায়ের জনগণ নিজেদের আদিবাসী বলে স্বীকার করেনা সরকার তাদের গেজেট-ভুক্ত করেছে। এর ফলে তারা আদিবাসীদের বিভিন্ন সুযোগ সুবিধাগুলো গ্রহণ করছে। এতে প্রকৃত আদিবাসীরা সুবিধা বঞ্চিত হচ্ছে। যাদের নিজস্ব কোন ভাষা, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, কৃষ্টি ও সামাজিক ব্যবস্থা ও বিধান নাই তবুও সরকার তাদেরকে আদিবাসী বলছে।

উত্তরাঞ্চলের “বর্মণ” সম্প্রদায়ের জনগণ নিজেদেরকে আদিবাসী হিসেবে কখনো স্বীকার করে না। তাদের নিজস্ব ভাষা, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, কৃষ্টি ও সামাজিক ব্যবস্থা ও বিধান বলতে কিছুই নেই। কিন্তু তারা আজ আদিবাসী কোটার সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি কিংবা সরকারী চাকুরীতে ঢুকে যাচ্ছে।
তাই সরকারকে বলতে চাই যে আদিবাসীদের “আদিবাসী” হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে সকল প্রকৃত আদিবাসীদের তালিকাভুক্ত করা হোক এবং সুবিধাবাদী অ-আদিবাসীদের তালিকা থেকে বাদ দিতে হবে।

লেখক: আহ্বায়ক, আদিবাসী ছাত্র পরিষদ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর এবং সহ-সভাপতি, আদিবাসী ছাত্র পরিষদ, কেন্দ্রীয় কমিটি।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful