Templates by BIGtheme NET
আজ- রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২০ :: ৫ আশ্বিন ১৪২৭ :: সময়- ৮ : ৩৫ অপরাহ্ন
Home / টপ নিউজ / উত্তরাঞ্চলে নদী গুলোর চরাঞ্চলে সারা বছর ধরে সবজি ফলছে

উত্তরাঞ্চলে নদী গুলোর চরাঞ্চলে সারা বছর ধরে সবজি ফলছে

গাইবান্ধা প্রতিনিধি: নদীতে জেগে উঠা চর নিয়ে এক সময় নানা ঘটনা ঘটেছে। কোথাও শক্তির জোরে দখল হয়েছে চর। ঘটেছে হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনাও। তবুও নদীভাঙ্গন ও অন্যান্য কারণে সর্বস্ব হারানো মানুষেরা ঠাঁই নিয়েছে চরাঞ্চলে। তবে বসবাসের সুযোগ পেলেও তাদের জীবন ছিল দুর্বিষহ। জীবিকা অর্জনের সমস্যা ছাড়াও অনেকেই বঞ্চিত ছিল সরকারি-বেসরকারি সেবা থেকে। সেইসব চরের দৃশ্যপট এখন অনেকটাই বদলে গেছে। কর্মচঞ্চল দেখা যাচ্ছে বেশিরভাগ চরেই। ওইসব স্থানে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে নেয়া হচ্ছে বিভিন্ন কর্মসূচি। এরমধ্যে রয়েছে- কর্মসংস্থান ও অবকাঠামো উন্নয়নের প্রকল্প। ফলে চরাঞ্চলে বসবাসরত মানুষের জীবনমান ক্রমশ: উন্নতি হচ্ছে। চর-বাসীদের এমন উন্নয়নে কৃষি-সংশ্লিষ্ট কর্মসূচি বিশেষ ভূমিকা রাখছে।পলিমাটি, বালুচর কিংবা চরের অনাবাদী ভূমি এখন সুষ্ঠুভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। সারা বছরই এখন চরগুলোতে কোনো না কোনো ফসল তথা সবজির আবাদ হচ্ছে। তাই কখনো জমি তৈরি, কখনো বীজ বপন, পরিচর্যা বা ফসল তোলার ধূম- এমনসব দৃশ্য চোখে পড়ে। কখনো চর জুড়ে দেখা যায় সবুজের সমারোহ। আর চরাঞ্চলের কৃষিকাজ অনেকটাই এখন থাকছে পরিবারের নারী সদস্য বা নারী শ্রমিকদের দখলে। তাদের কর্মমুখর শ্রমের বিনিময়ে অনেক পরিবারই স্বাবলম্বী হয়ে উঠছে।গত এক বছরে চরাঞ্চলে উৎপাদিত ফসলের ওপর একটি পর্যালোচনায় দেখা যায়, দেশের প্রায় সব চরাঞ্চলেই সবজি ও ফসলের উৎপাদন বেশ ভালো হয়েছে। কয়েকটি ফসলের ফলন হয়েছে বাম্পার। আর চিরাচরিত কয়েকটি ফসল ছাড়াও যোগ হয়েছে একাধিক নতুন সবজির চাষ। পরীক্ষামূলকভাবে আবাদ-কৃত কয়েকটি সবজির ফলনেও এসেছে আশাতীত সাফল্য।

এতে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার ভূমিকা বেশ উল্লেখযোগ্য।দেশের কয়েকটি সংবাদপত্র ও সংবাদ সংস্থার পরিবেশিত বিভিন্ন প্রতিবেদন (২০১২ সালের মৌসুমে) পর্যালোচনা করে দেখা যায়- সবজির আবাদ সবচেয়ে বেশি হয়েছে তিস্তার চরাঞ্চলে এবং ফলনও হয়েছে ভালো। অন্যান্য চরে গতানুগতিক ফসলের (যেমন : বাদাম, মিষ্টি আলু, বালিয়া কুমড়া ইত্যাদি) চাষ হলেও তিস্তা নদীর ধূ ধূ বালুচরে ও চর এলাকায় নানা ধরনের সবজি ও ফসলের আবাদ হয়েছে।

এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- বেগুন, মিষ্টি কুমড়া, বাদাম ও মরিচ। এতে মিষ্টি কুমড়া ও বাদামের ফলন হয়েছে বাম্পার।তিস্তার চরে অর্থকরী ফসল মরিচের উৎপাদনও ভালো হচ্ছে। এছাড়া আলু, গম, ভুট্টা, তরমুজ, ডাল, লাউ, সরিষা, পিঁয়াজ, রসুন, আমন, ইরি, বোরো, পাট এমনকি তামাকেরও উৎপাদন হচ্ছে। চরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ ভূমিতেই শুধু নয়, বসতবাড়িতেও নানা ধরনের সবজির চাষ হচ্ছে এখন। বাড়ির আঙিনা কিংবা আশপাশে সবজি চাষের জন্য উন্নতমানের বীজ সরবরাহ করছে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা। ফলে বাণিজ্যিকভাবে যেমন চরাঞ্চলে বিভিন্ন সবজির উৎপাদন হচ্ছে, তেমনি সারা বছর নিজেদের খাওয়ার জন্যও সবজি পাচ্ছেন চরের মানুষেরা।

পর্যালোচনায় দেখা যায়, রংপুর জেলার চরাঞ্চলে প্রচুর মিষ্টি কুমড়ার উৎপাদন হয়েছে। ৪/৫ বছর আগেও এখানে মিষ্টি কুমড়ার চাষ হতো না। প্রচুর ফলন দেখে হাজার হাজার একর বালুচরে এখন এর চাষ হচ্ছে। কুড়িগ্রামের ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা ও ধরলাসহ ১৬টি নদ-নদীর অববাহিকায় এখন ব্যাপকভাবে মিষ্টি কুমড়া চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। তিস্তার চরে বাদামের ফলনও বাম্পার হচ্ছে। নীলফামারীর ডোমার, ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার চরাঞ্চলে গত মৌসুমে ৫০ হেক্টর জমিতে বাদাম চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৪০ মেট্রিক টন। কিন্তু লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যায় বাদামের ফলনে। আগে এসব স্থানে ধানের চাষ হতো। কিন্তু বাদাম চাষে লাভ বেশি এবং উৎপাদন খরচ কম হয় বলে কৃষকরা এখন বাদাম চাষেই বেশি উৎসাহী হচ্ছেন। বেগুন উৎপাদনেও রেকর্ড হয়েছে তিস্তার চরে।

নীলফামারীর জলঢাকার চরাঞ্চলে পাঁচ সহস্রাধিক হেক্টর জমিতে বেগুনের আবাদ হয়। বেগুন চাষে এখানে এটি একটি রেকর্ড। তিস্তা-পাড়েও নারীরা বেগুন চাষে বিশেষ ভূমিকা রাখছেন। ঢেঁকিকল দিয়ে পানি দেয়া থেকে শুরু করে বেগুনের পরিচর্যা নারীরাই করছেন বেশি। পুরুষদের মতোই তারা কায়িক শ্রম দিচ্ছেন।গাইবান্ধার চরাঞ্চলে মরিচের ফলন হয় ব্যাপক। ফুলছড়ি, সাঘাটা, সুন্দরগঞ্জ ও সদর উপজেলার ১০৪টি চরে মরিচের চাষ করে চাষিরা বেশ লাভবান হচ্ছেন। একসময় এসব চরাঞ্চলে বিভিন্ন সবজির চাষ হলেও মরিচের চাষ ততটা ছিল না। কয়েক বছর ধরে উর্বর ভূমিতে মরিচের চাষ দরিদ্র পরিবারগুলোকে সচ্ছল হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। অর্থকরী ফসল হিসেবে ইতোমধ্যে মরিচের চাষ এলাকার চাষিদের প্রিয় হয়ে উঠেছে। মৌসুমে এসব চরাঞ্চলে গেলে কাঁচা মরিচে সবুজ ও পাকা মরিচে লালের সমাহার যেন লাল-সবুজের মেলায় পরিণত হয়।

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার তিস্তার চরে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হয়েছে বিভিন্ন সবজির চাষ। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- স্কোয়াস বা কাঁকুড়। ২০১১ সালে সর্বপ্রথম এখানকার বালুচরে কাঁকুড়ের আবাদ করা হয়। পরবর্তী বছর ২০১২ সালেই প্রোটিন-সমৃদ্ধ এই সবজিটির বাম্পার ফলন হয় এখানে। ডিমলার ৭ ইউনিয়নের ৪০২টি অতি-দরিদ্র পরিবারে দুটি বেসরকারি সংস্থা থেকে এখানে বিনামূল্যে কাঁকুড়ের বীজ দেয়া হয়েছিল। যার মাধ্যমে ৪১ একর বালুচরে করা হয়েছিল কাঁকুড়ের আবাদ।

চরাঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে বিভিন্ন ফসল বা সবজি চাষে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার উদ্যোগ দরিদ্র চর-বাসীদের বিশেষভাবে সহায়ক হচ্ছে। উদ্বুদ্ধকরণের পাশাপাশি এসব সংস্থা বিনামূল্যে বা কম মূল্যে বীজ সরবরাহসহ কারিগরি সহায়তাও দিচ্ছে। যুক্তরাজ্য ভিত্তিক দাতা সংস্থা ডিএফআইডির সহযোগিতায় সরকারের ‘চর জীবিকায়ন কর্মসূচি’ বিভিন্ন চরাঞ্চলে সবজি চাষে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে। এছাড়া আরডিআরএসসহ স্থানীয় ছোট-বড় বেশ কিছু বেসরকারি সংস্থাও এ ব্যাপারে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।

জলবায়ু পরিবর্তন জনিত প্রকল্পের মাধ্যমে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থা চরাঞ্চলে যেসব কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- বালুচরে সবজি তথা ফসল উৎপাদনে দরিদ্র চাষিদের সহায়তা করা। জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর উপযোগী ফসল উৎপাদনে তারা সহযোগিতা করে যাচ্ছে। ফলে চরবাসী বন্যা-খরাকে জয় করে বেশি বেশি ফসল এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে বাম্পার ফলনও পাচ্ছেন। এতে ক্রমশ: স্বাবলম্বী হয়ে উঠছেন এককালের চরম অবহেলিত দূরবাসী চরের মানুষেরা

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful