Templates by BIGtheme NET
আজ- মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০ :: ১৪ আশ্বিন ১৪২৭ :: সময়- ৫ : ৫৫ অপরাহ্ন
Home / টপ নিউজ / গণ-ধর্ষণের শিকার এক হতভাগ্য কিশোরীর আক্ষেপ, গরীবের আবার কিসের বিচার!

গণ-ধর্ষণের শিকার এক হতভাগ্য কিশোরীর আক্ষেপ, গরীবের আবার কিসের বিচার!

নিয়াজ আহম্মেদ সিপন, পাটগ্রাম থেকে ফিরে: তিন লম্পট মিলে হাত পা বেধে গণ-ধর্ষণ করে হত-দরিদ্র পরিবারের এক কিশোরীকে। প্রচণ্ড যন্ত্রণা নিয়ে দীর্ঘ ১৯ দিন হাসপাতালের বিছানায় থাকতে হয় মেয়েটিকে। অসহায় ওই কিশোরীর বুকফাটা কান্না দেখে অনেকেই চোখের পানি ধরে রাখতে না পারলেও মন গলছে না পুলিশের। শুধু তাই নয় মেয়েটির পরিবারের নিরক্ষরতার সুযোগ নিয়ে তিন জনের পরিবর্তে পুলিশ একজনের নামে মামলা নথিভুক্ত করলেও সেই ধর্ষককে গ্রেফতারে কোন অভিযান নেই বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। উল্টো সালিস বৈঠকের নামে মেয়েটির ইজ্জতের দাম কষাকষি করছেন সমাজের এক শ্রেণীর মাতবররা। ঘটনাটি ঘটেছে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বাউড়া নবীনগর গ্রামের।

এদিকে ন্যায় বিচারের শঙ্কায় এমনিতে ভেঙে পড়েছেন মেয়েটির দিনমজুর মা। অন্যদিকে দীর্ঘ দিন পরে মেয়েটি সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও সে মানসিক বিকারগ্রস্ত হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক। এই অবস্থায় হতভাগ্য ওই কিশোরী সারক্ষণ কেঁদে কেঁদে বুক ভাসলেও হঠাৎ কখনো বলছে, গরীবের আবার কিসের বিচার!

ঘটনার দিন ৮ এপ্রিল:
ধর্ষণের শিকার ওই মেয়েটি জানায়, গত ৮ এপ্রিল সোমবার বিকেলে বাড়ির পাশের রাস্তায় শুকাতে দেয়া খড়ি তুলছিল সে। এসময় তাকে একা পেয়ে প্রতিবেশী যুবক ঝড়–(২৬) ও তার সহযোগী শচিন্দ্র (২৫) এবং বেলাল ওরফে কাংঙ্গাল(২৪) মুখ চেপে ধরে পার্শ্ববর্তী ভুট্টা ক্ষেতে নিয়ে যায়। সেখানে তারা মেয়েটির হাত পা ও মুখ বেধে একদিন একরাত আটকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এসময় মেয়েটি সঙ্গাহীন হয়ে পড়ে। পরদিন ভোরে বাড়ির অদূরে রাস্তার পার্শ্বে ভুট্টা ক্ষেতে মেয়েটিকে অচেতন অবস্থায় ফেলে যায় ওই তিন ধর্ষক । সেখান থেকে তাকে অচেতন অবস্থায় গোংরানি শুনে রাস্তা দিয়ে যাওয়া এক ভ্যান চালক উদ্ধার করে পরিবারের লোকজনের নিকট পৌঁছে দেয়। এই অবস্থায় ওই রাতে মেয়েটির জ্ঞান ফিরলে সে তার একমাত্র অভিভাবক দিনমজুর মায়ের কাছে ঘটনাটি খুলে বলে। কিন্তু প্রভাবশালী হরেন চন্দ্রের ছেলে ঝড়ৃ, রাজকুমারের ছেলে শচিন্দ্র ও একই এলাকার আব্দুল মজিদের ছেলে বেলাল ওরফে কাংঙ্গালের হুমকি ধামকি দেন অসহায় মেয়েটির পরিবারকে।
অবশেষে গত বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল ) ধর্ষণের শিকার ওই মেয়েটি ও তার মা থানা পুলিশের শরণাপন্ন হন। কিন্তু সেখানে ওই তিন জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে থানায় মামলা করতে গেলেও শেষ পর্যন্ত রহস্যজনক কারণে শচিন্দ্র ও কাঙ্গালকে বাদ দিয়ে শুধু মাত্র ঝড়–র নামে মামলা নিয়েছে পুলিশ। কিন্তু মেয়েটির দাবি তাকে ওই তিন যুবক তুলে নিয়ে ধর্ষণ করেছেন। তাই সে তিন জনের নামে থানা পুলিশের কাছে বিচার চেয়েছিল বলে সাংবাদিকদের জানায়।
একই কথা বলে মেয়েটির মা। তিনি জানান, তার স্বামী আছিমুদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে বগুড়ায় গিয়ে শ্রমিকের কাজ করছে। তাই কাউকে না পেয়ে মেয়েকে নিয়ে পাটগ্রাম থানায় যান তিনি। এসময় তারা ঝড়ু, শচিন্দ্র ও কাংঙ্গালের নাম বলেছে বলে জানান মেয়েটির মা। তবে শেষ পর্যন্ত কেন একজনকে আসামী করা হয়েছে তা জানেন না প্রায় নিরর মা ও তারা মেয়ে।

ওই কিশোরীর ভাই (খাইরুল) অভিযোগ করে বলেন, ধর্ষণের অভিযোগে থানায় তিন জনের নামে মামলা দায়ের করলেও থানা পুলিশ মামলা নিল একজনের নামে। অথচ সালিসে তার বোনের দেয়া সেই তিন তরুণের পরিবার হাজির হয়ে ধর্ষণের জরিমানা ঝড়– ৭০ হাজার শচিন্দ্র ২০ হাজার ও কাঙ্গাল ৪০ হাজার টাকা স্বীকার করলো। আমরা বিচার নামায় সাদা কাগজে জোড় করে সই নেয়া হয়।

সালিস বৈঠকের স্থান বাউরা বাজার:
সালিস বৈঠকের বিষয় জানতে চাইলে বাউরার ব্যবসায়ী শ্রী মহাদেব ভুতরিয়া স্বীকার করে বলেন, শুধু আমার জায়গা ব্যবহার করেছেন। তবে জরিমানার বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন একথাও সাংবাদিকরা শুনেছে।
গত ২৯ এপ্রিল (সোমবার) সরেজমিনে বাউরা ইউনিয়নের নবীনগর গ্রামে গিয়ে অভিযুক্ত ঝড়–র বাবার হরেন চন্দ্রের (৮৬) বলেন ঘটনার সময় তিনি অসুস্থ ছিলেন দুইদিন পর তার ছেলের ঘটনা শুনেন । তবে তিনি বলেন এটা বানানো ঘটনা। শ্রী মহাদেব ভুতরিয়ার বাড়িতে বৈঠকের ঘটনা স্বীকার করে বলেন তিনিসহ স্থানীয় অনেক ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। এবং সালিস-কারীরা তাদের ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন। এবং ওই পরিমাণ টাকা ইতিমধ্যে শ্রী মহাদেব ভুতরিয়ার নিকট জমা দিয়েছে।
অপরদিকে শচিন্দ্রের মা সমস্বরী রানী ও স্ত্রী সবিতা বলেন ওই বৈঠকে তিনিও উপস্থিত ছিলেন সেখানে তাদের ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এবং সেই টাকা তাদের পালিত গরু ও ছাগল বিক্রয় করে সালিস-কারী শ্রী মহাদেব ভুতরিয়া নিকট জমাদেন। একই কথা বলেন কাঙ্গালের মা ফুলজান তারা ভুট্টার টাকা নিয়ে জমা দিয়েছে।

প্রতিবেশীরা যা বলেন:
শচিন্দ্র ও কাঙ্গাল-এর প্রতিবেশী হাসেম বলেন এরা দুই জনেই দিনমজুর। মজুরি করে সংসার চালায়। ঘটনার সাথে জড়িত কিনা তা বলতে পারবোনা। তবে স্থানীয় দেওয়ানিরা ( মাতব্বর ) যা বলবেন তা না শুনলে সমস্যা হবে এই ভয়ে জরিমানার টাকা জমা দিয়েছে ।
ধর্ষণের শিকার মেয়েটির প্রতিবেশী সাফিউল বলেন, ধর্ষণের শিকার মেয়েটিকে একজন ভ্যান-চালক উদ্ধার করে বাড়িতে দিয়ে যায়। মেয়েটির কাছে শুনেছি অভিযুক্ত ওই তিনজন তাকে ধর্ষণ করেছে। মেয়েটির পরিবার গরিব বলে এখনও ন্যায় বিচার পায়নি বলে মন্তব্য সাফিউলের।

চিকিৎসকরা যা বলেন:
আবাসিক চিকিৎসক কর্মকর্তা ডাক্তার শ্রী প্রনব কুমার দাস বলেন, ধর্ষণের শিকার মেয়েটির প্রয়োজনীয় ডাক্তারি পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। পরীক্ষায় ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে । ইতিমধ্যে প্রতিবেদন থানায় পাঠানো হয়েছে। ধর্ষণের শিকার মেয়েটি ১৯ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ২৯ এপ্রিল বাড়িতে চলে গেছে। তবে মেয়েটি এখনও মানসিকভাবে বিকারপ্রাপ্ত হয়েছে। তার দীর্ঘ দিন চিকিৎসা দেয়া প্রয়োজন।

থানা প্রশাসন যা বলেন:
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পাটগ্রাম থানার উপ-পরিদর্শক আনোয়ারুল ইসলাম জানান, একজনের নামে মামলা হলেও তদন্ত কালে অন্যদের নাম বেরিয়ে এলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে তিন জনের বিরুদ্ধে অভিযোগের কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন আমি শুধু তদন্ত কর্মকর্তা কোন বিষয় জানার থাকলে ওসির নিকট জানতে পারেন। মেয়েটির ডাক্তারি পরীক্ষার প্রতিবেদনের বিষয়ে প্রথমে অস্বীকার করলেও পরে তদন্তের স্বার্থে বলা যাবে না উল্লেখ করে বলেন, আমি ঘটনাস্থলে দু’বার গিয়েছি, আসামি পলাতক রয়েছে। আসামি ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহরাব হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “মেয়েটি একজনের নামে লিখিত এজাহার দিয়েছে । যদি তদন্তে কারো নাম আসে তখন দেখা যাবে। এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে সালিস বৈঠক হয়েছে কিনা তা আমার জানান নেই”।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful