আর্কাইভ  মঙ্গলবার ● ৩০ নভেম্বর ২০২১ ● ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮
আর্কাইভ   মঙ্গলবার ● ৩০ নভেম্বর ২০২১

জিয়া হায়দার

বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০১৫, দুপুর ০১:৩২

ডেস্ক : নাট্য ব্যক্তিত্ব, কবি ও শিক্ষক জিয়া হায়দার ২০০৮ সালের এই দিনে (২ সেপ্টেম্বর) মারা যান। তিনি নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। পাঁচ খণ্ডে লিখেছেন থিয়েটারের কথা। নাটককে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে রেখেছেন বিশেষ অবদান। জিয়া হায়দার ১৯৩৬ সালের ১৮ নভেম্বর পাবনার দোহারপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। হাকিমউদ্দিন শেখ ও রহিমা খাতুনের পাঁচ ছেলে ও তিন মেয়ের মধ্যে তিনি বড়। লেখাপড়া শুরু করেন বাবারই প্রতিষ্ঠিত আরিফপুর প্রাথমিক স্কুলে। এখানে দ্বিতীয় শ্রেণী পর্যন্ত পড়ে চলে যান পাবনা জেলা স্কুলে। ১৯৫২ সালে গোপালচন্দ্র ইনস্টিটিউশন থেকে মাধ্যমিক পাস করেন। ১৯৫৬ সালে পাবনা এডওয়ার্ড কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট ও ১৯৫৮ সালে রাজশাহী কলেজ থেকে বাংলায় অনার্স ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৬১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। জিয়া হায়দার প্রথমে কিছুদিন কাজ করেন জনপ্রিয় সাপ্তাহিক চিত্রালিতে। মাস্টার্সের ফল বেরুবার আগেই শিক্ষকতার চাকরি নিয়ে চলে যান তোলারাম কলেজে। মাঝে কিছুদিন কাজ করেন বাংলা একাডেমিতে। তারপর পাকিস্তান টেলিভিশনে। ১৯৬৮ সালে বৃত্তি নিয়ে নাটক নিয়ে পড়তে যান যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই বিশ্ববিদ্যালয়ে। পরে ইংল্যান্ডের বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘সার্টিফিকেট ইন শেক্সপিয়ার থিয়েটার’ ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৭০ সালের ডিসেম্বর মাসে যোগ দেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগে। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার সময় এবং পরে এশিয়া ইউরোপ আমেরিকাসহ সারা পৃথিবী চষে বেড়িয়েছেন নাটকের প্রয়োজনে। বন্ধুত্ব গড়ে তুলেছিলেন বিশ্বের নামি-দামি নাট্যজনের সঙ্গে। ১৯৭১ সালের মার্চ মাসে উপাচার্য আজিজুর রহমান মল্লিকের পরামর্শে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষকদের এক জরুরি বৈঠক ডাকা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে ছিল কাউন্সিল অব সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ। সেখানকার ল্যাবরেটরিতে হাত বোমা, গ্রেনেড তৈরির প্রস্তুতি নেওয়া হয়। ২৩ মার্চ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক ও সাধারণ জনতার প্যারেড গ্রাউন্ডে এক বিশাল জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। জিয়া হায়দারও সেই সভায় উপস্থিত ছিলেন। সেই সভাতে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। মুক্তিযুদ্ধের সময়ে ফিরে আসেন ঢাকায়। মুক্তিযোদ্ধাদের যথাসম্ভব সাহায্য করেন। জিয়া হায়দার কলেজে ভর্তি হয়েই জড়িয়ে পড়েন ছাত্র আন্দোলনে। রাজনৈতিক পরিমণ্ডলের লোকজন ছাড়াও গল্প-কবিতা লেখার সুবাদে পরিচিতের সংখ্যা বাড়ে। তখন ঢাকা থেকে প্রকাশিত পত্র-পত্রিকায় তার লেখা ছাপা হতো। এভাবে রাজশাহী থাকাকালে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। তিনিসহ কবি ও সাহিত্যিক জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী, মুস্তাফা নুরউল ইসলাম, কবি মযহারুল ইসলাম, অধ্যাপক সালাউদ্দিন আহমদ, অধ্যাপক বদরুদ্দীন উমর, অধ্যাপক মশাররফ হোসেন, হাসান আজিজুল হক, আবদুল হাফিজ, আলী আনোয়ার সবাই তখন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিল্প-সাহিত্যের সামনের সারিতে ছিলেন। জিয়া হায়দারের অসংখ্য বই প্রকাশিত রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- কবিতা : একতারাতে কান্না (১৯৬৩), কৌটার ইচ্ছেগুলো (১৯৬৪), দূর থেকে দেখা (১৯৭৭), আমার পলাতক ছায়া (১৯৮২), লোকটি ও তার পেছনের মানুষেরা, শ্রেষ্ঠ কবিতা ও ভালবাসা ভালবাসা। নাটক : শুভ্রা সুন্দর কল্যাণী আনন্দ (১৯৭০), এলেবেলে, সাদা গোলাপে আগুন ও পংকজ বিভাস (১৯৮২)। রূপান্তরিত নাটক : প্রজাপতি নির্বন্ধ, তাইরে নাইরে না, উন্মাদ সাক্ষাৎকার ও মুক্তি মুক্তি। অনুদিত নাটক : দ্বার রুদ্ধ, ডক্টর ফস্টাস ও এ্যান্টিগানে। প্রবন্ধ : নাট্য বিষয়ক নিবন্ধ, থিয়েটারের কথা (১ম-৫ম খণ্ড), বাংলাদেশের থিয়েটার ও অন্যান্য রচনা, স্ট্যানিসলাভস্কি ও তার অভিনয় তত্ত্ব, নাট্যকলার বিভিন্ন ইজম ও এপিক থিয়েটার এবং বিশ্বনাটক।

মন্তব্য করুন


Link copied