Templates by BIGtheme NET
আজ- বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২০ :: ১৬ আশ্বিন ১৪২৭ :: সময়- ৭ : ১২ অপরাহ্ন
Home / টপ নিউজ / আজ ঝাড়ুয়ারবিল-পদ্মপুকুর গণহত্যা দিবস; পাক বাহিনীর নিষ্ঠুরতম অপরাধের সাক্ষী

আজ ঝাড়ুয়ারবিল-পদ্মপুকুর গণহত্যা দিবস; পাক বাহিনীর নিষ্ঠুরতম অপরাধের সাক্ষী

১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল জেলার বদরগঞ্জ উপজেলায় ঝারুয়ারবিল-পদ্মপুকুরে সংঘটিত বর্বরোচিত গণহত্যা আজো মানবতার বিরুদ্ধে পাকিস্তানী দখলদার বাহিনীর নিষ্ঠুরতম অপরাধের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।

সেদিন হানাদার পাকিস্তানী বাহিনী তাদের এদেশীয় দোসর বিহারী, রাজাকার, আলবদর ও আলশামসদের সহযোগিতায় দেড় হাজারেরও বেশি নিরীহ বাঙালীকে নির্মমভাবে হত্যা, বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ, অর্থ-সম্পদ লুটপাট এবং ধর্ষণ ও নির্যাতন চালায়।

এ গনহত্যা এমন এক দিনে সংঘটিত হয় যেদিন প্রায় একইসময়ে মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলার আম বাগানে বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার শপথ গ্রহণ করেন। স্থানটিকে দেশের অস্থায়ী রাজধানী মুজিননগর হিসেবে ঘোষণা করে সেখানে উড়িয়ে দেয়া হয় সবুজের ওপর বাংলাদেশের মানচিত্র সংবলিত পতাকা। বিপুল সংখ্যক দেশী-বিদেশী সাংবাদিক সেদিন জড়ো হয়েছিলেন বাংলাদেশ সরকারের শপথ অনুষ্ঠানের সংবাদ সংগ্রহের জন্য।

একইদিন রংপুর জেলার বদরগঞ্জ উপজেলার ঝাড়ুয়ার বিল ও পদ্মপুকুরে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী, তাদের এদেশীয় দোসর রাজাকার, আলবদর, আলশামস এবং বিহারীদের সাথে নিয়ে নির্বিচারে নারী-শিশুসহ দেড় হাজার নিরীহ বাঙ্গালীকে নৃশংসভাবে হত্যা করে। বিস্তীর্ণ সবুজ ভূমি এবং জলাশয় হাজারো বাঙ্গালীর রক্তে লাল হয়ে যায়।

স্থানীয় প্রবীন ব্যক্তিবর্গ এবং বীর মুক্তিযোদ্ধারা জানান, সেদিন পার্বতীপুর থেকে সকালে একটি রেলগাড়ি এসে দাঁড়ায় স্থানীয় করতোয়া ব্রিজের কাছে। ট্রেন থেকে হানাদারের একটি দল করোতোয়া নদীর ধার দিয়ে অগ্রসর হয় বকশীগঞ্জের দিকে। এরপর ট্রেনটি এগিয়ে আসে রৈরাগীপাড়া রেল ঘুমটির কাছে। মুহূর্তে হানাদারদের অপর দল নেমে পড়ে চৌধুরী পাড়ার রাস্তায়।বদরগঞ্জ রেলস্টেশনের পশ্চিমে এক কিলোমিটার দূরে বৈরাগীপাড়া ঘুমটির কাছে থেকে দক্ষিণে বুজরুক হাজীপুর পর্যন্ত ঘিরে ফেলে রামনাথপুর এবং বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের অসংখ্য গ্রাম, পাড়া ও বসতি। নির্দেশ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় গণহত্যা, ধর্ষণ, লুণ্ঠন এবং অগ্নিসংযোগ।

অপরদিকে খোলাহাটি ষ্টেশনের পূর্বদিকে ট্যাক্সেরহাট হাটের ঘুমটির কাছে দক্ষিনে করতোয়া নদীর গা ঘেঁষে বকসীগঞ্জ পর্যন্ত অর্ধবৃত্তাকারে ঘেরাও করে তারা বুজরুক হাজিপুর, খালিশা হাজিপুর, ঘাটাবিল, রামকৃষ্ণপুর, বাঁশবাড়ী, বানিয়াপাড়া, খোদ্দবাগবার, মাসানডোবাসহ পাশ্ববর্তী এলাকার গ্রামগুলো জ্বালিয়ে দেয় এবং ব্যাপক গণহত্যা, লুন্ঠন ও নারী নির্যাতন চালায়। সেদিনের পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর নারকীয় এ গণহত্যার নেতুত্ব দেয় পাশ্ববর্তী পার্বতীপুরের জল্লাদ নামে খ্যাত বাচ্চু খান ও কামরুজ্জামান। নারী-শিশুরাও রেহাই পায়নি তাদের বর্বরতা থেকে।

কিসামত ঘাটাবিল, কোনাপাড়া, মন্ডলপাড়া, গঁয়দাপাড়া, কুটিরপাড়া, খিয়ারপাড়া, খলিশা হাজিপুর, পাইকাড়পাড়া, তেলীপাড়া, বাজারপাড়া, বানিয়াপাড়া, কামারপাড়া, রামকৃষ্ণপুর, মাসানডোবা, সরকারপাড়া, খিজিরেরপাড়া, মধ্যপাড়া, বালাপাড়া, বিত্তিপাড়া, বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের বুজরুক, বাগবাড়, মন্ডলপাড়া, দোয়ানী হাজিপুর ও সর্দারপাড়া থেকে প্রায় দেড় সহস্রাধিক নারী-পুরুষ-শিশুকে ধরে এনে ঝাড়ুয়ার বিল ও পদ্মপুকুর এলাকায় এ নারকীয় হত্যাকান্ড চলে বিকেল পর্যন্ত ।

বদরগঞ্জের বীর মুক্তিযোদ্ধা মজিবর রহমান মাষ্টার, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও জাসদ নেতা আব্দুস সাত্তার, অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম, অধ্যাপক মেসের উদ্দিন, সিপিবি নেতা কমরেড আলতাফ হোসেন, বিশ্বনাথ সরকার বিটু এবং আরো অনেকে এ গণহত্যার লোমহর্ষক বর্বরতার বর্ণনা দেন।

তারা জানান, দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুরের অবাঙালী (বিহারী থেকে আগত) এবং স্বাধীনতাবিরোধীদের শক্ত ঘাঁটি ছিল। এই ঘাঁটির নেতৃত্বে ছিল বিহারী বাচ্চু খান ও কামরুজ্জামান। তারা পাক হানাদারদের সঙ্গে পার্বতীপুর জংশন থেকে ট্রেনে করে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় অপারেশনে যেত। পাক হানাদাররা গ্রামের পর গ্রাম ঘেরাও করে হত্যা, লুণ্ঠন, নারী নির্যাতন এবং অগ্নিসংযোগ করত। বন্দিশিবিরে ধরে নিয়ে যেত বাঙালি যুবক-যুবতীদের।

তারা জানান, সদিন যেখানে সেখানে মানুষের লাশ পড়ে ছিল। ঘরবাড়িগুলোতে আগুন জ্বলছিল। দু’চারজন বৃদ্ধ মানুষ ছাড়া এলাকায় কাউকে দেখা যায়নি। নরপশুদের তান্ডব লীলায় লাল হয়েছিল সেখানকার বিলের পানি। গুলি এবং বেয়োনেট চার্জ করে হত্যা করা হয় স্বাধীনতাকামী নিরীহ বাঙালিদের। ঝাড়ুয়ার বিল এবং পদ্মপুকুর পাড়ের উপরে ছিল অসংখ্য মানুষের লাশ।

স্থানীয়রা স্বাধীনতার রক্তক্ষয়ী এ স্মৃতিকে চির অম্লান করে রাখতে ঝাড়ুয়ার বিলের জমি অধিগ্রহণ করে সেখানে স্থায়ীভাবে স্মৃতিসৌধ নির্মাণ এবং অনতিবিলম্বে যুদ্ধাপরাধীসহ তাদের দোসর রাজাকার, আলবদর, আল সামস ও স্বাধীনতাবিরোধীদের পূর্ণ তালিকা তৈরী করে তা নতুন প্রজন্মের সামনে প্রকাশের দাবী জানান।

-সংকলিত

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful