Templates by BIGtheme NET
আজ- বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০ :: ৮ আশ্বিন ১৪২৭ :: সময়- ৪ : ৫১ পুর্বাহ্ন
Home / দিনাজপুর / দিনাজপুরে সহস্র বছরের পুরনো বিরল জল-স্থাপত্যের সন্ধান

দিনাজপুরে সহস্র বছরের পুরনো বিরল জল-স্থাপত্যের সন্ধান

দিনাজপুরে প্রতিনিধি:  প্রত্ন সম্পদে সমৃদ্ধ ঘোড়াঘাটের গোপালপুরে সন্ধান পাওয়া গেছে আনুমানিক খ্রি. ১০ম-১১শ শতকের ইট নির্মিত বিরল একটি স্থাপত্য। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের একটি গবেষণাদল খনন করে এই স্থাপত্যের সন্ধান পেয়েছেন। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের অর্থায়নে উচ্চ শিক্ষার মানোন্নয়ন প্রকল্পের অধীনে এখানে খননকাজ পরিচালিত হচ্ছে। প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. সৈয়দ মোহাম্মদ কামরুল আহছানের তত্ত্বাবধানে খনন পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছেন সহযোগী অধ্যাপক স্বাধীন সেন। উল্লেখ্য, একই প্রকল্পের অর্থায়নে এ উপজেলার বেলওয়া ও গোপালপুরে একইসাথে খনন পরিচালিত হচ্ছে গত ২৭ মার্চ থেকে।

খনন দলের পরিচালক স্বাধীন সেন জানান, গোপালপুরের স্থাপনাটি ইট নির্মিত একটি জলাধার। জলাধারটি আনুমানিক ৩৩ মিটার দীর্ঘ ও ২৮ মি. চওড়া। জলাধারটির পশ্চিম দিকে ইট নির্মিত ঘাটের ধ্বংসাবশেষের আলামত রয়েছে। তিনি আরও জানান যে, খননে প্রাপ্ত মৃৎপাত্রের বৈশিষ্ট্যাবলি খ্রি. ১০ম-১১শ শতকের। বাংলাদেশে এর আগে এই সময়কালের কোনো ইট নির্মিত জলাধারের সন্ধান পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, বাংলা ও বিহারসহ ভারতের বিভিন্ন প্রত্নস্থানে ইট বা পাথর নির্মিত জলাধার, ঘাট, ও কুয়ার মত জল-স্থাপনার সন্ধান পাওয়া গেছে। এই স্থাপনাগুলো বিভিন্ন কালপর্বের।
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে আলোচ্য সময়কালের অনেক পুকুর ও দীঘি এখনও টিকে আছে। সেগুলোর কোনো কোনোটিতে ইটের তৈরি ঘাটের নিদর্শনও এই গবেষকদল খুঁজে পেয়েছেন। তবে ইটের তৈরি এই সময়কালের কোনো স্থাপনার খোঁজ পাওয়া গেল এই প্রথম। এই অঞ্চলে এর আগে এই গবেষকদল প্রত্নতাত্তি্বক জরিপ পরিচালনা করেন ২০০৯ ও ২০১১ সালে।

এ প্রসঙ্গে স্বাধীন সেন জানান, জলাধারটি একটি মানব বসতির মধ্যে অবস্থিত। এই বসতিটি আনুমানিক ৯ম-১০ম শতকের যখন এই অঞ্চল বরেন্দ্র নামে পরিচিত ছিল। তখন বরেন্দ্রে পাল রাজবংশের শাসন চলছিল বলে ঐতিহাসিক বিভিন্ন সাক্ষ্য-প্রমাণে জানা যায়। আনুমানিক ২ বর্গ কিলোমিটার মাপের বসতি চারপাশ দিয়ে পরিখা দিয়ে ঘেরা ছিল।

গবেষকদল সেই পরিখাও শনাক্ত করেছেন। পরিখাঘেরা বসতির বিভিন্ন জায়গায় অনুচ্চ প্রত্নতাত্তি্বক ঢিবি ও প্রত্নতাত্তি্বক নিদর্শন ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। গবেষকদল এলাকাটির মানচিত্র তৈরি করছেন বলে গবেষক সাইফুর রহমান পলিন জানান। আলোচ্য এই স্থাপনাটির উপরে একটি ছোট ডোবার মত ছিল বলে স্থানীয় মানুষজন জানান। ১০-১২ বছর আগে তৎকালীন উপজেলা চেয়ারম্যান মরহুম কাজী আনিছুর রহমান চৌধুরী ঈদগাহ নির্মাণের জন্য এখানে খনন শুরু করলে স্থাপনাটি আংশিকভাবে উন্মোচিত হয়। সেই খননে কিছু মূর্তিসহ বেশ কিছু নিদর্শন পাওয়া গেলেও সেগুলো বর্তমানে মহাস্থান জাদুঘরে রয়েছে বলে জানা যায়।

স্বাধীন সেন জানান, স্থাপনাটি ওই খনন আর পরবর্তীতে খনন ও ইট নিয়ে যাওয়ার কারণে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জলাধারটির মধ্যে ও পাশে প্রচুর মৃৎপাত্র পাওয়া গেছে। এই মৃৎপাত্রগুলো ফেলে দেয়া বলে মনে করছেন গবেষকগণ। তাদের ধারণা, এই জলাধারটি কোনো ধর্মীয় স্থাপনা ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পরিচালনার সাথে সম্পর্কিত ছিল। তারা মনে করে এই স্থাপনাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রত্নতাত্তি্বক নিদর্শন। এটি কেবল বিরল একটি নিদর্শনই নয়, বরং এই স্থাপনাটি অতীত বরেন্দ্রের পানি ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত ইতিহাসে নতুন মাত্রা যোগ করবে।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাকসুদা বেগম সিদ্দিকীর সাথে কথা হলে তিনি জানান, নান্দনিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি আদি মধ্যযুগীয় ঘোড়াঘাট। এখানে মিলন ঘটেছে বিভিন্ন সংস্কৃতির। এখনও এখানে দৃষ্টিনন্দন সুরা মসজিদ কালের সাক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ঘোড়াঘাটের এই ঐতিহাসিক স্থানগুলো আরও আগেই সংরক্ষণ করা উচিত ছিল। এছাড়া সংরক্ষিত প্রত্ন নিদর্শনগুলোও যত্নের অভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful