Templates by BIGtheme NET
আজ- বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২০ :: ১৫ আশ্বিন ১৪২৭ :: সময়- ১০ : ২৯ অপরাহ্ন
Home / গাইবান্ধা / ঝড়ে উড়ে গেছে বিদ্যালয় : মেঘ দেখলেই ছুটির ঘণ্টা

ঝড়ে উড়ে গেছে বিদ্যালয় : মেঘ দেখলেই ছুটির ঘণ্টা

গাইবান্ধা প্রতিনিধি: কালবৈশাখী ঝড়ে শ্রেণীকক্ষসহ বিদ্যালয়ে ঘরের টিনের চালা উড়ে যাওয়ায় গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলার নলডাঙ্গা ইউনিয়নের পশ্চিম মান্দুয়ারপাড়া অস্থায়ী রেজিস্টারকৃত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাঠদান চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে বিদ্যালয় মাঠে নড়বড়ে বাঁশের খুঁটির উপর টিনের চালা তুলে শিক্ষার্থীদের পাঠদান অব্যাহত রেখেছেন। এছাড়া বর্তমানে ১ম শ্রেণী থেকে ৫ম শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা খোলা আকাশের নিচে প্রথম সাময়িক পরীক্ষা দিচ্ছেন। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা কখনো বৃষ্টি কখনো দাবদাহে সীমাহীন ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। অপরদিকে আকাশে সামান্য মেঘ দেখলেই ছুটির ঘণ্টা বাজিয়ে বিদ্যালয় ছুটি দিতে হচ্ছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় এলাকাবাসীর সহযোগিতায় ২০০৮ সালে বিদ্যালয়টি স্থাপিত হয়। ৩৩ শতক জমির উপর টিন-শেড দিয়ে তৈরি ঘরে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম ভালোই চলছিল। বর্তমানে এ বিদ্যালয়ে চার জন শিক্ষকের পাঠদান ও ১ম শ্রেণী থেকে ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত ২৭৫ জন শিক্ষার্থী লেখাপড়া করছে। শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির আওতায় আনার জন্য গত বছরের জুলাই মাসে ১৭৫ জনের নামের টপসীটসহ আবেদন করেও এখনো তা অনুমোদন পাওয়া যায়নি। বিদ্যালয়ে প্রতিদিন বিভিন্ন শ্রেণীর ৮৫ থেকে ৯০ ভাগ শিক্ষার্থী উপস্থিত থাকেন। কিন্তু শনিবার সন্ধ্যায় বয়ে যাওয়া কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে টিন-শেড ঘরের চালা, বেড়া ও অবকাঠামো উড়ে গেছে। এতে চারটি শ্রেণিকক্ষ ও অফিসকক্ষের টিনের চালা উড়ে যাওয়ায় পাঠদানের পরিবেশ একেবারে নষ্ট হয়ে যায়।

মঙ্গলবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের টিন-শেডের তৈরি ঘরের চালা নেই। টিনের চালা ও বেড়ার অংশ পাশের ফাঁকা জায়গায় পড়ে আছে। শিকরা কষ্ট করে চেয়ার নিয়ে বিদ্যালয় মাঠে বসে আছেন। সামনে বিদ্যালয়ের পুরাতন বাঁশের খুঁটির সঙ্গে কোনরকমে টিনের চালার নিচে শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিচ্ছেন শিক্ষকরা। আর এভাবে কয়েকদিন ধরে শিক্ষার্থীরা টিনের চালের নিচে গাদাগাদি করে ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছেন।

তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র হাবিবুর রহমান বলে, স্কুলে ভর্তির পর থেকেই আমরা কষ্টে ক্লাস করছি। আগে এক ঘরে দুই শ্রেণীর ক্লাস হয়েছে। আর এখন ঘর উড়ে যাওয়ায় আরো কষ্ট বেড়েছে। ৫ম শ্রেণীর ছাত্রী রিনা খাতুন বলেন, এখন বাতাসের দিনে টিনের চালার নিচে ক্লাস করতে ভয় হয়, তাছাড়া চারদিক খোলামেলা হওয়ার কারণে অনেক সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।

গ্রামের বাসিন্দা ও এক শিক্ষার্থী অভিভাবক তোফাজ্জল হোসেন বলেন, গ্রামের মানুষের সহযোগিতায় গড়ে উঠা বিদ্যালয়ে ছোট ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া করতো। কিন্তু ঝড়ে ঘর ভেঙে যাওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী আর বিদ্যালয়ে যেতে চাচ্ছেনা। গ্রামের বেশিরভাগ মানুষই গরিব বলে অল্প সময়ের মধ্যে বিদ্যালয় মেরামতের টাকা তাদের পক্ষে জোগাড় করাও সম্ভব নয়।

প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম বলেন, ঝড়ে বিদ্যালয় ঘরটি উড়ে যাওয়ার পরেই আমরা বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবগত করেছি। কিন্তু এখনো ঘরটি মেরামতের জন্য কোন বরাদ্দ পাইনি। ফলে বাধ্য হয়ে টিনের চালা তৈরি করে খোলামেলা ক্লাস নিতে হচ্ছে। তিনি আরো জানান, বিদ্যালয়টি মেরামত করতে লক্ষাধিক টাকার প্রয়োজন। খুব শিগগিরিই বিদ্যালয়ের মেরামত না হলে ভরাবর্ষা মৌসুমে আরো ব্যাপকভাবে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হবে।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful