Templates by BIGtheme NET
আজ- বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০ :: ৮ আশ্বিন ১৪২৭ :: সময়- ৬ : ৪৪ পুর্বাহ্ন
Home / টপ নিউজ / ধর্ম যার যার, দেশ সবার

ধর্ম যার যার, দেশ সবার

285661_586128814749514_2133248007_n1ডেস্ক: প্রকৃত ঈশ্বর কোনটি তা বের করা কঠিন নয়। আমরা সবাই ইব্রাহিমের ঈশ্বরে বিশ্বাসী। মুসলিম, খ্রিষ্টান ও ইহুদিরা সবাই একেশ্বরে বিশ্বাস করে। হিন্দুরা কয়েক’শ ঈশ্বরে বিশ্বাসী।

এছাড়া বৌদ্ধদের নির্দিষ্ট কোন ঈশ্বর নেই। মূলত এটাই হচ্ছে তাদের ধর্ম। দেবতাদের নিয়ে ধর্মে জটিল দর্শন রয়েছে। বিভিন্ন ধর্মের অসংখ্য শিষ্য রয়েছে। বইয়ে বিভিন্ন ধরনের ধর্মের ব্যাখ্যা বিভিন্ন রকমের। সবাই নিজের ধর্মকে শ্রেষ্ঠ মনে করেন। কিছু কিছু বিষয়ে ধর্মে অস্পষ্টতাও রয়েছে।

ধীরে ধীরে একজন মানুষ কোনটি সঠিক আর কোনটি সঠিক নয়, তা বুঝতে পারে। এ জন্য গোয়েন্দাগিরি করতে হয় না। প্রথমে, পরিবারে বড় হতে থাকে একজন মানুষ। দ্বিতীয়ত, সমাজের পারিপার্শি¦ক অবস্থা থেকে শিখতে পারে। প্রতিটি ধর্মেই সহিংসতা পরিহার করার কথা বলা হয়েছে। শান্তি ও সুনামের কথা বলা হয়েছে। এটা শুধু বুঝলেই হবে না সঠিকভাবে কাজে লাগাতে হবে। সহিংসতার সময় আলোচনার কথা বলা হয়েছে ধর্মে।

বাংলাদেশও জাতিগতভাবে ভিন্ন ধর্মের প্রতি বিশ্বাসে সবাই সচেতন। বিভিন্ন ধর্ম ও মতাদর্শের নাগরিকরা এখানে সামাজিক বন্ধনের মাধ্যমে একত্রে বাস করছে। এখানে সবার একই আদর্শ সবাই বাংলা মায়ের সন্তান। এমন সম্প্রতি বন্ধনের জন্য বিশ্বে সুনাম রয়েছে। সবাই নিজের ধর্ম মতে ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করে আসছে যুগ যুগ ধরে।

ব্লগার হত্যার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ জাতি হিসেবে নিচু মানসিকতার পরিচয় দিয়েছে। ধর্ম নিরপেক্ষ ব্লগার অভিজিত রায় ও নীলাদ্রী চ্যাটার্জি হত্যার মধ্য দিয়ে তা শুরু হয়েছে। এসব দৃশ্য বাংলাদেশকে শত্রুভাবাপন্ন রাষ্ট্রে পরিণত করছে। গত সপ্তাহে দুইটি দুর্ঘটনা জাতি হিসেবে বাংলাদেশিদের আরো নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

একটি হচ্ছে হিন্দুদের দূর্গাপুজা উপলক্ষ্যে ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিম লিটন দাসকে পুজার শুভেচ্ছা বিনিময়। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে তিনি লিটন দাসকে শুভেচ্ছা দেন। এই পোস্টের জন্য কিছু বাংলাদেশি মুশফিকুর রহিমকে অপমানজনক মন্তব্য করেন। ধর্মান্ধতা থেকেই তারা নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন।

দ্বিতীয় দুর্ঘটনাটি হচ্ছে পবিত্র আশুরা উপলক্ষ্যে রাজধানীর পুরাণ ঢাকার হোসেনি দালানে বোমা বিস্ফোরণ। ওই হামলায় একজন কিশোর প্রাণ হারিয়েছেন। আরো ৬০ জন আহত হয়েছেন। মুসলমানরা এই দিনটিকে শোকের দিন হিসেবে পালন করে। বিশেষ করে শিয়া মুসলিমরা। শিয়াদের পাশাপাশি সুন্নিরাও এই দিনটিকে ইসলামের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দিন হিসেবে পালন করে থাকে।

হোসেনি দালানে বোমা হামলায় যে বালকটি প্রাণ হারিয়েছে সে শিয়া সম্প্রদায়ের ছিল না। সে আসলে সুন্নি মুসলিম। শিয়াদের ওই ধর্মীয় অনুষ্ঠানে শতশত সুন্নিও উপস্থিত ছিলেন। আইএস ওই বোমা হামলার দায় স্বীকার করেলেও কর্র্তৃপক্ষের কাছ থেকে এখনো কোন নির্দিষ্ট করে কারা দায়ী বলা হয়নি। বোমা হামলার অভিযোগে চারজনকে আটক করা হয়েছে।

গত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশে এই ধরনের বহু ঘটনা ঘটে চলছে। অনেকে আল্লাহ হাফেজ ও খোদা হাফেজ বলার মধ্যে পার্থক্য খুঁজেন। খোদা হাফেজ শব্দটি হিন্দুদের কাছ থেকে এসেছে বলে ধারণা করছে মৌলবাদীরা।

চরমপন্থীরা এই পার্থক্য করে জাতিকে বিভাজন করছেন। এর আগে বাংলাদেশে এই বিভাজন ছিল না। সবাই অসাম্প্রদায়িক বন্ধনের মধ্যে ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করতেন। সবাই একই পতাকায় আছি এই বিশ্বাস ছিল সকলের মনে। সম্প্রতি তা ভেঙ্গে যাচ্ছে।

বাঙ্গালির জাতীয় চরিত্র নস্যাৎ করার জন্যই এ ধরনের কপটতা চালানো হচ্ছে বলে প্রতীয়মান হয়। একই হাতে মসজিদে টাকা দেওয়া হয়, আবার সেই হাত দিয়েই ঘুষ নেওয়া হয়, সেই একই হাতে চালানো হয় তলোয়ার। বিভাজনের ভেতর বিভাজন সৃষ্টির কাজ চলছে চারদিকে। সেই রক্তে রাঙ্গানো ভাইরাই এখন আমাদের চারপাশে বাস করে। তবে এখন আর তারা ভাই নেই।

অসাম্প্রদায়িকতার আমরা সবাই ভাই বোন। এতে কারো ঈশ্বর থাকুক বা না থাকুক, একেকজন একেক রকম ধর্মগ্রন্থ ব্যবহার করুক, তারা একজন অপরজনের ধর্মগ্রন্থের ভাষা বুঝুক বা না বুঝুক।

আমরা এসব আত্ম বিধ্বংসী ফ্যাসিস্টদের দলকে আর এদেশে থাকতে দিতে পারি না। যদি আমরা এ ধরনের সহিংতা চলতে দেই তবে ধরেই নিতে হবে আমরা অনিবার্যভাবে আমাদের যুদ্ধে হেরে যাবো।
সূত্র : ঢাকা ট্রিবিউন হতে অনুবাদকৃত

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful