Templates by BIGtheme NET
আজ- রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০ :: ১২ আশ্বিন ১৪২৭ :: সময়- ৬ : ১৬ পুর্বাহ্ন
Home / টপ নিউজ / সাভার ট্রাজেডি: রংপুরের ৬ জেলায় ৪৩ জনের মৃত্যু; নিখোঁজ দুই শতাধিক

সাভার ট্রাজেডি: রংপুরের ৬ জেলায় ৪৩ জনের মৃত্যু; নিখোঁজ দুই শতাধিক

সেন্ট্রাল ডেস্ক: সাভার ট্রাজেডির ঘটনায় রংপুর বিভাগের ৬ জেলায় সর্বশেষ খবর পাওয়া  পর্যন্ত ৪৩ গার্মেন্টস কর্মী নিহত হয়েছে । আহত হয়েছে প্রায় ১০০ জন এবং নিখোজ রয়েছে দুই শতাধিক।

জানাগেছে, এ দুর্ঘটনায় রংপুরের ১৪ জন, গাইবান্ধার ১৬ জন, দিনাজপুরে  ৫ জন, লালমনিরহাটে ৪ জন, কুড়িগ্রামে ১ জন এবং ঠাঁকুরগাওয়ের ৩ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

রংপুর: সাভার ট্রাজেডির ঘটনায় ১৪ গার্মেন্টস কর্মী নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত হওয়াগেছে। নিখোজ রয়েছে শতাধিক। রংপুরের নিহত এবং নিখোজ পরিবারে চলছে এখন শোকর মাতম। স্বজনদেরে আহাজারিতে সেখানকার বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে।

শনিবার সকাল পর্যন্ত যাদের নিহত হওয়ার খবর পাওয়াগেছে তারা হলো, মিঠাপুকুর উপজেলার হযরতপুর ইউনিয়নের সেরুডাঙ্গা বাজার সংলগ্ন নওপাড়া গ্রামের মৃত বাবু মিয়ার কন্যা দুলালী বেগম, ভাংনী ইউনিয়নের পাকুরিয়া গ্রামের হাফিজার রহমানের মেয়ে হামিদা বানু (২৭) ও রানীপুকুর ইউনিয়নের নাসিরাবাদ গ্রামের আবুল কাশেমের স্ত্রী গোলসেনা খাতুন, খোড়াগাছ মন্ডলপাড়ার রাবেয়া বেগম লাইজু, দুর্গাপুর ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামের সোহরাব হোসেনের কন্যা আরজিনা বেগম, রানীপুকুর ইউনিয়নের নাসিরাবাদ কাশেমের স্ত্রী গুলশানারা বেগম, বড়হযরতপুরের মাঝগ্রাম মাঠেরহাট গ্রামের রফিকুলের পুত্র আবদুল বাতেন,  বালাহাট ইউনিয়নের সংগ্রামপুর গ্রামের আনছার আলীর পুত্র মোরশেদুল ইসলাম, একই ইউনিয়নের কঞ্চিপাড়া গ্রামের নেহজুল ইসলামের স্ত্রী শ্যামলী বেগম, ভাংগী ইউনিয়নের শেরপুর গ্রামের ইউসুফ আলীর পুত্র শফিকুল ইসলাম, ময়েনপুর ইউনিয়নের ফুলচৌকি গ্রামের সুশীল চন্দ্রের পুত্র বুলু মিয়া, রংপুর সদর উপজেলার নজিরদিগর নয়াপাড়া এলাকার খলিলের পুত্র রেজাউল ইসলাম, বদরগঞ্জ উপজেলার রামনাথপুর ইউনিয়নের সিট লক্ষ্মণপুর এলাকার জাহেদুলের স্ত্রী মোহছিনা বেগম, কুতুবপুর ইউনিয়নের শওকত আলীর মেয়ে লিপি খাতুন, লোহানীপাড়া ইউনিয়নের কাঁচাবাড়ী সরকারপাড়ার আয়নাল হকের স্ত্রী গোলাপী বেগম।

এদিকে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মিঠাপুকুরের বড় হযরতপুর ইউনিয়নের মাঝগ্রামের রফিকুল ইসলামের পুত্র বাতেন মিয়া ও পুত্রবধূ মেঘলা, খোড়াগাছ ইউনিয়নের জারুল্যাবাদ গ্রামের নজরুল ইসলামের মেয়ে আনজুয়ারা, বদরগঞ্জের ওসমানপুর এলাকার মুন্সীপাড়ার আজাদের স্ত্রী বুলবুলি বেগম, শরিফুল ইসলামের স্ত্রী শাহিনা নূপুর, চৌধুরীপাড়ার জফির উদ্দিনের স্ত্রী সুফিয়া বেগম, আমজাদ হোসেনের স্ত্রী মনজিলা বেগম, ছেলে আউয়াল, খুটুপাড়ার ইসমাঈল হোসেনের ছেলে কবীর, আবদুর রাজ্জাকের ছেলে আবু সায়েদ, বানিয়াপাড়ার মোকছেদ আলীর ছেলে সাবলু মিয়া, লোহানীপাড়া ইউনিয়নের কাঁচাবাড়ী এলাকার চৌকিদারপাড়ার আবু কালামের মেয়ে রুবিনা বেগম, রাধানগর ইউনিয়নের দিলালপুর সুতারপাড়ার গুড়াতি পাগলার ছেলে নাসিম মিয়া, পৌর শহরের চাঁদকুঠি এলাকার আবদুর রাজ্জাকের ছেলে আবু সাঈদসহ এসব ইউনিয়নের শতাধিক নারী-পুরুষ নিখোঁজ রয়েছেন।

গাইবান্ধা: সাভারে বহুতল ভবন ‘রানা প্লাজা’ ধ্বসের ঘটনায় গাইবান্ধার ৭ উপজেলার ১৬ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়াগেছে। আহত অবস্থায় এসেছেন ৫০ জন নারী। গাইবান্ধা জেলারই শতাধিক নিখোঁজ রয়েছে বলে বিভিন্ন সুত্রে জানা গেছে।

গাইবান্ধা সদর উপজেলার বল্লমঝাড় ও পৌর এলাকার ৩ জন, সাদুল্যাপুরের দামোদরপুর ইউনিয়নে ২ জন, সুন্দরগঞ্জ পৌর এলাকার ১ জন, পলাশবাড়ীর ১ জন ও সাঘাটা উপজেলায় ২ জনসহ মোট ৮ জনের লাশ ইতিমধ্যে স্বজনরা পেয়েছেন। ইতিমধ্যে সাঘাটা উপজেলার চরপাড়ার মান্নানের মেয়ে মানি (২৪), বাজিত নগরের হাবিজারের ছেলে শিপন রাশেদ (২৫), সাদুল্যাপুরের দামোদপুর ইউনিয়নের বুড়িরভাটা গ্রামের রেবা খাতুন (২৪) ও জামুডাঙ্গা গ্রামের হাসিনা বেগম (২১) এর লাশ ইতিমধ্যে নিজ গ্রামে দাফন সস্পন্ন করা হয়েছে।

এ জেলারই শতাধিক নারী-পুরুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছে বলে জানা যায়। রানা প্লাজায় কর্মরত ব্যক্তিদের খোঁজে আত্মীয় স্বজনরা ইতিমধ্যে সেখানে গিয়ে অপেক্ষার প্রহর গুণছেন। যারা আহত হয়েছেন তাদের মধ্যে থেকে অনেকে জানিয়েছেন, বের হওয়ার সময় লাশ দেখে তারা কোনমতে জীবন ফিরে পেয়েছেন।

ঠাঁকুরগাও: সাভার ট্রাজেডির ঘটনায় ঠাঁকুরগাওয়ের রানীশৈংকল এলাকার শাহাদত, আলতাফ ও আঞ্জুমান নামে তিন জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়াগেছে। তাদের লাশ জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

শনিবার সকালে নিহত আলতাফের লাশ তার নিজ বাড়ি বলিদ্বারায় পৌঁছলে আত্মীয়-স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন।

পরে জানাযার নামাজ শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়। জানাযাতে রানীশংকৈল উপজেলার চেয়ারম্যান শইদুল হক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হক সহ অসংখ্য মানুষ অংশ নেয়।

এর আগে শুক্রবার রাতে একই গ্রামের নিহত আঞ্জুমান ও শাহাদাতের লাশও পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
এলাকাবাসী  জানায়, সাভারের রানা প্লাজায় ওই এলাকার আরো ২০/২২ জন কাজ করতো। তাদের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। এছাড়া  সুরুজ নামে অপর একজন ‍মৃত্যুর সাথে লড়াই করছে। তার অবস্থাও আশংকাজনক।

কুড়িগ্রাম: ২৭ মার্চ গ্রামের বাড়ি কুড়িগ্রামের কচাকাটা থানার বলদিয়া ইউনিয়নের শতিপুরি গ্রাম হতে ঢাকার পথে রওনা হওয়ার ঠিক পূর্ব মূহুর্তে পিতা মাতার জোরাজুরিতে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিতে হয়েছিলো আম্বিয়াকে। আর কিছুদিন অর্থ উপার্জন করে নিজ টাকায় বিয়ের প্রস্তুতি নিবে সে কিন্তু আম্বিয়ার সে স্বপ্ন পূরণ হলো না, তাকে ফিরতে হলো লাশ হয়ে।

চির রুগ্ন আমজাত হোসেনের অভাব অনটনের সংসারে ৩য় কন্যা আম্বিয়া অভাবের তাড়নায় ৭ম শ্রেণী পর্যন্ত লেখা পড়ার পাঠ চুকিয়ে প্রায় ৪ বছর আগে চাচার হাত ধরে কাজের খোজে চলে যায় ঢাকায়। সেই থেকে বিভিন্ন গার্মেন্টসে সেলাইয়ের কাজ করে সচল রাখে দরিদ্র পিতার সংসার। তার স্বপ্ন ছিলো দরিদ্র পিতামাতার সংসার সচ্ছল অবস্থায় ফিরেয়ে এনে বিয়ের পিড়িতে বসার। বাড়ির সামনে সদ্য দেয়া কবর দেখিয়ে কেঁদে ফেললেন রুগ্ন আমজাত হোসেন। শত দুঃখের মাঝে আম্বিয়ার বাবা তার স্ত্রী লাইলি বেগমকে সান্ত্বনা দিতে শোনা যায়, কান্দিস না মেয়েটার তো লাশ পাইছি, কতক বাপ মা তো এলাও লাশ পায় নাই,পাবে কিনা তারও ঠিক নাই।

লালমনিরহাট: সাভারের রানা প্লাজা ধস ট্র্যাজেডিতে নিহত লালমনিরহাটের হাতীবান্ধার চার শ্রমিকের লাশ রোববার দুপুরে দাফন করা হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন হাতীবান্ধার অন্তত ১৫ জন শ্রমিক।
দাফন সম্পন্ন শ্রমিকরা হলেন, হাতিবান্ধা উপজেলার তিস্তা ব্যারাজ সীমান্ত বাজার এলাকার লাভলী আক্তার (৩০), গোলাপী আক্তার (২২), শান্তি খাতুন (২০) ও ঘুন্টিঘর গ্রামের সাজেদা বেগম (২৬)। নিহত শ্রমিকদের লাশ সকালে গ্রামের বাড়ি পৌঁছালে শোকের ছায়া নেমে আসে। কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনরা। দুপুরে নিহতদের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
এদিকে, ওই গ্রামের আরো ১৫ জন শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন বলে এলাকাবাসী দাবি করেছেন। নিখোঁজদের সন্ধান পেতে তীর্থের কাকের মতো অপেক্ষা করছেন স্বজনরা।

দিনাজপুর: ঢাকার সাভারে রানা প্লাজার ভবন ধ্বস ট্রাজেডিতে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলায় শোকের মাতম চলছে। এই উপজেলার বহুসংখ্যক গার্মেন্টস শ্রমিক হতাহত হওয়ায় বীরগঞ্জ এখন শোক নগরীতে পরিণত হয়েছে। এ পর্যন্ত ভবন ধ্বসে নিহত বীরগঞ্জ উপজেলার ৫ জনের লাশ দাফন করা হয়েছে। ১ জন আহতের চিকিৎসা চলছে, নিখোঁজ রয়েছে আরো ৩ জন।
উপজেলার শিবরামপুর ইউনিয়নের দিঘলপোহড়া গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য ফজলুল হকের একমাত্র পুত্র মোঃ সবুজ আহম্মেদ (২৪), সাতোর ইউনিয়নের দলুয়া গ্রামের মৃতঃ সুরত আলীর কন্যা মোছাঃ সায়লা আকতার (২০), মোছাঃ রোজিনা খাতুন (১৮), পাল্টাপুর ইউনিয়নের রাজিবপুর গ্রামের তোজ্জামেল হকের পুত্র মোঃ আবু হানিফ (৩৮) ও একই ইউনিয়নের ভোগডমা আদর্শপাড়া গ্রামের মোঃ আবেদ আলীর কন্যা মোছাঃ জবা আকতার (১৯) সাভারে রানা প্লাজায় ভবন ধ্বসে মারা গেছেন তাদের লাশ ধ্বংসস্তুপ থেকে আনার পর রোববার দাফন করা হয়েছে।
এই উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের ব্রাম্মনভিটা গ্রামের মোঃ আব্দুল কাদেরের পুত্র মোঃ সোলায়মান আলী (২৮), বৌমা মুন্নি আকতার (১৯) ও সাতোর ইউনিয়নের দলুয়া গ্রামের মতিয়ার রহমানের কন্যা সাবিনা ইয়াসমিন (২১) ঘটনার দিন থেকে নিখোঁজ রয়েছে।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful