Templates by BIGtheme NET
আজ- সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২০ :: ৬ আশ্বিন ১৪২৭ :: সময়- ৩ : ৪৫ অপরাহ্ন
Home / টপ নিউজ / সংবাদ বিশ্লেষণ: প্রশ্নপত্র ফাঁস ! মূল হোতারা ধরা ছোঁয়ার বাইরে

সংবাদ বিশ্লেষণ: প্রশ্নপত্র ফাঁস ! মূল হোতারা ধরা ছোঁয়ার বাইরে

মুরাদ মাহমুদ, সিইও, উত্তরবাংলা ডটকম

নিয়োগ এবং ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস এখন আর কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এখন এটা নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। যে কোন নিয়োগ বা ভর্তি পরীক্ষায় এখন প্রশ্নপত্র ফাঁসের কথা শোনা যাচ্ছে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় বাতিল হয়ে যাচ্ছে নিয়োগ পরীক্ষা। ফলে আরও বেশী দীর্ঘায়ু হচ্ছে দেশের বেকার সমস্যা। এবং অপচয় হচ্ছে সরকারের অর্থের। সরকার কোন ভাবেই প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা রোধ করতে পারছে না।
যে দেশে মেধার সঠিক মূল্যায়ন হয় না সে দেশের মানুষের কাছে নৈতিকতা আশা করাও উচিত নয়। মেধা দিয়ে চাকরী হয়েছে এমনটা এখন আর খুব বেশী শোনা যায় না। চাকরী নামক দুর্লভ জিনিস টা ধরতে প্রয়োজন মামা, খালু কিংবা টাকা। তাই মানুষ যে কোন কিছুর বিনিময়ে চাকরীর পিছনে ছুটছে। আর এই চাকরী বাণিজ্যের কারণেই নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ যে কোন ভাবে লিখিত পরীক্ষা নামক পুলসিরাত পার হওয়া গেলে পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কারও মাধ্যমে অর্থের বিনিময় হোক আর মামা-খালুর পরিচয়ে হোক চাকরীটা হস্তগত করার সম্ভাবনা থাকে।
শুক্রবার রংপুর পলিটেকনিক কলেজে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা দিতে আসা এক প্রার্থীর (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) সাথে আলাপের এক পর্যায়ে সে জানায় যে, “সকল প্রকার তদবির হয়ে আছে, শুধু লিখিত পরীক্ষায় পাস করলেই চাকরী ফাইনাল।”
এরকম অনেকেই চাকরীর তদবির শেষ করে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। শুধু লিখিত পরীক্ষায় পাস করলেই পরবর্তীতে তদবিরের সুবাধে সব বাঁধা পেড়িয়ে সোনার হরিণ হাতে পাবে। এই যখন আমাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া তখন একজন প্রার্থী যে কোন কিছুর বিনিময়ে লিখিত পরীক্ষায় পাস করতে চাইবে। আর এর অংশ হিসেবেই প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটছে।

অতীতের ঘটনা থেকে এটা স্পষ্ট যে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে সরকার কার্যত কোন ব্যবস্থা নিতে পারেনি। এ ঘটনায় যাদের গ্রেফতার করা হয় তারা অধিকাংশই চাকরীর প্রার্থী। তারা হয়তো সোনার হরিণের আশায় নৈতিকতা বিসর্জন দিয়ে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে প্রশ্নপত্র ক্রয় করেছে। কিন্তু এর নেপথ্য নায়কদের ধরে যথাযথ শাস্তি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। যার ফলে ঘুরে ফিরে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে।

প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে পুঁজি করে একটি চক্র প্রতারণার মাধ্যমে প্রার্থীদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে বলেও শোনা যাচ্ছে। এই চক্র নিজেরা প্রশ্নপত্র তৈরি করে পরীক্ষার আগে প্রার্থীদের কাছে ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র বলে মোটা অংকের টাকা নিয়ে কেটে পরে। পরীক্ষার পর দেখাযায় ঐ প্রশ্নপত্রের সাথে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের কোন মিল নেই। এরকম প্রতারণার ঘটনাও আমাদের দেশে কম নয়। তাই প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুঞ্জন উঠলেই যে তা সঠিক এমনটা ভাবা ঠিক নয়।

প্রশ্নপত্র ছাপা ও কেন্দ্রে সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও বেশী নিরাপদ করা জরুরী। প্রশ্নপত্র তৈরি থেকে শুরু করে কেন্দ্রে পৌঁছানো পর্যন্ত যারা দায়িত্বে আছে তাদের মধ্যে থেকে কেও এ ঘটনার সাথে জড়িত না থাকলে প্রশ্নপত্র ফাঁস কোন ভাবেই সম্ভব নয়। যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের সূত্র ধরে অনুসন্ধান চালালেই বের হয়ে আসবে কে এই মূল হোতা।
এর আগে খাদ্য অধিদপ্তরের প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার পর প্রশ্নপত্র ফাঁসের মূল কারণ খুঁজে বের করে সমাধান না করার ফলেই প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে বলে মানুষ ধারণা করছে।
একের পর এক প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকেও প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা মিডিয়ায় ছবি সহ প্রকাশের পর তারা তদন্তে মাঠে নামে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে তারা কোন পূর্বাভাস দিতে পারছে না।

চাকরী নামক সোনার হরিণের আশায় প্রার্থীরা দীর্ঘ দিন প্রস্তুতি নিয়ে এবং নিয়োগকে ঘিরে গড়ে উঠা কোচিং সেন্টারে টাকার বিনিময়ে কোচিং করে নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেয়। কিন্তু কতিপয় অসাধু চক্রের প্রশ্নপত্র ফাঁসের ফাঁদে পরে তাদের অর্থ, শ্রম ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি পরীক্ষা বাতিল হওয়ায় সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অর্থের অপচয় হচ্ছে।
শুধু নিম্ন পর্যায়ের কয়েক জন কে ধরে শাস্তি দিলেই হবে না। খুঁজে বের করে সমূলে উৎপাটন করতে হবে এই চক্রকে। অন্যথায় এ ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকানো সম্ভব নয়।

 

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful