Templates by BIGtheme NET
আজ- বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২০ :: ১৬ আশ্বিন ১৪২৭ :: সময়- ৩ : ৫২ পুর্বাহ্ন
Home / টপ নিউজ / রংপুর-৪: নড়েচড়ে বসেছে ভরসা পরিবার;আশাবাদী জাপা; হতাশা আ’লীগে

রংপুর-৪: নড়েচড়ে বসেছে ভরসা পরিবার;আশাবাদী জাপা; হতাশা আ’লীগে

সাকেুল ইসলাম রুবেল: আলোচিত আসন রংপুর-৪ (কাউনিয়া ও পীরগাছা)। কাউনিয়া উপজেলার ১টি পৌরসভাসহ ৬টি ইউনিয়ন ও পীরগাছা উপজেলার ৯ ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত রংপুর-৪ আসন। এই আসনটি বিভিন্ন দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। এ আসনে বিজয়ী সংসদ সদস্যরা রংপুর জেলাসহ জেলার সবকয়টি উপজেলায় দলীয় কর্মকা- পরিচালনা করে থাকেন। তাই বর্তমান সরকারের মেয়াদ ১৫ মাস বাকি থাকতেই জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে এ দুই উপজেলায় শুরু হয়েছে নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা প্রাপ্তির হিসাব-নিকাশ ও মান-অভিমানের পালা। এখানে বড় দুই দলের মধ্যে আওয়ামী লীগের বর্তমান এমপি এলাকায় কম সময় দেয়া এবং বিএনপির হাল ধরতে রয়েছে যোগ্য নেতৃত্বের অভাব। আর এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে জাতীয় পার্টি তার হারানো আসনটি উদ্ধারে আশাবাদী হয়ে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছে।

চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ২ ভাইয়ের আসন এটি। জাতীয় নির্বাচনে প্রতিবার এ আসনে কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা রহিম উদ্দিন ভরসা, তারই ছোট ভাই জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা করিম উদ্দিন ভরসা মুখোমুখি হন। এছাড়া, এই লড়াইয়ে যুক্ত হন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা টিপু মুনশিও। আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যে নড়েচড়ে বসেছে ভরসা পরিবার। গত নির্বাচনে আসনটি চলে যায় আওয়ামী লীগের দখলে। আর তাই আগামী নির্বাচনে জাপা’র দুর্গ এ আসন পুনরুদ্ধারে মরিয়া জাতীয় পার্টি।

ইতিমধ্যে জাপা নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছে। ঘরে বসে নেই আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি। এ দু’দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরাও তাদের গণসংযোগ ও কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন। পীরগাছা উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও কাউনিয়া উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন এবং হারাগাছ পৌরসভা নিয়ে রংপুর-৪ আসন।

গত নির্বাচনে মহাজোটের দু’প্রার্থী আওয়ামী লীগের টিপু মুনশি ও জাতীয় পার্টির করিম উদ্দিন ভরসার মধ্যে মূল লড়াই হয়। টিপু মুনশি ১ লাখ ২০ হাজার ৪শ’ ৫১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় পার্টির করিম উদ্দিন ভরসা পান ১ লাখ ৫ হাজার ১শ’ ৯২ ভোট। চারদলীয় জোট বিএনপি প্রার্থী রহিম উদ্দিন ভরসা ৬৪ হাজার ৮শ’ ৯৪ ভোট পেয়ে তৃতীয় অবস্থানে থাকেন।

আগামী নির্বাচন নিয়ে রংপুর-৪ আসনের মনোনয়নকে ঘিরে জাতীয় পার্টি, বিএনপি ও আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থীর দ্বন্দ্ব-বিরোধ, লবিং-গ্রুপিং কঠিন আকার ধারণ করেছে। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সম্প্রতি রংপুর সফরে এসে কাউনিয়ার এক জনসভায় জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে করিম উদ্দিন ভরসার নাম ঘোষণা করেন। এতে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন পীরগাছা উপজেলা চেয়ারম্যান শাহ মাহবুবার রহমান ও তার সমর্থকরা। তারা পরদিন এইচ এম এরশাদের পল্লীনিবাস বাস ভবনে গিয়ে করিম উদ্দিন ভরসার নাম প্রত্যাহার করে নির্বাচনে শাহ মাহবুবার রহমানকে মনোনয়ন দেয়ার দাবি জানান। এ সময় তারা বিক্ষোভ সহ স্লোগান শুরু করলে সেখানে এরশাদের উপস্থিতিতে করিম উদ্দিন ভরসার সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষ বেধে যায়। এতে দু’পক্ষের প্রায় ২০ জন আহত হয়। এ ঘটনায় দলের চেয়ারম্যান ক্ষুব্ধ হয়ে ঢাকায় ফিরে যান। এরপর থেকে করিম উদ্দিন ভরসা ও মাহবুবার রহমান পৃথক ভাবে তাদের গণসংযোগ ও প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

ওদিকে আওয়ামী লীগের টিপু মুনশির পক্ষে পীরগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আব্দুল হাকিম সরদার ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ কাজ করছেন। অপরদিকে কাউনিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি হারাগাছ পৌর চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম মায়া মনোনয়ন পাক এটা চাইছেন কাউনিয়া উপজেলার সাধারণ সম্পাদক হান্নানসহ হারাগাছ এলাকাবাসী।

এ ছাড়া জেলা আ’লীগের সদস্য ও জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক এবং বাংলাদেশ সমবায় ব্যাংকের পরিচালক মোস্তফা সেলিম বেঙ্গল মনোনয়ন প্রত্যাশি বলে জানাগেছে।

এছাড়া, বিএনপি’র প্রবীণ নেতা রহিম উদ্দিন ভরসা বয়সের ভারে ন্যুব্জ হয়ে পড়ায় তিনি চাইছেন আগামীতে পীরগাছা-কাউনিয়ার হাল ধরুক তার পুত্র এমদাদুল হক ভরসা। জাতীয় পার্টির দুর্গে বিএনপির প্রার্থী পরাজিত হলেও প্রতিবারেই তাদের ভোট বেড়েছে। সাবেক এমপি এলাকার নানা উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন। তিনি দীর্ঘদিন জেলা ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি পদে থেকে সাংগঠনিক কার্যক্রমকে শক্তিশালী করেছেন। কাউনিয়া উপজেলার বিএনপির এক নেতা বলেন, সাবেক এমপি আলহাজ রহিম উদ্দিন ভরসার পুত্র তরুণ নেতা আলহাজ এমদাদুল হক ভরসা ২০০৬ থেকে উপজেলা শাখার সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছেন এবং তিনি আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশী। কিন্তু তরুণ এ নেতা ব্যবসায়িক কাজে ব্যস্ত থাকার কারণে দলীয় কর্মকান্ডে ও মাঠ পর্যায়ে সময় দিতে না পাড়ায় দলের নেতাকর্মীরা হতাশ। এদিকে আরো নতুন নেতার নাম শোনা গেলেও তাদের মাঠে দলীয় কার্যক্রম নেই। ফলে বর্তমানে যোগ্য নেতৃত্বের সঙ্কট দেখা দিয়েছে। তবে আলহাজ এমদাদুল হক ভরসা তার নেতৃত্বে দল সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের বৈরী আচরণের কারণে মাঠে পর্যায়ে কোনো দলীয় কর্মকান্ডে চালাতে পারি না। ওদিকে পীরগাছা উপজেলার বিএনপি সভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান আফছার আলী ও সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম রাঙ্গা চাইছেন পীরগাছা এলাকার ডক্টর সাহেদ কামাল পাটোয়ারী প্রার্থী হউক। এছাড়া, বিএনপি’র আর এক প্রার্থী কর্নেল (অব.) আবদুল বাতেনের  পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন তার সমর্থকরা। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে এটিএম আজম খান কাজ করে চলেছেন।

বর্তমানে এই আসনে ভোটার সংখ্যা তিন লাখ ৪৬ হাজার ৩৫৬ জন। তার মধ্যে কাউনিয়া উপজেলায় ভোটার সংখ্যা এক লাখ ৪৪ হাজার ৭৬ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ৬৯ হাজার ৫০৬ জন ও মহিলা ভোটার ৭৪ হাজার ৫৭০ জন। পীরগাছা উপজেলায় ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ২ হাজার ২৭৬ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ৯৭ হাজার ৫৯৬ জন ও মহিলা ভোটার এক লাখ ৪ হাজার ৬৮০ জন।
তবে অনুসন্ধানে ও মাঠ পর্যায়ে দলীয় নেতাকর্মী, সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ক্ষমতাসীন দলের এমপির জনপ্রিয়তা হ্রাসের কারণে এ অবস্থায় আওয়ামী লীগের মধ্যে হতাশ আর বিএনপির নেতৃত্ব সঙ্কটের কারণে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন জাতীয় পার্টি।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful