Templates by BIGtheme NET
আজ- শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০ :: ১১ আশ্বিন ১৪২৭ :: সময়- ১২ : ৩৯ পুর্বাহ্ন
Home / টপ নিউজ / পুকুর খননকালে পাওয়া সাড়ে সাত কেজি স্বর্ণের মধ্যে থানায় জমা হয়েছে সাড়ে ১৩ আনা

পুকুর খননকালে পাওয়া সাড়ে সাত কেজি স্বর্ণের মধ্যে থানায় জমা হয়েছে সাড়ে ১৩ আনা

স্টাফ রিপোর্টার: রংপুরের বদরগঞ্জে পুকুর খননকালে পাওয়া সাড়ে সাত কেজি স্বর্ণের মধ্যে থানায় জমা হয়েছে মাত্র সাড়ে ১৩ আনা স্বর্ণ। স্বর্ণের লোভে প্রভাবশালীরা মাটিকাটা শ্রমিকদের তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। ফলে প্রাণভয়ে পরিবারসহ বাড়ি ছেড়েছে ৪ শ্রমিক। বর্তমানে তাদের বাড়িতে তালা ঝুলছে। বরাবরের ন্যায় পুলিশ বলেই চলেছে এটা প্রত্নতাত্তি্বক অধিদফতরের ব্যাপার। কেউ যদি স্বেচ্ছায় স্বর্ণ জমা দেয় তাহলে কোন কথা নেই। তবে কেউ আত্মসাতের চেষ্টা করলে তাকে গ্রেফতারের পাশাপাশি আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সরেজমিন লোহানীপাড়া ইউনিয়নের মহদীপুর এলাকা পরিদর্শনকালে দেখা গেছে মাটিকাটা শ্রমিক শরিফুল, মোফাজ্জল, তৌহিদুল, কামরুলের বাড়ীতে তালা ঝুলছে। কথা হয় কামরুলের দাদী নিলুফা বেগমের সাথে। তিনি কামরুলের স্বর্ণ পাওয়ার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, মোস্তফা নামে এক ব্যক্তি পরীক্ষা করার নামে একটি স্বর্ণের বিস্কুট হাতিয়ে নেয়। এছাড়া প্রভাবশালী সাবেক ইউপি মেম্বার ছরিয়াদুর রহমানের নেতৃত্বে এলাকার নজরুল, জিয়ারুল, রবিউল, আশরাফুল স্বর্ণের ভাগ চেয়ে প্রতিনিয়ত কামরুলকে হুমকি দিচ্ছে। একারণে প্রাণ ভয়ে কামরুল ও তার বাবা আজহারুল বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। তারা কোথায় গেছেন সেটা তিনি জানেন না বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। মাটি কাটা শ্রমিক শরিফুল, তৌহিদুল ও মোফাজ্জলের বাড়ীতে কাউকে পাওয়া যায়নি। তাদের বাড়ীতে তালা ঝুলছে।

এলাকাবাসী মিঠুন কুমার ও রবি চন্দ্র জানান, স্বর্ণ পাওয়ার ঘটনা পুরোপুরি সত্য। তবে শ্রমিকরা পুকুর মালিককে কিছুই দেয়নি বলে তাদের দাবী। শতবর্ষী এক নারী সত্যযুগের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, লোকজন সেসময় বিয়ে-শাদীতে স্বর্ণ চেয়ে সেখানে গিয়ে পূজা অর্চনা করলে তাদের মনোবাসনা পূর্ণ হতো। মানতকারীরা স্বর্ণ পেতেন। আর সেই স্বর্ণ দিয়ে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হত। সেকারণে ওই জায়গাটির নাম ‘সোনাডাঙ্গা’ হয়েছে বলে শতবর্ষী ওই নারীর দাবি। এদিকে সাবেক ইউপি মেম্বার ছরিয়াদুর রহমানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও বাড়িতে না থাকায় তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

তবে পুকুর মালিক কমল চন্দ্রের মা জীতেন বালা কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, সেখানে দেব-দেবীদের স্বর্ণ এবং টাকা লুক্কায়িত রয়েছে এটা সবারই জানা। একারণে আমরা বংশানুক্রমে ওই জায়গা পাহারা দিয়ে আসছি। কিন্তু লোকজন সেই লুক্কায়িত সম্পদ আমার সন্তানদের ভোগ করতে দিলনা। তারা আমার সন্তানদের সাথে বেঈমানী করেছে।

অপরদিকে এলাকা ঘুরে পাওয়া গেছে আরেক চাঞ্চল্যকর তথ্য। মধ্যপাড়া কঠিন শীলা খনির এক শ্রমিক সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে মাটিকাটা শ্রমিকদের কাছ থেকে একাই ৫টি স্বর্ণের বিস্কুট হাতিয়ে নেন। বিষয়টি আাঁচ করতে পেরে তার ছোটভাই হুমকি-ধমকি দিয়ে আরো ৪টি স্বর্ণের বিস্কুট হাতিয়ে নেয় বলে এলাকার লোকজন দাবি করেছেন।

ওসি নূরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, এটা প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের ব্যাপার। কেউ যদি স্বেচ্ছায় স্বর্ণ জমা দেয় তাহলে কোন কথা নেই। তবে কেউ আত্মসাতের চেষ্টা করলে তাকে গ্রেফতারসহ তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার খন্দকার ইসতিয়াক আহমেদ বলেন, লোকজনকে সচেতন করতে পুনরায় এলাকায় যাওয়ার চিন্তা করছি। যাতে করে রাষ্ট্রীয় সম্পদ রাষ্ট্রের কোষাগারে জমা হয়।

উল্লেখ্য, লোহানীপাড়া ইউনিয়নের মহদীপুর এলাকার কমল চন্দ্র বাড়ীর পাশে পুকুর খনন শুরু করেন। পুকুর খননকালে মাটিকাটা শ্রমিকরা কলস ভর্তি ৩৭টি স্বর্ণের বিস্কুট পান। প্রতিটি স্বর্ণের বিস্কুটের ওজন ২০০ গ্রাম করে মোট ৭কেজি ৪০০ গ্রাম বলে পুকুর মালিক জানিয়েছেন। ঘটনাটি ফাঁস হলে শ্রমিকরা আত্মগোপন করে। তবে এখন পর্যন্ত পুলিশের কাছে বিভিন্নভাবে সাড়ে ১৩ আনা স্বর্ণ জমা হয়েছে বলে থানা সূত্রে জানা গেছে।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful