Templates by BIGtheme NET
আজ- রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২০ :: ৫ আশ্বিন ১৪২৭ :: সময়- ৫ : ৩৩ অপরাহ্ন
Home / টপ নিউজ / লাল ফিতায় বন্দি রংপুরের খালাশপীর কয়লাখনির ভাগ্য

লাল ফিতায় বন্দি রংপুরের খালাশপীর কয়লাখনির ভাগ্য

স্টাফ রিপোর্টার: রংপুরের পীরগঞ্জের খালাশপীর কয়লাখনির ভাগ্য দীর্ঘ বছর ধরেলাল ফিতায় বন্দি হয়ে আছে। সকল পরীক্ষা-নীরিক্ষা শেষে মাইনিং লিজের জন্য ২০০৬ সালে আবেদন করা হলেও কয়লা নীতি চুড়ান্ত না হওয়ায় লাল ফিতায় বন্দি হয়ে আছে দেশের উন্নতমানের এই কয়লা খনিটির ভাগ্য। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলেছে, কয়লা নীতি না হওয়ায় এ ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত নেয়া যাচ্ছে‌ না।

অবশ্য বিদ্যুৎ জ্বালানী ও খনিজ সম্প‌দ মন্ত্রণালয় সম্প‌র্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সুবিদ আলী ভুঁইয়া বলেছেন- “যতদিন না পৃথক কয়লা নীতি প্রণয়ন করা করা হচ্ছে‌ না ততদিন পর্যন্ত বিদ্যমান ১৯৯৫ সালের জাতীয় জ্বালানী নীতিমালায় খালাশপীর কয়লা খনি হতে কয়লা উত্তোলন করা সম্ভব।”

তিনি বলেন বিদ্যমান নীতিমালা দিয়ে যদি বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি উত্তোলন কাজ হতে পারে, তাহলে খালাশপীর কয়লা খনি কেন নীতিমালার অযুহাতে আটকে রাখতে হবে ? উল্লেখ্য, পীরগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে ১২ কিলোমিটার পশ্চিমে মদনখালী ইউনিয়নে খালাশপীর কয়লা খনির অবস্থান।

বিগত ১৯৫৯ সাল থেকে ৬২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তান ভু-তাত্বিক জরিপ অধিদপ্তর (জেএসবি) পরীক্ষা নিরীক্ষার পর খনিটির অবস্থান নির্ণয় করে। পরে বাংলাদেশ জিএসবি ১৯৮৯-১৯৯০ সালে খনি এলাকায় ৪ টি পৃথক কুপ খনন করে ৩টিতে ২৮৪ মিটার থেকে ৪৮০ মিটার গভীরতায় উন্নত মানের বিটুমিনাস গোত্রের কয়লার অবস্থান সম্প‌র্কে নিশ্চিত হয়।

খালাশপীর কয়লা প্রকল্পের প্রধান প্রকৌশলী এমদাদুল হক জানিয়েছেন, ২০০৩ সালে সরকারে কাছে আবেদনের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যুরো অব মিনারেল ডেভেলপমেন্ট হোসাব কনসর্টিয়াম ও চায়না সেনউইন মাইনিং গ্রুপকে খালাশপীর কয়লা খনির সমীক্ষার জন্য লাইসেন্স প্রদান করা করে।

লাইসেন্স প্রাপ্তির পর হোসাফ কনসোর্টিয়াম এবং সেনউইন মাইনিং গ্রুপ ট্রপোগ্রাফিক্যাল সার্ভে এবং দ্বি-মাত্রিক ও ত্রি-মাত্রিক সিসমিক সার্ভে করে। ওই সার্ভের মাধ্যমে কয়লার মজুদ, খনির পুরুত্ব, গভীরতা, চ্যুতি ও কয়লার বিস্তৃতি এবং স্তর সম্প‌র্কে সমীক্ষা চালানো হয়। এছাড়া ভারতের জিওটেক কোম্পা‌নী ১৪ টি অনুসন্ধান কুপ খনন করে সমীক্ষা চালায়।

সমীক্ষায় দেখা যায়, ১২.২৫ বর্গ কিমি এলাকায় বিস্তৃতি খনিটিতে কয়লার স্তর রয়েছে মোট ৮ টি। ৮ স্তর বিশিষ্ট এ খনির গভীরতা ২২২ মিটার থেকে শুরু করে ৬০৭ মিটার গভীরতায় অবস্থান করছে। গড়ে ২৬৫ মিটার থেকে শুরু হয়ে ৩৮৭ মিটারে শেষ হয়েছে। এর মধ্যে ১.২ ও ৪ স্তর অধিকতর বিস্তৃত ও পুরু। এই খনিতে সম্ভাব্য মজুদের পরিমান ধারণা করা হচ্ছে‌ ৪৫২ মিলিয়ন টন।

এর মধ্যে প্রমানিত মজুদ ২৭৭ মিলিয়ন টন এবং অতিরিক্ত আরও ১৭৫ মিলিয়ন টন মজুদ সম্ভাবনাময় ধরা হয়েছে। এই খনিতে বিটুমিনাস গোত্রের এ কয়লার অবস্থান নির্ণয় করা হয়েছে। যার দহন ক্ষমতা ১ হাজার ৫’শ বৃটিশ থার্মাল ইউনিট (বিটিইউ); মজুদ কয়লার কোন কোন স্তরে কোকিং কোল নামের এক ধরনের কয়লা রয়েছে যা দিয়ে যে কোন ধাতু গলানো সম্ভব।

খনির ভু-তত্ত্ববিদ অনুপ কুমার জানান, পরিবেশের সঙ্গে ভারসাম্য রেখে ভু গর্ভস্থ পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন করা হলে প্রকৃতির কোন ক্ষতি হবে না। হোসাফ গ্রুপ ২০০৬ সালের আগষ্ট মাসে কয়লা খনির সমীক্ষা প্রতিবেদন(ফেসিবিলিটি রিপোর্ট) সরকারের কাছে জমা দিয়ে মাইনিং লীজের জন্য আবেদন করেছে।

খনিটির ভু গর্ভস্থ( আন্ডার গ্রাউন্ড মাইনিং) পদ্ধতিতে উত্তোলনের জন্য সরকারে কাছে আবেদন জমা দেয়া হয়েছে। এই পদ্ধতিতে শতকরা ২০ থেকে ৩৫ ভাগ পর্যন্ত কয়লা উত্তোলন করা সম্ভব হবে।। প্রাথমিকভাবে বছরে ৩ মিলিয়ন টন কয়লা উত্তোলনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে। বিগত তত্ত্ব‌বধায়ক সরকারের সময় খনিজ উন্নয়ন অধিদপ্তরকে সমীক্ষা প্রতিবেদনটি মুল্যায়নের জন্য দায়িত্ব দেয়া হয় ।

পরে পেট্রোবাংলার হাইড্রোকার্বন ইউনিটের মাধ্যমে আইএমসিএল নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেয়া হয় হোসাফের জমা দেয়া ষ্ট্যাডি রিপোর্টটি মুল্যায়ন করার জন্য। আইএমসিএল এটির মুল্যায়ন কাজ শেষ করে ২০০৯ সালের সেপ্টেম্বরে জমা দেয়। এতে হোসাফের জমা দেয়া ফেসিবিলিটি রিপোর্ট যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে আরও কিছু কাজ করার জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।

একটি বিস্বস্ত সুত্র জানায়, সুপারিশের মধ্যে রয়েছে, খনি উত্তোলন করা হলে সামাজিক, কারিগরি আর্থ সামাজিক অবস্থায় কি প্রভাব পড়বে ? তা নির্ধারন করার জন্য বলা হয়েছে। কিন্তু সেই রিপোর্ট জমা দেয়ার পর আজ পর্যন্ত হোসাফকে জানানো হয়নি। পেট্রোবাংলার সাবেক পরিচালক মকবুল-ই-এলাহী জানান, খালাশপীর কয়লা খনির মজুদকৃত কয়লা বড় পুকুরিয়ার চেয়েও অনেক উন্নত। দেশের বর্তমান জ্বালানীর যে অবস্থা তাতে খালাশপীর কয়লা খনির কাজ দ্রুত এগিয়ে নেয়া দরকার।

তিনি আরও বলেন, যত দ্রুত সম্ভব হোসাফ গ্রুপকে বিষয়টি অবহিত করে কঠোর নজরদারির মাধ্যমে দ্রুততম সময়ে কাজ সম্প‌ন্ন করে নেয়া উচিত। পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান ড. হোসেন মনসুর জানিয়েছেন, “কয়লা এখন স্প‌র্শকাতর ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। সে কারনে আমরা বিষয়টি নিয়ে সাবধানে অগ্রসর হচ্ছি‌।” মাটির নিচে সম্প‌দ রেখে ঘুমিয়ে লাভ নেই।

বিগত নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওয়াজেদ স্থানীয় পীরগঞ্জ সরকারি উচ্চ‌ বিদ্যালয় মাঠে এক নির্বাচনী জনসভায় ক্ষমতায় গেলে খালাশপীর কয়লা খনি উত্তোলনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ওই নির্বাচনে জননেত্রী শেখ হাসিনা বিপুল ভোটে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন।

আওয়ামীলীগ সরকার গঠনের পর শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হওয়ায় এলাকাবাসী আশায় বুক বাধেন। তাই সাধারণ মানুষ বর্তমান মেয়াদে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত খালাশপীর কয়লা খনি থেকে শিগগিরই কয়লা উত্তোলনের ঘোষণাসহ রাস্তাঘাট নির্মাণের দাবী জানিয়েছেন।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful