Templates by BIGtheme NET
আজ- শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০ :: ১১ আশ্বিন ১৪২৭ :: সময়- ২ : ১৪ পুর্বাহ্ন
Home / টপ নিউজ / সৈয়দপুর বিমানবন্দরে ভিআইপি জট; উন্নয়নের কথা ভাবছে সরকার

সৈয়দপুর বিমানবন্দরে ভিআইপি জট; উন্নয়নের কথা ভাবছে সরকার

ইনজামাম-উল-হক, নীলফামারী ২১ এপ্রিল॥ অব্যবস্থাপনা, নিম্নমানের যাত্রীসেবা সহ ভিআইপি জটে দুর্ভোগ বেড়েছে সাধারণ যাত্রীদের।

অভিযোগে জানা যায়, ঢাকা থেকে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে বিমান অবতরণ করার পর সাধারণ যাত্রীরা লাগেজের জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। কিন্তু স্বাভাবিক সময় পর্যন্ত অপেক্ষার পরও লাগেজ না পাওয়ায় তারা অস্থির হয়ে ওঠেন। এসময় ভিআইপি, সিআইপিসহ বিশেষ শ্রেণির যাত্রী ব্যবস্থাপনার কারণে এমনটা হচ্ছে বলে জানা যায়। এদিকে ভিআইপি সহ বিশেষ শ্রেণির যাত্রীর কারণে সাধারণ যাত্রীদের এই ভোগান্তি মেনে নিতে পারছেন না তারা। হঠাৎ ভিআইপি ও বিশেষ শ্রেণির যাত্রীর সংখ্যা বৃদ্ধিকে বিষয়টিকে ভিআইপি জট বলেও আখ্যা দেন অনেকে। তবে ভিআইপি, সিআইপিসহ সাধারণ সকল যাত্রী ইউনাইটেড এয়ারের কাছ থেকে ভালো যাত্রী সেবা আশা করলেও তাদের অদক্ষতা ও অব্যবস্থাপনার কারণে এমনটা হচ্ছে বলে মনে করেন যাত্রীরা।

এ ব্যাপারে ইউনাইটেড এয়ারের যাত্রীসেবা শাখার কর্মকর্তা শাহাদাৎ হোসেন বিশেষ শ্রেণির ৩ জন যাত্রীর অব্যবস্থাপনার কারণে সামান্য বিলম্ব হয়েছে বলে স্বীকার করে বলেন, বিমানটি নির্ধারিত সময়ের ৪৫ মিনিট দেরি করে ছাড়ার কারণেও যাত্রীরা ক্ষুব্ধ ছিল।

 ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় অস্ত্র ও সৈন্য বাহিনী বিমানে ওঠানামার জন্য পাক বাহিনী স্থানীয় আটকিয়ে এবং নির্যাতন করে বিমানবন্দরটি নির্মাণ করে। উত্তরবঙ্গের শিল্প-বান্ধব পরিবেশ আর সস্তা শ্রমবাজার যখন বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে শুরু করেছে ঠিক তখনই বন্ধ হয়ে গেছে সরকারিভাবে বিমান চলাচল। সকল সুযোগ – সুবিধা থাকা স্বত্বেও কেন বিমান চলাচল করছে তা ভেবে পাচ্ছেন না সচেতন মহল। আকাশ পথে ঢাকা মাত্র ৪৫ মিনিটের পথ হলেও সড়ক পথে লাগে প্রায় ৭ ঘণ্টা। দীর্ঘ দূরত্বের কথা শুনে হকচকিয়ে যাচ্ছেন বিনিয়োগকারী আর বায়াররা। ফলে শুরুতেই শেষ হয়ে যাচ্ছে তাদের আগ্রহ আর মঙ্গা-পীড়িত এই অঞ্চলে শিল্পায়নের সম্ভাবনা।

এদিকে বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক মানে উন্নীতকরণের কথা ভাবছে সরকার। একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা সম্প্রতি সরকারের কাছে সৈয়দপুর বিমানবন্দরের মানোন্নয়নের বিষয়ে প্রস্তাবনা দিয়েছে। বিমানবন্দরকে ঘিরে দক্ষিণ এশিয়ার জন্য একটি আঞ্চলিক বাণিজ্যিক কেন্দ্র তৈরি করার অংশ হিসেবে তারা এই প্রস্তাবনা দিয়েছে। এ বিষয়ে স্টাডি করে সরকারের কাছে তাদের একটি রিপোর্ট জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। রিপোর্ট ইতিবাচক হলে সরকারও বিষয়টি নিয়ে গুরুত্বের সাথে চিন্তা করবে। এতে সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে ঘিরে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের সাথে কানেকটিভিটি বৃদ্ধি পাবে। উত্তরবঙ্গে কোনো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর না থাকায় সৈয়দপুর বিমানবন্দরটি ওই অঞ্চলের সামগ্রিক উন্নয়নেও অংশ রাখতে পারে মনে সচেতন মহল। দেশের কয়েকটি বিমানবন্দরকে ঘিরে উন্নয়ন পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। অনেকগুলো বিমানবন্দর এখন বন্ধ রয়েছে। বন্ধ থাকা বিমানবন্দরগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিকভাবে অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক হতে পারে এমন বিমানবন্দর পুনরায় চালুর বিষয়েও সরকারে পরিকল্পনা রয়েছে।

জানা যায়, সৈয়দপুর বিমানবন্দরটি রানওয়েটি সম্প্রসারিত এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ করে এটিকে অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দর হিসেবে উদ্বোধন করা হয় ১৯৭৯ সালের ৫ জুলাই। ২০০৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ বিমানের ৮৩ সিটের একটি এফ-২৮ এয়ারক্রাফট সপ্তাহে একদিন ঢাকা- সৈয়দপুর- রাজশাহী রুটে চলাচল করে। পরে চলাচল সপ্তাহে দুদিন এবং আরো পরে সাতদিন করা হয়। কিন্তু ২০০৭ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি লোকসানের অজুহাতে হঠাৎই বন্ধ করে দেয়া হয় উড়োজাহাজ চলাচল। গুটিয়ে নেয়া হয় বিমানের সব কার্যক্রম। এ অবস্থায় ২০০৮ সালের ২৬ আগস্ট থেকে বেসরকারি এয়ারলাইন্স রয়েল বেঙ্গল এয়ারওয়েজ ৩৬ সিটের একটি ড্যাসএইচ এয়ারক্রাফট চালু করে এই রুটে। এটি বন্ধ হলে পরবর্তীতে একই ধরণের আরেকটি এয়ারক্রাফট নিয়ে এই রুটে যুক্ত হয় ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স। এপি সপ্তাহে তিনদিন চলাচল করছে। তবে বিশেষ প্রয়োজনে কিছু বিমান, সেনা ও বিমান বাহিনীর এয়াক্রাফট ওঠানামা করছে ও নেপালী বিমানকে সাংকেতিক দেয়া হচ্ছে।
বিমানবন্দর ম্যানেজার শহীদুল আলম চৌধুরী জানান, উদ্যোগ নিলে বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলো যে কোন মুহূর্তে বিমানবন্দরটি ব্যবহার করতে পারে। মঙ্গা-পীড়িত এই অঞ্চলের উত্তরা ইপিজেড, তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র, ফুলবাড়ির মধ্য-পাড়া কঠিন শিলা প্রকল্প, বড় পুকুরিয়া কয়লাখনি, বিভিন্ন এনজিও কার্যক্রম তদারকি ও অন্যান্য কাজে বিদেশী বিনিয়োগকারী ও কর্মকর্তারা যোগাযোগ অসুবিধার জন্য আসতে চান না। সে ক্ষেত্রে এই বিমানবন্দর চালু করা হলে এই অঞ্চলে গতি ফিরে আসবে এবং নতুন নতুন শিল্প কারখানা গড়ে উঠবে।

নীলফামারী চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি’র সভাপতি আব্দুল ওয়াহেদ সরকার বলেন, উত্তরা ইপিজেডে কাঙ্ক্ষিত বিনিয়োগ না হওয়ার পেছনে একমাত্র কারণ সৈয়দপুর বিমানবন্দর বন্ধ হয়ে যাওয়া।

সৈয়দপুর বিমানবন্দরের উপ সহকারী প্রকৌশলী নেপাল চন্দ্র দেবনাথ জানান, বিমান চালুর ব্যাপারে সব রকম প্রস্ত’তি আমাদের রয়েছে। এরই মধ্যে ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে টার্মিনাল ভবন সংস্কারের কাজ করা হয়েছে। প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয় করে বিমানবন্দর নিরাপত্তা বেষ্ঠনিও গড়ে তোলা হয়েছে।

অতি সম্প্রতি রংপুর বিভাগীয় কমিশনার জসিমউদ্দিনের আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসকের প্রথম সম্মেলনে সৈয়দপুর বিমানবন্দরটি আবারও চালুর ব্যাপারে জোরালো দাবি তুলেন ৮ জেলার ডিসিরা। তারা বলেন, প্রশাসনিক জরুরী প্রয়োজনে রাজধানী ঢাকার সাথে বিমানে যাতায়াতের যে সুযোগটি ছিল তা বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে নানা সমস্যা হচ্ছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিভাগীয় কমিশনার এই সমস্যাটির দ্রুত সমাধান করবেন বলে আশ্বাস দেন।

স্থানীয় সুশীল সমাজ ও উত্তরাঞ্চলের সংসদ সদস্য এবং ব্যবসায়ীরা সরকারিভাবে পুনরায় বিমান চালুর জন্য মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful