Templates by BIGtheme NET
আজ- মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০ :: ১৪ আশ্বিন ১৪২৭ :: সময়- ১ : ৩৪ অপরাহ্ন
Home / খোলা কলাম / মৃত্যু পরোয়ানার পর

মৃত্যু পরোয়ানার পর

anis-alamgir-আনিস আলমগীর : বাংলাদেশসহ উপমহাদেশের সিনেমায় আদালতের বিচার কাজ দেখাতে গিয়ে প্রায় দেখানো হয়, শেষ দৃশ্যে একজন মহান সাক্ষী হাজির হয়। সে সাক্ষী রায় দেওয়ার শেষ মুহূর্তে চিৎকার দিয়ে বলে উঠেন, ‘থামেন মাননীয় আদালত। আমার কিছু বলার আছে।’ বিচারক তখন মৃত্যুদ- দূরে থাক—ওই সাক্ষীর কথায় সন্তুষ্ট হয়ে আসামিকে বেকসুর খালাস দিয়ে দেন।

যুদ্ধাপরাধের মামলায় সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর সর্বশেষ কর্মকান্ড দেখলে মনে হয় সাকা গংরা বাস্তবের আদালতকেও সিনেমার আদালত বিবেচনা করেছেন। তাই বিচার শেষ করে ফাঁসির দড়িতে যখন তেল লাগানো হচ্ছে তখন সাকার আইনজীবী ৫ পাকিস্তানিকে আনতে চাচ্ছেন সাফাই সাক্ষী হিসেবে। এই আইনজীবী সুপ্রিম কোর্টের একজন প্রবীণতম আইনজীবী। তিনি বলেছেন, শাসনতন্ত্র অনুসারে সুপ্রিম কোর্ট এটা নাকি করতে পারে। তিনি আবার বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টাও।

বিএনপি দেশের প্রায় সব প্রতিষ্ঠানে অরাজকতার সৃষ্টি করেছে। উপদেষ্টা সাহেবের কথামতো সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরে রিভিউয়ের সময় সাফাই সাক্ষী গৃহীত হলে এবার আদালতেও আরেক অরাজকতার সৃষ্টি হবে। কারণ সাক্ষী নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে আদালতকে তার নিজের রায় বাতিল করে দিতে হয়। এপেক্স কোর্টে সাক্ষী হয় না। সাক্ষীর জন্য ট্রায়াল কোর্টে পাঠাতে হবে। আর ট্রায়াল কোর্ট সাক্ষী নিতে সম্মত হলে তার পূর্ব রায় বাতিল করতে হবে।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে কোর্ট কেন রাজি হবে এই তামাশা করতে। এইভাবে সাক্ষ্য-প্রমাণ উত্থাপনের নজির কোনও দেশীয় আদালতে বা আন্তর্জাতিক আদালতে নেই। বিচার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য সাকার পক্ষে এক হাজার ১৫৩ জন সাক্ষীর তালিকা দেওয়া হয়েছিল। সেখান থেকে পাঁচজনকে বাছাই করা হয়েছিল। এর মধ্যে একজন সাকা চৌধুরী নিজে। পত্রিকায় দেখলাম, সাকা চৌধুরীর আইনজীবী হুজ্জাতুল ইসলাম খান জানিয়েছেন, ওই এক হাজার ১৫৩ জনের মধ্যে পাকিস্তানি ৪ সাক্ষীর নাম আগেও প্রস্তাব করা হয়েছিল।

সবাই জানি সাকাকে আন্তর্জাতিক মানবতাবিরোধী অপরাধ ট্রাইবুনাল যুদ্ধাপরাধে মৃত্যুদ- দিয়েছিল। সুপ্রিম কোর্টে তিনি আবেদন করেছিলেন। সুপ্রিম কোর্ট মৃত্যুদ-ের আদেশ বহাল রেখেছে। এখন তারা রিভিউ পিটিশন পেশ করেছেন। আগামী ২ নভেম্বর ২০১৫ তারিখে তার শুনানি হবে। জানা গেছে, এই শুনানির সঙ্গে হয়তো সাফাই সাক্ষীর আবেদনেরও শুনানি হতে পারে।

নিয়তির লিখন পাগলামি করে খ-ন করা যায় না। সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর এতোসব নতুন নাটকের প্রধান কারণ হচ্ছে তিনি দাবি করতে চান, ১৯৭১ সালের মার্চ থেকে ‘৭৪ সাল পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশে ছিলেন না। আর দেশে না থাকলে যেসব হত্যাকান্ডে তার ফাঁসি হয়েছে তা থেকে তিনি রেহাই পেয়ে যাবেন। বাস্তবে ১৯৭১ সালে যুদ্ধকালে তিনি দেশেই ছিলেন। তিনি দেশে ছিলেন না, এই দাবি আদালতে সবৈব মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। সাকা যুদ্ধকালে একবার চট্টগ্রাম শহরের চন্দনপুরায় ডা. সমিউদ্দিনের বাসায় দাওয়াত খেতে গিয়েছিলেন। মুক্তিযোদ্ধারা তার মুভমেন্ট ফলো করে তাকে আসার পথে আক্রমণের প্রস্তুতি নিয়ে বসে ছিলেন। ওই বাসা থেকে ফেরার পথে মুক্তিযোদ্ধারা তার গাড়ি লক্ষ্য করে যথারীতি আক্রমণও করেছিল। সেই আক্রমণে সাকার গাড়ির ড্রাইভার গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়। সাকা প্রাণে রক্ষা পেলেও আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজে তিনি চিকিৎসা নেন। এসবের দলিল আদালতে উত্থাপন করা হয়েছে। সুতরাং তিনি যে ছিলেন না এই দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। ১৯৭১ সালে যারা সাকা এবং তার বাবার টর্চার সেলে আক্রমণের শিকার হয়েছিলেন তারাও সাক্ষী দিয়েছেন সাকার বিরুদ্ধে।

সাকা চৌধুরী এমন কোনও অস্ত্র নেই তার পক্ষে ব্যবহার করছেন না। রায় সরকার নির্দেশিত এমনটা প্রমাণের জন্য বিচারপতির অফিসের কম্পিউটার থেকে রায়ের আংশিক কপি বের করা, সরকারি আইনজীবীদের এবং প্রধান বিচারপতিদেরকে বিতর্কিত করার চেষ্টা—সবই করেছেন। সর্বশেষ আন্তর্জাতিকভাবে ট্রাইব্যুনালকে বিদেশে বিতর্কিত করারও চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের আদালতের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদ- রহিত করার জন্য দেশে বিদেশে ক্যাম্পেইনও শুরু করেছেন তার অনুগত এবং কেনা লোকদের দিয়ে। মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের গণহত্যা একটা ঐতিহাসিক সত্য। এটাকে কোনও ইনোসেন্ট দৃষ্টিভঙ্গিতে পর্যালোচনা করার সুযোগ নেই। সাকার অনুসারী গোষ্ঠী মৃত্যুদন্ডের বিরুদ্ধে ক্যাম্পেইন করে গণহত্যা, নির্যাতনকে সহজ করে দেখাতে চাচ্ছেন।

সত্য কথা বললে বলতে হয় আজকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি ট্রাইব্যুনাল গঠন করেছেন এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করছেন। যদি বাংলাদেশ স্বাধীন না হতো, মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তির জয় হতো—তারাও এ রকম ট্রাইব্যুনাল গঠন করতেন এবং বঙ্গবন্ধু, তাজউদ্দিন, সৈয়দ নজরুল, মনসুর আলী, কামরুজ্জামান, জেনারেল ওসমানী প্রমুখের বিচার করতেন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে মিত্র শক্তি নুরেমবার্গ ট্রাইব্যুনাল, টোকিও ট্রাইব্যুনাল, ম্যানিলা ট্রাইব্যুনাল গঠন করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করে এবং জেনারেল তোজো হিদেকি, মুসলিনি প্রমুখকে মৃত্যুদ- দিয়েছিল। যদি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানি জোটের বিজয় হতো তবে তারাও ট্রাইব্যুনাল গঠন করে প্রেসিডেন্ট হ্যারি ট্রুম্যান, প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল, জোসেফ স্ট্যালিন, জেনারেল বার্নাড মন্টোগুমারি, জেনারেল আইজেনআওয়ার প্রমুখের বিচার করতো এবং উনাদেরও মৃত্যুদ- অবধারিত ছিল। এটাই বিজয়ীদের স্বভাব, পরাজিতদের নিয়তি।

বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের অপরাধ স্বজাতির স্বাধীনতার বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর অপরাধ। মানুষ হত্যা না করলেও এটা জাতির সঙ্গে বেঈমানি। ১৭৫৭ সালে সিরাজুদ্দোলা যদি জিতে যেতেন, মীর জাফরের কি মৃত্যুদ- হতো না?

গত ২৮ সেপ্টেম্বর রাজধানীতে দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত হন ইতালির নাগরিক তাবেল্লা সিজার। সপ্তাহ না গড়াতেই ৩ অক্টোবর রংপুরে একই কায়দায় খুন হন জাপানি নাগরিক ওসি কুনিও। গত ২২ অক্টোবর রাজধানীর গাবতলীতে পুলিশ চেকপোস্টে কর্তব্যরত অবস্থায় খুন হন এএসআই ইব্রাহিম মোল্লা। এরপর ২৩ অক্টোবর রাতে পুরান ঢাকায় হোসেনি দালানে গ্রেনেড হামলায় সাজ্জাদুল হক সানজু নামের এক কিশোর নিহত হন, আহত হন শতাধিক। এর সব কিছুকে গোয়েন্দারা এক কাতারে ফেলতে চাচ্ছেন।

গোয়েন্দাদের ভাষ্য দেশের আইন-শৃক্সখলা পরিস্থিতিকে বিনষ্ট করা, বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করাই হচ্ছে এসবের উদ্দেশ্য। তাবেল্লা সিজার হত্যার ঘটনায় ধৃত একজন স্বীকারোক্তি দিয়েছেন কথিত বড় ভাইয়ের নির্দেশে তারা সাদা চামড়া বলেই তাবেল্লাকে হত্যা করেছে। আর ভাবার বিষয় হচ্ছে, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী এবং আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদের যুদ্ধাপরাধের রায় সুপ্রিম কোর্ট থেকে লিখিতভাবে প্রকাশিত হওয়ার পর পরই শুরু হয়েছে এসব অপতৎপরতা। গোয়েন্দারা মনে করছেন, দেশব্যাপী শান্তি-শৃক্সখলা ভঙ্গ করে একটা অস্থিরতা সৃষ্টির জন্য যুদ্ধাপরাধী গোষ্ঠী ও তাদের রাজনৈতিক দল উঠে পড়ে লেগেছে। এসবের পেছনে তারাই আছে।

লেখক: সাংবাদিক

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful