Templates by BIGtheme NET
আজ- বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২০ :: ১৫ আশ্বিন ১৪২৭ :: সময়- ৯ : ২৮ অপরাহ্ন
Home / টপ নিউজ / রংপুর কলেজ কর্তৃপক্ষ কি আর একটি ‘জগন্নাথ হল ট্রাজেডি’ বা ‘সাভার ট্রাজেডি’র জন্য অপেক্ষা করছেন?

রংপুর কলেজ কর্তৃপক্ষ কি আর একটি ‘জগন্নাথ হল ট্রাজেডি’ বা ‘সাভার ট্রাজেডি’র জন্য অপেক্ষা করছেন?

শাহ্‌ রিয়াদ আনোয়ার শুভ, গণমাধ্যম কর্মী ও ব্লগার

প্রায় দেড়শো বছরের পুরোনো জরাজীর্ণ এই পুরাতন ভবনটি ‘শহীদ মোসলেম উদ্দিন’ ছাত্রাবাস। যা রংপুর সরকারী কলেজের এক মাত্র বয়েজ হোস্টেল। মুক্তিযুদ্ধে শহীদ কলেজের শিক্ষার্থী মোসলেম উদ্দিনের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে এই ছাত্রাবাসের নামকরণ করা হয় ‘শহীদ মোসলেম উদ্দিন’ ছাত্রাবাস। কলেজ ক্যাম্পাস থেকে প্রায় দেড় কিমি দূরে শহীদ মোবারক সরণীতে (সেন্ট্রাল রোড) অবস্থিত এই ভবনটি ছিল বিখ্যাত জমিদার গুরু প্রসন্ন লাহিড়ীর বাসভবন।

ছাত্রাবাসে গেলে দেখা যায় জরাজীর্ণ এই ভবনটিতে মৃত্যুকে সঙ্গী করে ঝুঁকি নিয়ে ওই ভবনটিতে থাকছেন কলেজের ৬০ জন শিক্ষার্থী। বিভিন্ন কক্ষ ঘুরে দেখা যায়, কক্ষগুলোর ভেতরে স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ, নেই পর্যাপ্ত আলো। দেয়াল জুড়ে জন্মেছে নানা আগাছা, পলেস্তারা খসে পড়া দেয়ালের ইট উঁকি দিচ্ছে। কোনো কোনো কক্ষে নেই জানালা। দরজাগুলো আছে নামমাত্র। বসবাসের অনুপযোগী ওই কক্ষগুলোতে দুই থেকে চারজন করে ছাত্র থাকছে। ২য় তলার একটি কক্ষে গিয়ে দেখা যায়, ছাদের নিচে বড় ত্রিপল দিয়ে রাখা হয়েছে। কারণ, বৃষ্টি হলেই ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে। এক কথায় বয়সের ভারে ন্যুব্জ এক কালের এই জমিদার বাড়ি ধসে পরবে যে কোন মুহূর্তেই। আর কলেজ কর্তৃপক্ষ যেন আর একটি জগন্নাথ হল বা সাভার ট্রাজেডির জন্য অপেক্ষা করছেন!!

ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে এই ভবনটিকে গণপূর্ত বিভাগ পরপর দুইবার পরিত্যক্ত ঘোষণা করে। পুরনো তারপরেও গত চার বছরে এই ছাত্রাবাস থেকে শিক্ষার্থীদের সরিয়ে নেয়ার কোন কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি কর্তৃপক্ষ। ঝুঁকিপূর্ণ এই ছাত্রাবাসে কেন ছাত্ররা অবস্থান করছে এমন প্রশ্নের জবাবে পরস্পর বিরোধী মন্তব্য করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ ও অবস্থানরত ছাত্ররা। ছাত্রদের বক্তব্য তাদের কাছ থেকে ‘মৃত্যুর জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়’, এমন মুচলেকা নেওয়া হয়েছে। আর মুচলেকা দিয়েই অর্থনৈতিক কারণে মৃত্যু ঝুঁকি নিয়ে এখনও এই ছাত্রাবাসে থাকছে শিক্ষার্থীরা। কেননা সরকারী রংপুর কলেজে নেই কোন ছাত্রাবাস। কিছু দিন আগে কলেজ ক্যাম্পাসে একটি মহিলা হল নির্মিত হলেও, এখন পর্যন্ত কার্যকর তেমন কোন পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যায়না ছাত্রদের জন্য ছাত্রাবাস নির্মাণের।

এদিকে এই ব্যাপারে কলেজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রায় চার বছর আগেই জরাজীর্ণ ভবনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে এটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে স্থানীয় গণপূর্ত বিভাগ। এরপর কলেজের পক্ষ থেকে পরিত্যক্ত ভবনে থাকতে ছাত্রদের বারণ করা হয়েছে। তার পরও ‘নিজ দায়িত্বে’ সেখানে থাকছে বেশ কিছু ছাত্র। মানবিকতার দিকটি বিবেচনা করে তাদের সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে না। তবে ‘মৃত্যুর জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়’ মুচলেকা নেয়ার কথা শিকার করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।

তবে স্থানীয় বাসিন্দা, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষকসহ বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, জমিসংক্রান্ত জটিলতার কারণে ভবনটি সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ করা যাচ্ছে না। আবার জমি হাতছাড়া হয়ে যাবে—এ আশঙ্কায় কর্তৃপক্ষ জোর করে ছাত্রদের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি থেকে বের করে দিচ্ছে না। বরং পরোক্ষভাবে ছাত্রদের অবস্থানের পথ খোলা রেখে দখল নিশ্চিত করে যাচ্ছে। ছাত্রাবাসের ২১ নম্বর কক্ষের ছাত্র মামুন উর রশিদ বলেন, ‘এখানে থাকতে ইচ্ছা করে না। কিন্তু তার পরও থাকতে হয়। মাসে ১০০ থেকে ১১০ টাকা দিয়ে এখানে থাকা যায়। আমরা এই ব্যাপারে দ্রুত সংশ্লিষ্ট দফতরের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানাই।’

ঐতিহাসিক ভবন : ভবনটি অগ্নিযুগের এক ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী। কিন্তু আমরা অনেকেই জানিনা কি সেই ঐতিহাসিক ঘটনা। ১৯৩০ সালে রংপুর জেলায় আইন অমান্য আন্দোলন জোরদার হয়। সে সময় এই অমান্য আন্দোলনের অন্যতম প্রধান সংগঠক ছিল কমরেড মণি কৃষ্ণ সেন। একই বছর অর্থাৎ ১৯৩০ সালে চট্টগ্রামে অস্ত্রাগার লুণ্ঠনের পর থেকেই বিপ্লবী সংগঠনগুলি অস্ত্র ও অর্থ সংগ্রহ শুরু করে। তার অংশ হিসেবেই বিপ্লবীরা রংপুরে জমিদার গুরু প্রসন্ন লাহিড়ীর বাসভবনের অস্ত্রাগার লুণ্ঠন করে। বিপ্লবীরা জমিদারের অস্ত্রাগার লুণ্ঠন করে সংগ্রহ করে চারটি রাইফেল ও পাঁচটি পিস্তল এবং হাজার রাউন্ড বুলেট। সবচেয়ে বিস্ময়কর যে, এই লুণ্ঠন সংঘটিত হয় জমিদার গুরু প্রসন্ন লাহিড়ীর দৌহিত্র ও কোনা লাহিড়ীর পুত্র শিবদাস লাহিড়ীর প্রত্যক্ষ সহযোগিতায়। সেই ঘটনার পর থেকে জমিদারদের অস্ত্রাগারের উপরে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে ইংরেজরা। কেননা এই ঘটনায় অনুপ্রাণিত হয়ে বাংলা জুড়ে জমিদার পরিবারের সদস্যরা অস্ত্র সংগ্রহে বিপ্লবীদের প্রতি সহযোগিতার হাত প্রসারিত করে।

ঠিক কবে ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছিল সে সম্পর্কে পরিষ্কার কোন তথ্য পাওয়া না গেলেও পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিশ্লেষণ করে জানা যায় কমপক্ষে দেড়শো বছর আগে এক একর জায়গা নিয়ে নির্মিত হয় বামনডাঙ্গা কালীধামের জমিদার গুরু প্রসন্ন লাহিড়ীর এই জমিদার বাড়ি। এক একরের মধ্যে ৫৪ শতক জায়গার ওপর নির্মাণ করা হয় ভবনটি। একসময় সেখানে ছিল নাইট কলেজ। ১৯৬৩ সালে রংপুর কলেজ প্রতিষ্ঠার পর এটি কিছুদিন কলেজ ক্যাম্পাস হিসেবে ব্যবহার করা হয়। কলেজ বর্তমান অবস্থানে সরিয়ে নেওয়ার পর ওই ভবনটি ছাত্রাবাস হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। শুরুতে ছাত্রাবাসে ১০০ ছাত্রের থাকার ব্যবস্থা ছিল। এখন কিছু কক্ষে আর কোনোভাবেই থাকার অবস্থা নেই। অন্য কক্ষগুলোতে এখন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেখানে ৬০ জন ছাত্র থাকে।

ছাত্রাবাস দখল এবং জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ : ছাত্রাবাসের ঠিক পাশেই রয়েছে আল জামেয়া আল সালাফিয়া মাদ্রাসা। এই মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ এবং সরকারী রংপুর কলেজ কর্তৃপক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে জমির মালিকানা নিয়ে। উভয় পক্ষই মালিকানা দাবী করে আসছে। এব্যাপারে মোসলেম উদ্দিন ছাত্রাবাসের হোস্টেল মনিটরিং কমিটির তৎকালীন আহ্বায়ক সহযোগী অধ্যাপক এআইএম মুসা এবং হোস্টেল সুপার মোঃ হারুন অর রশিদ অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলাদেশ নিউজ টুয়েন্টি ফোর ডট কমকে জানান, আল জামেয়া আল সালাফিয়া মসজিদ কমিটির সভাপতি এডভোকেট ইলিয়াস আহমেদের নেতৃত্বে কতিপয় সন্ত্রাসী বাহিনী তাদেরকে প্রতিনিয়ত হোস্টেল ছেড়ে যাওয়ার জন্য হুমকি প্রদান করে আসছে। এতে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

অপর দিকে একই প্রসঙ্গে আল জামেয়া আল সালাফিয়া মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ দাবি করে বলেন, এ জায়গাটি তাদের প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব জায়গা। এটিকে দীর্ঘদিন ধরে একটি মহল তার আয়ত্তে রেখে দখলের ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে। এনিয়ে প্রশাসনে নিকট অভিযোগও করা হয়েছে।

তথ্য সূত্র : কমরেড মণি কৃষ্ণ সেন জীবনী ও সংগ্রাম : মোতাহার হোসেন সুফী
রংপুরের বরেণ্য ব্যক্তিত্ব : রঙ্গপুর গবেষণা পরিষদ।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful