Templates by BIGtheme NET
আজ- শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০ :: ১০ আশ্বিন ১৪২৭ :: সময়- ৬ : ৪৪ পুর্বাহ্ন
Home / টপ নিউজ / জামায়াত ছাড়লে কার লাভ বেশি?

জামায়াত ছাড়লে কার লাভ বেশি?

jamat a lig bnpডেস্ক : বিএনপি জামায়াত ছাড়লে কার বেশি লাভ হবে এ হিসাব কষতে শুরু করেছেন বড় দুই দলের রাজনীতিবিদরা। অনেকে বলেছেন পর্দার অন্তরালে জামায়াত নেতাদের একটি অংশের সঙ্গে সরকারের নীতিনির্ধারকরা যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন।

যে কারণে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী এ নিয়ে কয়েক দফায় কথা বলেছেন জামায়াতের সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকের সঙ্গে।

জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত এক শীর্ষ নেতার সঙ্গেও সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের পক্ষ থেকে কথা বলা হয়েছে যা একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হয়েছে। বিএনপি বিপর্যস্ত অবস্থা থেকে বের হয়ে আসার জন্য ভারতের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নের প্রশ্নে শেষ পর্যন্ত বড় ধরনের ছাড় দেওয়ার চিন্তা করছে দলটি। দলটি এ জন্য প্রয়োজনে জামায়াতের সঙ্গে জোট ভেঙে দিতেও রাজি। খালেদা জিয়া বলেছেন, জামায়াতকে শুদ্ধ হতে হবে।

সর্বশেষ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার লন্ডন সফরকে কেন্দ্র করে এ আলোচনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। বলা হচ্ছে, সেখানে তারেক রহমানের সঙ্গে পরামর্শ করেই জামায়াত ও ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে অবস্থান স্পষ্ট করবে বিএনপি। দলটির নেতাদের মতে, এত দিন আলোচনার পর্যায়ে ঠেকিয়ে রাখা গেলেও সরকারের নানামুখী কৌশল ও তৎপরতায় এখন তাঁরা প্রচ- চাপের মুখে। ফলে রাজনৈতিক প্রশ্নে যে কোনো অবস্থান তাঁদের নিতেই হবে।

সূত্রমতে, দলটির নীতিনির্ধারক পর্যায়ের বেশির ভাগ নেতার পাশাপাশি সমর্থক বুদ্ধিজীবীরাও খালেদা জিয়াকে বুঝিয়েছেন যে বিএনপির ব্যাপক জনসমর্থন এবং পশ্চিমা দেশগুলো চাইলেও সরকারকে চাপে ফেলা যাচ্ছে না মূলত ভারতের কারণেই। সেজন্য ভারতকে খুশি করতে জামায়াত ছাড়তে পারে বিএনপি।

কোর্টের রায়ের ফলে জামায়াত সরাসরি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। তাহলে তাদের ভোট ও সমর্থন কোথা যাবে ? আওয়ামীলীগকে সমর্থন করবে? অবশ্যই না। তারা ভোট সরাসরি বিএনপিকেই দেবে। আর তাদের প্রচার-প্রচারণাও বিএনপির পক্ষেই থাকবে বলে মনে করেছন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। মাঝখানে বিএনপিও রাজনৈতিক বৈরীতা পার হয়ে জামায়াত থেকে মুক্ত হওয়অর সার্টিফিকেট পেয়ে যাবে।

তাই পুরোটাতেই আওয়ামীলীগের পরাজয়। দেশ-বিদেশে আর জামায়াত ইস্যু নিয়ে সরাসরি কিছু বলতেও পারবে না। আর সেই জামায়াতকে সাথে নিয়েই (গোপনে) বিএনপি দেশে-বিদেশে ক্লিন ইমেজে তাদের রাজনীতি প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হবে। আর এ কাজটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার দল আওয়ামীলীগই করে দিচ্ছে। ফলে এ জন্যে বিএনপিকে আর জামায়াতের সাথে দ্বন্দ্ব বা শত্রুতায় অবতীর্ণ হতে হল না।

এদিকে জামায়াতের তৃর্ণমূল পর্যায়ের বেশিরভাগ নেতা, যারা বর্তমান সরকারের সময়ে সবচেয়ে বেশি নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তারা আওয়ামী লীগের সঙ্গে কোন ধরনের সমঝোতায় যেতে রাজি নন। অন্যদিকে, সরকারের নীতিনির্ধারকরাও যুদ্ধাপরাধ ইস্যুতে ছাড় দেয়ার পক্ষপাতি নন। যে কারণে সরকার-জামায়াত আলোচনায় তেমন কোন অগ্রগতি হয়নি।

জামায়াতকে জোটে নিয়ে বিএনপির নিজস্ব রাজনৈতিক সক্ষমতা, সাংগঠনিক কাঠামো ও জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা যে দিন-দিন দুর্বল হয়ে পড়ছে তা-ও স্পষ্ট হয়ে উঠে। জামায়াতের সঙ্গে নির্বাচনী জোট গঠনের কারণে যুদ্ধাপরাধীদের লালন ও জামায়াতকে সুসংগঠিত হয়ে ওঠার দায়ভার বিএনপির কাঁধে এসে পড়েছে। তাই বিপুল সংখ্যক মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক ডানপন্থী ও উদারতাবাদীদের দল হওয়া সত্ত্বেও কিছু কট্টর ইসলামপন্থী নেতার কারণে আওয়ামী লীগ বেশ সফলভাবে বিএনপির গায়ে দেশবিরোধী যুদ্ধাপরাধীর কাদা লেপে দিচ্ছে। যদিও জামায়াতকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে সক্রিয় করে তুলতে বিএনপির সঙ্গে সঙ্গে আওয়ামী লীগের দায়ভারও কম নয়।

বিএনপি দাবি করে জামায়াতের সঙ্গে জোট আদর্শগত নয় বরং কৌশলগত। কিন্তু যদি নির্বাচন ও সরকার-বিরোধী আন্দোলনে জামায়াত উল্লেখযোগ্য কোনও ভূমিকা না রাখতে পারে, তবে তা বিএনপির জন্য একটি বড় বোঝা ছাড়া আর কিছুই নয়। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দুটি দলই দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির জন্য অভিযুক্ত। তাই বিএনপি তার গা থেকে ‘যুদ্ধাপরাধী লালনের’ গন্ধ ঝেড়ে ফেলতে পারলে আওয়ামী লীগের মতোই ‘গ্রহণযোগ্যতা’ পাবে। বাংলাদেশের ভোটারদের একটা বড় অংশ তরুণ, যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ এবং প্রযুক্তি-বান্ধব। এ তরুণ ভোটাররা বিশ্বায়নের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে চায়। এদের বিরুদ্ধে যেমন ‘দেশবিক্রি’র দোহাই দেওয়া সহজ নয়, তেমনই তাদের সামনে ‘মুক্তিযুদ্ধ’কে দলীয় সম্পত্তি হিসেবে উপস্থাপন করাও কষ্টকর।

ওদিকে জোটে থাকা না থাকা নিয়েও জামায়াতের তেমন ভাবনা নেই। তারা বলেন, নিজ থেকে জামায়াত জোট ভাঙবে না বা জোট ছেড়ে যাবে না। জোট ভাঙার বদনাম মাথায় নিতে চায় না তারা। তবে জোটের শীর্ষ পর্যায় থেকে তাদের বাদ দেয়া হলে আপত্তি করবে না।

এ নিয়ে সাম্প্রতিক আলোচনার প্রেক্ষাপটে তারা মনে করেন, কৌশলগত কারণে বিএনপিও জোট ভাঙার ঝুঁকি নিতে চায় না। তারা চায় সরকার জামায়াতকে নিষিদ্ধ করে দিলে দলটি আপনা আপনি জোটছাড়া হবে। সেক্ষেত্রে বিএনপির সঙ্গে সম্পর্কের অবনতির আশঙ্কা থাকবে না। কিন্তু এ ক্ষেত্রে বরাবর কৌশলী ভূমিকায় আছে সরকার।

জামায়াত নেতাদের মতে, সরকার চায় প্রায় একই মতাদর্শের এই দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যে কেবল ভাঙন সৃষ্টি নয়, রাজনৈতিক বৈরীতাও তৈরি করার। যা ভোটের রাজনীতিতে কাজে লাগবে। তাই বিএনপি ঘোষণা দিয়ে জামায়াতকে জোট থেকে বাদ দিলে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়বে দুই দলের সাধারণ কর্মী সমর্থক এমনকি ভোটারদের মাঝেও।

আগামী নির্বাচনে যার সুবিধা ভোগ করবে আওয়ামী লীগ। তাই নানা মহলের দোহাই দিয়ে সরকার জামায়াতকে বিএনপি থেকে বিচ্ছিন্ন করতে চায় এমন ধারণা তাদের।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, সংলাপ ও মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবিতে তিন মাসব্যাপী লাগাতার আন্দোলন ব্যর্থ হওয়ার পর যতোটা সম্ভব গা বাঁচিয়ে থাকার চেষ্টা করছে জামায়াত। এ জন্য এই মুহূর্তে আন্দোলনের নামে আর শক্তি ক্ষয় করতে চাচ্ছে না তারা। আন্ডারগ্রাউন্ডে থেকে সাংগঠনিক তৎপরতা ও সামাজিক কর্মকা-ের পাশাপাশি বিবৃতির মাধ্যমেই সময় পার করছে শীর্ষ নেতারা।

এটা নিশ্চিত করেই বলা যায়, বাংলাদেশের ভোটাররা দুই ভাগে বিভক্ত। আদর্শভিত্তিক বিভক্তির রাজনীতি বিলুপ্ত হলেও নতুন ফরম্যাটে বাংলাদেশের ভোটাররা ডান এবং বামে বিভক্ত। জামায়াতের ভোটাররা নিশ্চিতভাবেই ডান ব্লকের। নির্বাচন কমিশনের হিসাবে জামায়তের ৪২ লাখ ভোটার রয়েছে। মোট ভোটারের দলটির ৪ থেকে ১০ ভাগ ভোট রয়েছে বলে মনে করা হয়।

১৯৮৬ সালের তৃতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত প্রথম অংশগ্রহণ করে। ওই নির্বাচনে ৭০ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে দলটি ১০টি আসনে জয়ী হয়। মোট ভোটের ৪ দশমিক ৬১ ভাগ পড়ে দলটির প্রতীকে। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জামায়াত ১২ দশমিক ১৩ ভাগ ভোট পায়।

১৯৯৬ সালে সপ্তম সংসদ নির্বাচনে জামায়াত ভোট পায় ৮ দশমিক ৬১ ভাগ। ২০০১ সালের নির্বাচনে জামায়াত পেয়েছে ১৭ আসন মোট ভোটের ৪.২৮ ভাগ। গত দু’টি নির্বাচনে জামায়াত জোটগতভাবে নির্বাচনে অংশ নেয়ায় তাদের ভোটপ্রাপ্তির হার সুনির্দিষ্টভাবে বলা যায় না।

জামায়াত যদি নির্বাচনে অংশ নিতে না পারে তাহলে এ ভোটাররা কাকে ভোট দেবেন তা নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। নিবন্ধন বাতিল হলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে জামায়াত নেতাদের নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ থাকবে। তবে নিষিদ্ধ হলে সে সুযোগও থাকবে না।

সেক্ষেত্রে জামায়াতের এ ভোট ব্যাংক কোন দিকে ধাবিত হবে? রাজনীতির বিশ্লেষকরা এ ব্যাপারে নিশ্চিত সামান্য কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া জামায়াতের ভোটারদের ঠিকানা হবে ধানের শীষ। এক্ষেত্রে জামায়াত নিষিদ্ধের কৌশলের রাজনীতি কতটা সুফল বয়ে আনে তার উত্তর একমাত্র ভবিষ্যৎই দিতে পারবে।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful