Templates by BIGtheme NET
আজ- বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২০ :: ১৫ আশ্বিন ১৪২৭ :: সময়- ৮ : ৪২ পুর্বাহ্ন
Home / টপ নিউজ / উত্তরাঞ্চলে আলু রফতানী করে ৪শ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব

উত্তরাঞ্চলে আলু রফতানী করে ৪শ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব

নিউজ ডেস্ক: রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে উত্তরাঞ্চলের উৎপাদিত আলু মধ্যপ্রাচ্যসহ অন্যান্য দেশে রপ্তানির বিষয়টি চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
আলু রপ্তানিতে সরকার ১০ শতাংশ ভর্তুকি দিলেও এই টাকা তুলতে ৫ শতাংশ দিতে হচ্ছে ঘুষ। পরিবহন খরচও বেড়েছে দ্বিগুণ। সব মিলিয়ে দেখা গেছে এ অঞ্চলের আলু চাষি ও ব্যবসায়ীদের শনির দশা কাটছে না। উত্তরাঞ্চলে আলু রফতানী করে ৩শ ৫০ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব।
আলু সংরক্ষনের সমস্য ও কৃষকের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ার এ অবস্থা থেকে উত্তরনের জন্যই বিদেশে আলু রপ্তানি কারক কৃষক এবং রপ্তানি কারকদের আশান্বিত করেছিল। এরই মধ্যে এ অঞ্চল থেকে আড়াই লাখ মেট্রিক টন আলু রপ্তানী হয়েছে।
আরো ২০ লাখ মেট্রিক টন আলুর চাহিদা রয়েছে। এসব আলু দেশের গন্ডি পেরিয়ে মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, রাশিয়া এবং সৌদি আরবের বাজারে বিক্রি হচ্ছে। ওইসব দেশের চিপস কোম্পা‌নীগুলো রপ্তানিকৃত আলু কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করে থাকে।
চট্টগ্রাম, বগুড়াসহ বেশ কয়েকটি এলাকার রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান আলু রপ্তানি করে আসছে। চাহিদা অনুযায়ী মান সম্প‌ন্ন আলু রপ্তানি করা গেলে আগামী ২ মাসে প্রায় ৩শ ৫০ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব বলে সূত্রে জানা গেছে।
কিন্তু সেই আশায় বাধ সেধেছে চলমান রাজনৈতক অস্থিরতা। চট্টগ্রাম বন্দরে আলু সিপমেন্ট করতে গিয়ে থাদের আতংকে থাকতে হচ্ছে। হরতালসহ বিভিন্ন কারনে সময়মত আলু রপ্তানি করা যাচ্ছেনা। ফলে বিদেশিরা বাংলাদেশি রপ্তানিকারদের চুক্তি বাতিল করে পাকিস্তানি ও ভারতীয় আলুর দিকে ঝুকে পড়ছে। ফলে প্রচুর সম্ভাবনা থাকা স্বত্বেও আলু রপ্তানি হুমকির মুখে পড়েছে।
অপর দিকে পরিবহন ভাড়াও হয়েছে দ্বিগুণ। দু বছর আগে চট্টগ্রামে এক ট্রাক আলু পাঠাতে ভাড়া লাগতো ১৬ থেকে ১৮ হাজার টাকা । এখন তা বেড়ে গিয়ে হয়েছে ৩২ থেকে ৩৫ হাজার টাকা।
সরকারের সঠিক মনিটরিং ও আলু রপ্তানি প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকলে তারা আলুর ন্যায্য মুল্য পাবেন। প্রচুর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং আলু চাষে উৎসাহিত হবেন কৃষকরা। এবার উত্তরাঞ্চলে আলুর আবাদ হয়েছে প্রায় সোয়া ৩ লাখ হেক্টরে। এর মধ্যে রংপুর বিভাগে এবার ১ লাখ ৬৫ হাজার ৮শ ২৯হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ হয়েছে। উৎপাদন হয়েছে প্রতি হেক্টরে ১৮ দশমিক ৪ মেট্রিক টন।
জানা গেছে, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, রাশিয়া এবং সৌদি আরবের রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুড়ান্ত আলাপের পর রংপুর, বগুড়া, রাজশাহী,ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, নীলফামারী, লালমনিরহাটসহ আশপাশের জেলা থেকে আলু ক্রয় করে প্রক্রিয়াজাতের মাধ্যমে তা পাঠানো শুরু হয়েছে।
এইসব জেলা থেকে প্রায় এ পর্যন্ত আড়াই লাখ মেট্রিক টন বিভিন্ন জাতের আলু রপ্তানি করা হয়েছে মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও মধ্যপ্রাচ্যের সৌদি আরবে। রপ্তানিকারকরা পটেটো মেস ব্যাগে ৪ কেজি, ৫ কেজি, ১০ কেজি ও ২০ কেজি করে ১’শ গ্রাম থেকে ২’শ ৫০ গ্রাম ওজনের গ্রানুলা জাতের আলু প্যাকেট বন্দী করে চট্টগ্রাম নৌপথের মাধ্যমে বিদেশের বাজারে রপ্তানি করছে।
মালয়েশিয়ার বাজারে প্রতি টন প্রায় ৩’শ মার্কিন ডলার বিক্রি হয়। ঢাকা, নারায়নগঞ্জ ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান এ অঞ্চলের বিভিন্ন এজেন্টদের মাধ্যমে রংপুরের পাগলাপীর, ধনতোলা, তপোধন, মাহিগঞ্জ, পীরগাছা, গঙ্গাচড়া, মিঠাপুকুর এলাকায় ভেন্যু করে আলু সংগ্রহ ও পরিস্কার করে প্যাকেটজাত করছে।
পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ, নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ, জলঢাকা, ডিমলা, দিনাজপুরের বীরগঞ্জ, চিরিরবন্দর, সেতাবগঞ্জ, কুড়িগ্রামের কাঁঠালবাড়ি বগুড়া, রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকাতেও একইভাবে কাজ চলছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
রংপুরের বাঁধন এগ্রো ট্রেডিং কর্পোরেশনের ম্যানেজিং পার্টনার দুলাল রায় ও আনোয়ার হোসেন জানান,
১৫ দিনে তারা রংপুর থেকে প্রা দেড়শ মেট্রিক গ্রানুলা জাতের বড় সাইজের নিখুঁত আলু ঢাকার মিয়ামি ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী সুফিয়ান আহমেদের মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় রপ্তানি করেছেন।
আরো প্রায় ৪’শ মেট্রিক টন আলু রপ্তানির অর্ডার তাদের হাতে এসে পৌঁছেছে। তারা জানান, উত্তরাঞ্চলের প্রায় ৫০/৬০ জন ব্যবসায়ী একইভাবে গ্রানুলা জাতের আলু প্যাকেট জাত করে বিদেশের বাজারে পাঠাচ্ছেন। তাদের মতে, তাদের কাছে আগামী এক মাসে আরও দেড় হাজার মেট্রিক টন আলুর অর্ডার আসতে পারে। রপ্তানীকারকদের আরো অভিযোগ, সরকার বিদেশে আলু রপ্তানিতে ১০ শতাংশ ভর্তুকি দিচ্ছে।
এর এই টাকার অর্ধেক ঘুষ না দিলে টাকা পাওয়া যায়না। তার ভতুকি ২০ শতাংশ করার দাবি জানান। তারা আরো অভিযোগ করেন, যে ব্যাগে করে আলু রপ্তানি করা হচ্ছে সেই পিপি ওভেন মেস ব্যাগের সরবরাহ একেবারে কম। তাই মাঝে মধ্যে তারা ব্যাগ সংকটের কারণে অর্ডার নিতে পারছেন না। তাই তারা এ ব্যাপারে সরকারের আশু সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।
রংপুর মহানগরীর এজেন্ট টুলু মিয়া, গঙ্গাচড়ার এজেন্ট বিটু সরকার, তপোধনের এজেন্ট রিপন হোসেন, তারাগঞ্জের এজেন্ট রুবেল মিয়া, নাল্টু মৃধা, হাজীরহাটের এজেন্ট আব্দুর রাজ্জাক জানান, তারা সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে গ্রানুলা জাতের ২’শ থেকে ৩শ গ্রাম ওজনের আলু কিনে তা ভালোভাবে বাছাই করে বৈদ্যুতিক পাখা ও সুতি কাপড় দিয়ে নিখুঁতভাবে পরিস্কার করেন। এরপর পটেটো মেস ব্যাগে ৪ কেজি ওজনের প্যাকেটজাত করে ট্রাক যোগে তারা চট্টগ্রাম পর্যন্ত পৌঁছান।
ঢাকার রিফাত এন্টারপ্রাইজের ম্যানেজিং ডাইরেক্টর মুন্নী জানান, রংপুর অঞ্চলের বিভিন্ন আলু ব্যবসায়ীর মাধ্যমে ২০দিনে প্রায় ৫’শ মেট্রিক টন গ্রানুলা জাতের আলু ক্রয় করে মালয়েশিয়াতে রপ্তানি করেছেন। আগামী এক মাসে আরো প্রায় ১ হাজার মেট্রিক টন আলু রপ্তানি করবেন বলেও জানান তিনি।
রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রামের সায়েম এ্যান্ড ব্রার্দাসের স্বত্ত্বাধিকারী মজিবর রহমান জানান, যে ব্যাগে করে আলু রপ্তানি করা হচ্ছে, দেশে সেই পিপি ওভেন মেস ব্যাগের সরবরাহ একেবারে কম। তাই মাঝে মধ্যে তারা ব্যাগ সংকটের কারনে অর্ডার নিতে পারছেন না। তিনি আরও বলেন, সামুদ্রিক জাহাজের শিডিউল কম পাওয়ায় আলু রপ্তানিতে সমস্যা হচ্ছে।
এছাড়া পরিবহন ভাড়া দফায় দফায় বাড়ানোর ফলে আমরা আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। আলু রপ্তানির সার্বিক বিষয় নিয়ে সরকারের সুষ্ঠু নীতিমালা প্রণয়ন করে এ সমস্যা দূর করলেই বাংলাদেশ থেকে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে আলু রপ্তানি করে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হবে। তিনি এ ব্যাপারে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।
রংপুর চেম্বারের প্রেসিডেন্ট মোছাদ্দেক হোসেন বাবলু জানান, স্থানীয় বাজারে আলুর দাম না থাকায় এঅবস্থা থেকে উত্তরণ ও চাষীদের রক্ষা করতে মালয়েশিয়া, শ্রীলংকা, সিঙ্গাপুর ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে আলু রপ্তানি হচ্ছে। সংরক্ষণ করতে না পারা আলু দ্রুত বিদেশে পাঠানোর জন্য সরকারের আলু সম্প‌র্কিত উপদেষ্টা পরিষদকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য অনুরোধ জানান ।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful