Templates by BIGtheme NET
আজ- রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০ :: ১২ আশ্বিন ১৪২৭ :: সময়- ১০ : ৪০ অপরাহ্ন
Home / টপ নিউজ / রংপুরে নবনির্মিত এতিম পুনর্বাসন কেন্দ্রে ভয়াবহ ফাটল: হস্তান্তর থেকে সরে আসলো এলজিইডি

রংপুরে নবনির্মিত এতিম পুনর্বাসন কেন্দ্রে ভয়াবহ ফাটল: হস্তান্তর থেকে সরে আসলো এলজিইডি

ফরহাদুজ্জামান ফারুক, স্টাফ রিপোর্টার: রংপুরের কাউনিয়ায় প্রায় ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত দু:স্থ এতিম প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্র এবং ছাবেরা খাতুন ইসলামিয়া শিশু সদনের তিনটি ভবনে ভয়াবহ ফাটল দেখা দেয়ায় আরেক সাভার ট্রাজেডির আশংকায় অবশেষে হস্তান্তর প্রক্রিয়া থেকে সরে আসলো এলজিইডি। রোববার হস্তান্তর করার জন্য তারিখ করা হলেও এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী, প্রকল্প পরিচালক, উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার, এসওও ঠিকাদাররা সদনে গিয়ে এতিমদের সাথে খাওয়া দাওয়ার পর ভবন পরিদর্শন শেষে ফাটলের কারণে হস্তান্তর না করেই ফিরে আসেন। এসময় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও ইয়াতিমদের তোপের মুখে পড়েন এই প্রকল্পে দুর্নীতি অনিয়মের মুল হোতা উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার মজিবর রহমান। এসময় তিনি সাংবাদিকদের কোন প্রশ্নের উত্তর না দিয়েই সদন কর্তৃপক্ষের সহায়তায় ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ নিয়ে এখন উদ্বিগ্ন সবাই। তারা এ ঘটনার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করেন।

রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার বল্লভ বিশু গ্রামে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুত এই শিশু সদন নির্মাণের জন্য সমাজসেবা অধিদপ্তরে অর্থায়নে এলজিইডির তত্ত্বাবধানে ৮ কোটি ৭৬ লাখ ৯৭ হাজার ৮৩০ টাকা ব্যয়ে ২ টি ৫ তলার ডরমেটরী এবং ১ টি ৪ তলার স্কুল কাম প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণের জন্য ২০১১ সালের ১ এপ্রিল দরপত্র আহবান করে এলজিইডি। টেন্ডারের মাধ্যমে ১ নং বিল্ডিংটি গাইবান্ধার সাইদুর রহমান, দ্বিতীয় বিল্ডিংটি রাজশাহীর বালিয়াপুকুর ঘোড়ামারা এলাকার আলম কনস্ট্রাকশন এবং তৃতীয় বিল্ডিংটির ওয়ার্ক অর্ডার পায় রংপুর মহানগরীর জুম্মাপাড়ার লাবু আহমেদ কার্যাদেশ পান। কিন্তু সাইদুর রহমান নিজে কাজটি করলেও আলম কনস্ট্রাকশন কাউনিয়ার মুন্না শফি এবং লাবু আহমেদ কাজটি লালমনিরহাটের জাহিনুরের কাছে বিক্রি করে দেন। প্রথম বিল্ডিংটি গতবছর বছর ২২ সেপ্টেম্বর, দ্বিতীয়টি ২ সেপ্টেম্বর এবং তৃতীয়টি হস্তান্তর করার কথা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, শিশু সদনের তিনটি ভবন নির্মাণে শুভঙ্করের ফাঁকি দেয়া হয়। এলজিইডির রংপুর অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী হাসান মাহমুদের যোগসাজশে উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার মজিবুর রহমানের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে এসও আমিনুল ইসলাম ও বশির উদ্দিন এবং ঠিকাদারি ৩ টি প্রতিষ্ঠান এতিমদের লালন-পালন সদনটির ভবন নির্মাণে নজিরবিহীন সব অনিয়ম দুর্নীতি করে। শিডিউল অনুযায়ী কোন কাজই করা হয় নি। দৈর্ঘ্যে ৩ ফিট ও প্রস্থে ২ ফিট ৬ ইঞ্চি ছোট করে বিল্ডিং নির্মাণ করা হয়। শিডিউলে বিল্ডিংয়ের গ্রেট বিম ও পিলারে ২০ মিলি রডের ডায়া দেয়ার কথা থাকলেও ১৮ মিলি রড এবং ছাদের ঢালাই সার্টারে ১০ মিলি রডের পরিবর্তে ৮ মিলি রড দেয়া হয়। দরজা জানালার ফ্রেমে সিলকড়ই অথবা চাপালিশা এবং পাল্লায় চিটাগাং টেক কাঠ দেয়ার থাকলেও তা অসার মাল্লা কাঠে তৈরির পর প্রাইম কোড দিয়ে রঙ্গিন করে লাগানো হয়। সিঁড়ির হাতলে চিটাগাং টেক কাঠের পরিবর্তে অসার ও কাচা মেহগনি কাঠ দেয়া হয়। কলাপসিবল গেট এবং দরজা জানালার গ্রীল শিডিউল বহির্ভূত এ্যাঙ্গেল রড এবং রেড অক্সাইড না দেয়ায় ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে।

এছাড়াও শিডিউল বহির্ভূত ভাবে ২ নম্বর ইট, নিম্নমানের সিমেন্ট, ডালিয়ার বালির পরিবর্তে পুকুরের নিম্নমানের বালি, সিমেন্টের পরিমাণ কম দিয়ে বালির পরিমাণ বেশী দেয়া এবং কিউরিং করা হয় নি।পানি সরবরাহের জন্য ৬ ইঞ্চি ব্যাসার্ধের আজিজ ন্যাশনাল পাইপ লাগানোর নির্দেশ থাকলেও ৪ ইঞ্চি ব্যাসার্ধের নিম্নমানের আনোয়ার পাইপ লাগানো হয়। পানি নিষ্কাশনের ড্রেনের ওয়াল ও সøাবও ভেঙ্গে যায়। জিইসি ডিলাক্স ফ্যানের পরিবর্তে টঙ্গির নিম্নমানের ন্যাশনাল ফ্যান, নিম্নমানের বৈদ্যুতিক সামগ্রী, বেসিন, টিউবলাইট, সোলার সিস্টেমে অনিয়ম করা হয়। ফলে বিল্ডিংটির ভেতরে এবং বাইরে পুরো শরীরে ভয়াবহ ফাটল ধরে। দরজা জানালা পচে যায়। পলেস্তারা খসে যায়।

এসব অনিয়মের বিষয় জানিয়ে সদনের সাধারণ সম্পাদক প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর, স্থানীয় সংসদ সদস্য, এলজিইডি এবং প্রকল্প পরিচালক বরাবরে লিখিত আবেদন করে। এছাড়াও ভবনটির অনিয়ম নিয়ে স্থানীয় ও জাতীয় পত্র পত্রিকা এবং টেলিভিশনে সংবাদ প্রচারের পর প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে নির্দেশের প্রেক্ষিতে এলজিইডি মন্ত্রণালয় একটি তদন্ত কমিটি করে। তদন্ত কমিটির প্রধান এলজিইডির রংপুর অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শরিফুজ্জামান প্রথম দফা ১৭ সেপ্টেম্বর এবং দ্বিতীয় দফায় ১০ ই অক্টোবর দিনভর তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেন। তদন্ত কার্যক্রম শেষ না হওয়ায় পরবর্তীতে আবারও তদন্তে যাবেন বলে সদনের সাধারণ সম্পাদককে জানান। কিন্তু আবেদন এবং তদন্ত কমিটি গঠিত হলেও সেদিকে ভ্রুক্ষেপ না করে এলজিইডি ফাইনাল বিল দেয় ঠিকাদারদের।

এমন প্রেক্ষিতে বিল্ডিংটি সংস্কার করে হস্তান্তরের জন্য প্রকল্প পরিচালক বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত আবেদন করেন। কিন্তু এলজিইডি ও ঠিকাদাররা ভবনের ফাটলসহ অন্যান্য বিষয়ে সংস্কার না করেই শুধু রং করে বিল্ডিংটি হস্তান্তরের দিনক্ষণ নির্ধারণ করে প্রকল্প পরিচালক ও সদন কর্তৃপক্ষকে লিখিত ভাবে জানায়। কিন্তু ফাটলসহ অনিয়মের বিষয়গুলো সেখানে দৃশ্যমান থেকে যায়। চিঠি পেয়ে গত ২৮ এপ্রিল রোববার সদন কর্তৃপক্ষ আমন্ত্রিত সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারী ও ঠিকাদারদের নিয়ে এতিম ও এলাকাবাসীর সাথে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল এবং মেজবানের আয়োজন করে। ওইদিন বেলা ২ টায় এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী হাসান মাহমুদ, প্রকল্প পরিচালক ও সমাজ সেবার ডিডি হারুণ-অর-রশিদ, কাউনিয়া উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার মজিবুর রহমান, এসও বশির আহমেদ, আমিনুল ইসলাম এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক কর্মচারীরা সদনে উপস্থিত হয়ে এতিমদের সাথে দুপুরের খাবার খান। এরপর নির্বাহী প্রকৌশলী বিল্ডিং ৩ টি পরিদর্শন শেষে ভয়াবহ ফাটলের চিত্র দেখে সদন কর্তৃপক্ষকে হস্তান্তর না করেই ফিরে যান। তিনি চলে যাওয়ার পর মোটর সাইকেল যোগে কাউনিয়া উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার মজিবুর রহমান ও এসও বশির আহমেদ পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তারা এতিম ও এলাকাবাসীর তোপের মুখে পড়েন। এসময় এলাকাবাসী তার কাছে জানতে চান কবে কখন কিভাবে বিল্ডিংটি হস্তান্তর করা হবে। কিন্তু উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার এ বিষয়ে কোন সদুত্তর দেন নি। এসময় সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকরাও তাকে বিল্ডিংয়ে অনিয়ম, বদলী ঠেকানো, অর্থ আত্মসাৎ, হস্তান্তর বিষয়ে প্রশ্ন করলে উত্তর দেয়া থেকে বিরত থাকেন। এতে উপস্থিত জনতা আরও বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার উপক্রম হলে সদনের সাধারণ সম্পাদক উপজেলা ইঞ্জিনিয়ারকে সেখান থেকে উদ্ধার করে পাঠিয়ে দেন।

সার্বিক বিষয়ে সদনে উপস্থিত নির্বাহী প্রকৌশলী হাসান মাহমুদ জানান, হস্তান্তর করার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল। সে অনুযায়ী আমরা এসেওছিলাম। এতিমদের সাথে খাওয়া দাওয়াও করেছি। কিন্তু ভবনে ফাটলসহ নির্মাণ কাজের ত্রটির বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ায় আপাতত হস্তান্তর হচ্ছে না। তিনি বলেন, সংস্কার সাপেক্ষেই বিল্ডিংটি হস্তান্তর হবে।

নির্বাহী প্রকৌশলী এ ধরনের বক্তব্য দিলেও ভবনের সুপারভিশন অফিসার ও কাউনিয়া উপজেলা সহকারী ইঞ্জিনিয়ার বশির আহমদে সাংবাদিকদের বলেন ‘ ভবনটি আগেই হস্তান্তর করা হয়েছে। আজ শুধু খাওয়া দাওয়ার আয়োজন ছিল। সেজন্যই আমরা এসেছিলাম।’

এলজিইডির একটি সূত্র জানায়, সাভার ট্রাজেডির পর নির্বাহী প্রকৌশলী বিল্ডিংগুলো হস্তান্তরে রিস্ক নিতে চান নি। সেকারণেই তিনি হস্তান্তর প্রক্রিয়া থেকে সরে আসেন।

অন্যদিকে সদনের সাধারণ সম্পাদক আমজাদ হোসেন জানান, প্রকল্প পরিচালক লিখিতভাবে জানানোর পর ২৮ এপ্রিল এলাকাবাসীর সহযোগিতা নিয়ে ভবনে দোয়া মিলাদ মাহফিল ও মেহমানদারীর আয়োজন করি। কিন্তু এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী বিল্ডিং পরিদর্শন শেষে হস্তান্তর না করেই চলে যান। যাওয়ার সময় নির্বাহী প্রকৌশলী আমাকে বলেন সংস্কার করার পরই বিল্ডিংটি হস্তান্তর করা হবে। সদন সাধারণ সম্পাদক বলেন, সাভারের ঘটনার পর এতিম এবং এলাকাবাসীর মনে দারুণ ভয় ঢুকে গেছে। শুরু থেকেই বিল্ডিংগুলো নির্মাণের ব্যাপারে অনিয়মের বিষয়টি আমরা বলে আসলেও এলজিইডি গায়ে লাগায় নি। তদন্ত কমিটি হলেও এখন পর্যন্ত তদন্ত শেষ হয় নি। রিপোর্টও দেয় নি। এখন এই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি যদি হস্তান্তর করা হয়, তবে এতিম শিশুদের কিছু হলে তার দ্বায় কে নিবে। দ্রুত বিল্ডিংটি সংস্কার করে হস্তান্তরের দাবী জানান তিনি। পাশাপাশি অনিয়ম ও দুর্নীতির সাথে জড়িতদের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি আহবান জানান তিনি।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful