Templates by BIGtheme NET
আজ- বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২০ :: ১৬ আশ্বিন ১৪২৭ :: সময়- ৯ : ২০ অপরাহ্ন
Home / টপ নিউজ / জন্মই ‘আজন্ম পাপ’

জন্মই ‘আজন্ম পাপ’

সাহাদাত হোসেন পরশ

untitled-6_169334অনাগত সন্তান ঘিরে মা-বাবার কত না রঙিন স্বপ্ন। মায়ের কোল আলো করে পৃথিবীতে এলে কী নামে তাকে ডাকা হবে_ এ নিয়ে ভাবনার অন্ত থাকে না। নতুন অতিথি আসার আগেই নতুন খেলনা ও পোশাকে ভরে ওঠে ঘর। অনাগত সন্তান ঘিরে এমন ভালোবাসা চিরন্তন। বিশেষ করে বাঙালি জননীর হৃদয়-মনজুড়ে তার সন্তান। তাকে ‘দুধে-ভাতে’ বড় করার স্বপ্ন। তাই স্বপ্ন ও ভালোবাসার বিপরীত চিত্রও দুর্লভ নয়। আর তা অন্ধকারের কালো নিকষে মোড়ানো। সেখানে স্নেহ-ভালোবাসার ছিটেফোঁটাও নেই। ঘৃণা, লোকলজ্জা, সমাজের চোখরাঙানি ও তিরস্কারের কষ্টগাথাও মায়ের হৃদয় যেন ছিন্নভিন্ন করে দেয়। জন্মের পরই মা-বাবার কোলের বদলে অনেক নবজাতকের ঠাঁই হয় ডাস্টবিনে, ড্রেনে, ফুটপাতে ও হাসপাতালের আঙিনায়। পৃথিবীর আলো দেখার আগেই অনেক শিশুকে হত্যা করা হয়। প্রায়ই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে উদ্ধার হচ্ছে পরিচয়হীন নবজাতক। ওদের কারও কোমল শরীরে থাকে প্রাণের মৃদু স্পন্দন, আবার কোনোটি পড়ে থাকে প্রাণহীন। ডাস্টবিনে, জঙ্গলে ফেলার পর কুকুর, পিঁপড়া তাদের ওপর হামলে পড়ে। জন্মই যেন ওদের ‘আজন্ম পাপ’।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের তথ্যমতে, বছরে শুধু ঢাকায় শতাধিক নবজাতকের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ব্যাপারে মামলা-জিডি হলেও অধিকাংশ ঘটনায় পুলিশ নবজাতক হত্যার সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করতে পারে না, হয়তো তেমন আগ্রহও থাকে না। দেশে ডিএনএ ব্যাংক না থাকায় এসব নবজাতকের নমুনা সংগ্রহ করে রাখাও সম্ভব হয় না।

পুলিশ বলছে, নবজাতক হত্যা ৩০২ ধারায় ফৌজদারি অপরাধ। জন্মের পরপরই শিশুকে ডাস্টবিনে বা অন্য কোনো অরক্ষিত জায়গায় ফেলে গেলেও মা-বাবার বিরুদ্ধে শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করার বিধান রয়েছে। তবে বছরে কত নবজাতকের লাশ উদ্ধার করা হয়_ এমন কোনো পৃথক পরিসংখ্যান পুলিশের কাছে নেই।

জাতিসংঘ শিশু সনদ অনুচ্ছেদ-৬-এ বলা হয়েছে, প্রতিটি শিশুর বেঁচে থাকার জন্মগত অধিকারকে স্বাক্ষরকারী রাষ্ট্রগুলো স্বীকৃতি দেবে। এ ছাড়া শিশুর বেঁচে থাকা ও উন্নয়নের জন্য যথাসম্ভব সর্বাত্মক নিশ্চয়তার ব্যবস্থা করবে রাষ্ট্র। কোনো ধর্ম, সমাজ, কোমল প্রাণ হত্যাকে সমর্থন করে না। ধর্মে ভ্রূণ ও শিশু হত্যা অন্য হত্যার মতোই অপরাধ বলে গণ্য।

মাদার তেরেসা বলতেন, ‘সন্তান না পালতে পারো, আমাকে দিয়ে দাও।’ হত্যা না করে শিশুকে দত্তক দেওয়াও সামাজিক সমাধান হতে পারে। ধর্মে আছে, একটি এতিম শিশু পালন করা পুণ্যের কাজ।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক ও মেডিকেল বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. সোহেল মাহমুদ বলেন, মাসে অন্তত সাত-আটটি নবজাতকের লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়। তাদের বেশির ভাগ কন্যাসন্তান।

ঢাকা মহানগর পুলিশের জয়েন্ট কমিশনার (ক্রাইম) কৃষ্ণপদ রায় বলেন, পরিচয়হীন ব্যক্তির লাশ পাওয়া গেলে পুলিশ তার আঙুলের ছাপ, ছবি তুলে রাখে। নবজাতকের ক্ষেত্রে আঙুলের ছাপ বা অন্যান্য তথ্য রাখা সম্ভব হয় না। সুরতহাল প্রতিবেদনের পর মামলা বা জিডি করা হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এসব নবজাতকের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় কাউকে শনাক্ত করা সম্ভব না হওয়ায় আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়।

মানবাধিকারকর্মী এলিনা খান বলেন, নবজাতককে হত্যা করা দণ্ডনীয় অপরাধ। ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’ সন্তানদের লালন-পালনে সরকারি ‘সেফ হোম’ রয়েছে। হত্যা না করে সেখানে তাদের দেওয়া যেতে পারে। জন্মের পরপরই শিশুর বাঁচার অধিকার নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। এ ছাড়া যারা নবজাতকের হত্যার সঙ্গে জড়িত, পুলিশ প্রশাসন তাদের খুঁজে বের করে শাস্তি নিশ্চিত করবে_ এটাই প্রত্যাশা।

আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের সহকারী পরিচালক (সার্বিক) মোহাম্মদ হালিম বলেন, বছরে গড়ে রাজধানীতে একশ’ পরিচয়হীন নবজাতকের লাশ দাফন করা হয়। ময়নাতদন্তের পর এর অধিকাংশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গ থেকে দেওয়া হয়।

অনেককে জন্মের পরপরই ডাস্টবিনে, জঙ্গলে, ময়লার স্তূপে, হাসপাতালের আঙিনায়, বাস ও রেলস্টেশনের পাশে ফেলে রাখা হয়। বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের কারণে কোনো নারী সন্তানসম্ভবা হলে লোকলজ্জার কারণে গর্ভপাত ঘটানো হয়। এ ছাড়া অনেক স্বামী-স্ত্রী ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’ সন্তান বিবেচনা করে গর্ভপাতের আশ্রয় নেন। অনেক ক্ষেত্রে পরকীয়ার সম্পর্কে জড়িয়ে কোনো নারী সন্তানসম্ভবা হলে ভ্রূণ হত্যা করা হয়। নারীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে অনেক পুরুষ দৈহিক সম্পর্কে জড়ান। ওই নারী সন্তানসম্ভবা হলে তাকে মেনে নেন না বা অনেকে পালিয়ে যান। পরে বাধ্য হয়ে ওই নারীকে গর্ভপাত ঘটাতে হয়। নবজাতক কন্যা হলে তাকে হত্যা করার ঘটনা ঘটছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নবজাতক উদ্ধারের ঘটনায় যেসব মামলা ও জিডি হয়, তা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে সবচেয়ে ‘ক্লুহীন’ মামলা। এসব নিয়ে তদন্ত চালিয়ে যাওয়া তারা বাড়তি ‘ঝামেলা’ মনে করেন। রাজধানীতে কিছু নিবন্ধনহীন মেটারনিটি ক্লিনিকে অবৈধ গর্ভপাত করানো হচ্ছে। তারাই মূলত অনাকাঙ্ক্ষিত সন্তানের মা ও বাবাকে সন্তান হত্যায় প্ররোচণা দেয়।

আলোচিত কয়েকটি ঘটনা : গত ১৫ সেপ্টেম্বর রাজধানীর কাফরুলের পুরনো বিমানবন্দরের মাঠের ঝোপে সিমেন্টের খালি বস্তায় মোড়ানো আবর্জনার স্তূপের পাশ থেকে এক নবজাতককে উদ্ধার করা হয়। একদল কুকুর সেই বস্তা থেকে নবজাতককে টেনেহিঁচড়ে বের করে টানাটানি করছিল। কুকুরের ঘেউঘেউ শব্দে পাশের মাঠে খেলতে থাকা কয়েক কিশোর প্রথমে ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। পরে জাহানারা নামের স্থানীয় এক নারী নবজাতককে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেন। গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর তোলপাড় শুরু হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নবজাতক ওয়ার্ডের (নিওনেটোলজি বিভাগ) প্রধান অধ্যাপক ডা. আবিদ হোসেন মোল্লার নেতৃত্বে গঠন করা হয় পাঁচ সদস্যের চিকিৎসক বোর্ড। নিরন্তর চেষ্টায় তারা শিশুটিকে সুস্থ করে তোলেন। পরে তার নাম রাখা হয় ‘ফাইজা’, যার অর্থ বিজয়নী।  ১১ অক্টোবর শিশুটিকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের ছোটমণি নিবাসে হস্তান্তর করা হয়। নানা আইনি ঝামেলা সত্ত্বেও অনেকেই তাকে দত্তক নিতে চেয়েছিলেন। আদালতের অনুমতি না থাকায় আপাতত সে ছোটমণি নিবাসে আছে।

২০১১ সালের ৩ মে রাজধানীর সেন্ট্রাল রোড থেকে এক নবজাতককে উদ্ধার করেন মানবাধিকারকর্মী এলিনা খান। ততক্ষণে শিশুটির পা পিঁপড়ায় কামড়ে খেয়েছিল। ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসার পর সে সুস্থ হয়ে ওঠে। হাসপাতালের নথিপত্রে এলিনা খান শিশুটির নাম দেন ‘সান অব দ্য ওয়ার্ল্ড’। পরে নাম রাখেন তামজীদ। এখন এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে তামজিদ আদরে বেড়ে উঠছে।
২০১৩ সালের ১৪ অক্টোবর নূরজাহান রোডে ডাস্টবিন থেকে হঠাৎ ভেসে আসে শিশুর কান্না। এর পর সেখানে জড়ো হন উৎসুক জনতা। এর মধ্যেই খবর চলে যায় পুলিশের দপ্তরে। মুহূর্তেই ছুটে আসে পুলিশের ভ্যানও। তারাও দেখেন, ডাস্টবিনের ভেতরে কাপড়ে মোড়ানো একটি শিশুসন্তান পড়ে আছে। প্রথমে কেউ শিশুটিকে ছুঁয়েও দেখতে চাননি। এরপরই এগিয়ে আসেন নূরজাহান রোডের বাসিন্দা মিজানুর রহমান ও তার স্ত্রী মিম আক্তার। ময়লা কাঁথায় মোড়ানো দুই-তিন দিন বয়সী ফুটফুটে শিশুটিকে কোলে তুলে নেন তারা। ওই পরিবার শিশুটি লালন-পালনের দায়িত্ব নিয়েছে।
গত বছরের ৪ মার্চ মতিঝিলের পূবালী ব্যাংকের সামনে পরিচ্ছন্নতাকর্মী আমেনা খাতুন একটি জীবিত নবজাতককে পান। পরে তার কোলই ওই শিশুর ঠিকানা হয়।
গত ২৫ মার্চ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ২০৭ নম্বর শিশু ওয়ার্ডে আঁখি নামের এক নারীর কোলে এক কন্যাশিশু রেখে পালিয়ে যান আরেক নারী। গণমাধ্যমে এ ব্যাপারে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে ওই শিশুকে দত্তক নিতে অনেকে হাসপাতালে ভিড় করেন। পরে তাকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের হাতে তুলে দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
সমকাল
Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful