Templates by BIGtheme NET
আজ- রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০ :: ১২ আশ্বিন ১৪২৭ :: সময়- ৮ : ২৩ অপরাহ্ন
Home / গাইবান্ধা / পহেলা বৈশাখ গাইবান্ধায় মাদক ট্রাজেডী দিবস; ঝড়ে পড়ে শতাধিক তাজা প্রাণ

পহেলা বৈশাখ গাইবান্ধায় মাদক ট্রাজেডী দিবস; ঝড়ে পড়ে শতাধিক তাজা প্রাণ

গাইবান্ধা প্রতিনিধি : পহেলা বৈশাখ ১৪০৫ বাংলা (১৯৯৮ ইং) সাল। নববর্ষকে বরণ করতে গিয়ে বিষাক্ত মাদক সেবনে গাইবান্ধায় শতাধিক তাজা প্রাণ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছিল।
নববর্ষের আনন্দ-উল্লাসে মাতোয়ারা একশ্রেণীর মাদকাসক্ত মানুষ ইথানল মিশ্রিত রেকটিফাইড স্পিরিট পান করে গুলি বিদ্ধ পাখির মত ছটফট করতে করতে এক সময় থেকে গিয়েছিল শতাধিক হৃদয়ের স্পন্দন। সেদিন শোকে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল গাইবান্ধাবাসী। সেদিনের সেই গণমৃত্যুর দৃশ্য মনে হলে এখনো শরীর শিউরে উঠে।

গোটা পৃথিবীর মানুষ নিজ নিজ সংস্কৃতি অনুযায়ী নতুন বছরকে স্বাগত জানিয়ে থাকে। তেমনি ১লা বৈশাখকে স্বাগত জানানোর উল্লাসে মেতে উঠেছিল সারাদেশের মত গাইবান্ধার সর্বস্তরের মানুষ। আর এই সুযোগে এক শ্রেনীর মাদকাসক্ত মানুষ মেতে উঠেছিল  নেশা পান করতে। ঐ নেশার পানিতে মেশানো ছিল বিষাক্ত ইথানল। তারা বোতলের পর বোতল খুলে আনন্দে খাচ্ছিল বিষাক্ত রেকটিফাইড স্পিরিট।

নববর্ষের দ্বি-প্রহর থেকেই শুরু হয় মায়াবী এই দুনিয়া থেকে বিদায়ের পালা। কে কার আগে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করতে পারে এ রকম এক প্রতিযোগীতা। ১লা বৈশাখ থেকে শুরু করে ৩ থেকে ৫ দিনের মধ্যে গাইবান্ধা পৌরসভার এক কমিশনারসহ প্রায় শতাধিক মানুষ মৃত্যুবরণ করে। এর মধ্যে ৮/১০ জন মহিলাও ছিল। এ ছাড়া বিষাক্ত মাদকের বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয় অন্তত ৪ শতাধিক।

এরপর লাশ দাফন নিয়ে শুরু হয় মৌলভীদের ফতোয়াবাজী। এ অবস্থায় অনেকে লাশ নিয়ে অন্যত্র আত্মীয় স্বজনের বাড়ীতে গিয়ে রাতের অন্ধকারে লাশ দাফন করেছে । আর সেদিনের বিষাক্ত মদ পান করে যারা অলৌকিকভাবে বেঁচে রয়েছে তাদের মধ্যে অনেকেই জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে অচল হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে।

ঘটনার দিন থেকে গাইবান্ধাসহ পার্শ্ববর্তী জেলার সরকারী হাসপাতাল ও বিভিন্ন ক্লিনিকে মাদক সেবীদের ভীড় ছিল চোখে পড়ার মত। ঘটনার পূর্বে যারা মাদক দ্রব্য সেবন করেছিল তারাও প্রাণের ভয়ে ভর্তি হয়েছিল হাসপাতাল ও ক্লিনিকে। অনেকে লোক লজ্জার ভয়ে চিকিৎসা নিতে গিয়েছিল দেশের বাইরে।

এ ঘটনার পর পত্র-পত্রিকাসহ বিভিন্ন মিডিয়াতে ফলাও করে খবর প্রকাশিত হয়।  তাৎক্ষনিকভাবে ঢাকা থেকে এসেছিল বিশেষ চিকিৎসক দল। মাদক ট্রাজেডীর পর গাইবান্ধা সদর থানা পুলিশ ট্রাজেডীর মূল নায়ক কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী রবি দাসকে গ্রেফতার করে এবং রহস্যজনক কারণে তাকে ছেড়ে দেয়। সেদিন থেকেই রবি দাস নিখোঁজ। নিমিষেই রবি হাওয়া হয়ে যায়।

গণমৃত্যুর দৃশ্য এবং স্বজনহারাদের আজাহারীতে গাইবান্ধাবাসী উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ আবার রবি দাসকে গ্রেফতার করার জন্য তৎপর হয়ে উঠে। কিন্তু রবি নেই। পুলিশ নিরুপায় হয়ে রবির মালামাল ক্রোকসহ তার স্ত্রী পুত্রকে গ্রেফতার করে।

এ নিয়ে একাধিক মামলা হয়েছিল এবং রবিকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগে তৎকালীন এ.এস.পি প্রণব কুমারকে বাধ্যতামূলক চাকুরী হতে অবসর দেয়া হয়। সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আঃ জোব্বারসহ ৭   পুলিশ কর্মকর্তা চাকুরীচ্যুত হয়।

গাইবান্ধা ট্রাজেডী পরিদর্শন করতে এসেছিলেন তৎকালীন আওয়ামীলীগ সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম। তিনি দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহনের আশ্বাস দিয়েছিলেন।

এ মাদক ট্রাজেডীর দীর্ঘ ১৫ বছর অতিবাহিত হলেও ঘটনার মূল নায়ক রবি এখনো গ্রেফতার হয়নি। অদ্যবধি গাইবান্ধা হয়নি মাদকমুক্ত।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful