Templates by BIGtheme NET
আজ- সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০ :: ১৩ আশ্বিন ১৪২৭ :: সময়- ১১ : ০৬ পুর্বাহ্ন
Home / নীলফামারী / নীলফামারীর পল্লীতে ভূমি দস্যুরা বজরাং দলের নামে সংখ্যালঘু পরিবারের উপর চালাচ্ছে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড

নীলফামারীর পল্লীতে ভূমি দস্যুরা বজরাং দলের নামে সংখ্যালঘু পরিবারের উপর চালাচ্ছে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড

নজামাম-উল-হক,নীলফামারী ২৪ মে॥ সংখ্যালঘুদের  জমি ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে হাতিয়ে নিতে নীলফামারীর  কিশোরীগঞ্জ উপজেলার বাহাগিলি ইউনিয়নের দক্ষিণ বাহাগিলি  কাচারী পাড়ায় গড়ে উঠেছে বজরাং দল। ভূমি দস্যু  চক্র  বজরাং  দলের সদস্যরা  সংখ্যালঘু  পরিবারের  ওপর জমি বিক্রি করতে বাধ্য করার জন্য চালাচ্ছে অমানবিক  নির্যাতন। পাশাপাশি পুলিশ ম্যানেজ করে সংখ্যালঘুদের নামে একের পর এক মিথ্যা মামলা দায়ের করছে।  এমন কি বেশ কিছু সংখ্যালঘু পরিবারের ঘরে আগুন লাগিয়ে জ্বালিয়ে দেয়া হয়। বাড়ী ঘরে আগুন দেয়ার ঘটনায় ববিতা রানী নামের গৃহবধূ মামলা করেছে থানায়। অথচ বজরাং বাহিনীর আগুন লাগিয়ে দেয়ার আসামীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাদের গ্রেফতার করছেনা বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার দুইদিন ব্যাপী ওই গ্রামে গিয়ে এলাকাবাসীর অভিযোগে জানা যায়, নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের শিল্পপতি হাজী নুর ইসলাম কিশোরীগঞ্জ উপজেলার বাহাগিলি ইউনিয়নের দক্ষিণ বাহাগিলি  কাচারী পাড়ায়  পাটকল (জুট মিল) স্থাপনের জন্য জমি ক্রয় করছেন। জমি ক্রয়ে একদল দালাল মাঠে নেমেছে। শিল্পপতি হাজী নুর ইসলাম জমি ক্রয়ে দালালদের প্রতি শতাংশ  জমির জন্য  এক হাজার টাকা  করে  কমিশন দিচ্ছেন। কমিশনের আশায়  ওই এলাকার কিছু  দালাল  এলাকার  হিন্দু  সম্প্রদায়ের লোকজনকে  জমি বিক্রি  করতে  চাপ সৃষ্টি করছে। এতে কেউ রাজী  না হলে তার জমি  ভুয়া দলিলে  ক্রয় দেখিয়ে  অথবা  মিথ্যা মামলায়  জড়িয়ে  জমি  বিক্রি করতে বাধ্য  করছে। ওই চক্রটি  নিরীহ  এসব মানুষের উপর  একের পর এক মামলাও করছে। এদের কয়েকজন  মিথ্যে মামলায় হাজতবাস করেছেন বলে অভিযোগ মিলেছে। তাদের দেয়া মামলায়  বাদ পড়েনি  ৮০ বছরের বৃদ্ধ ধীরেন্দ্র রায় ।
উত্তর  বাহাগিলি  গ্রামের  আতাউর  রহমান বলেন, এদের জমি গ্রাস করার জন্য একটি প্রভাবশালী মহল মিথ্যা মামলা  দিয়ে হয়রানি  করছে।  এসব  মামলায়  পুলিশ কোন তদন্ত না করেই  গ্রেপ্তার করছে নিরীহ মানুষদের।  তাদের পে কেউ কথা বললে  তার  বিরুদ্ধেও  সাজানো মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে।  এভাবে  আমাকেও  একটি মামলায়  আসামী করা হয়েছে।
গ্রামের জ্যোতিভূষণ   চন্দ্র রায় (৩৫) বলেন, সৈয়দপুরের হাজী  নুর ইসলাম নামের একজন ব্যবসায়ী আমাদের এখানে  পাটের  কল  করার জন্য  জমি কিনছে। আমার  বাবা ধীরেন্দ্র নাথের ৮৩ শতক  রয়েছে। ৭২ সালে কেনা ওই  জমি ভুয়া  ওয়ারিশদের  মাধ্যমে ক্রয় দেখানো হয়েছে। গত ১০ মার্চ  হাজী নুর ইসলাম ৫০/৬০  জনের একটি লাঠিয়াল  বাহিনী পাঠিয়ে জমি  দখল করার চেষ্টা  চালায়।
এ ঘটনায়  ধীরেন্দ্রনাথ বাদী  হয়ে নূর  ইসলাম গংকে বিবাদী  করে  সহকারী  জজ কিশোরীগঞ্জ  আদালতে অন্য  ২৭/১৩  মামলা দায়ের করেন। মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে।
এদিকে একই  উপজেলার  চাঁদখানা  ইউনিয়নের নগরবন্দ  গ্রামের  একাব্বর আলীর ছেলে  মিজানুর  রহমান ওরফে  দুলাল,সেখানে তথাকথিত বজরাং  দল নাম দিয়ে একটি বাহিনী গঠন করে। এলাকাবাসীর অভিযোগ কিশোরীগঞ্জ থানার সেকেন্ড অফিসার শাহজালাল আর বজরাং দলের প্রধান ডাকাত দুলাল আপন খালাতো ভাই। ফলে দুলাল সেখানে মহারাজা বনে গেছে। বজরাং  বাহিনীর অন্যান্য সদস্যরা হচ্ছে বাচ্চু মিয়া, মজিদ ডাকাত,এনামুল ,আশরাফুল,শহিদুলসহ  ৫০/৬০জন। এরা প্রত্যেকেই ভূমি দস্যু। রাতে ডাকাতি করে। এদের সকলের নামে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলাও  রয়েছে। এসব মামলায় কেউ কেউ জেলও খেটেছে।  ওই কথিত বজরাং বাহিনীর  বিরুদ্ধে  কথা বলার  সাহস পান না এলাকার মানুষ।
সংখ্যালঘুদের সঙ্গে প্রতারণা করে জমি লিখে নেওয়া কিংবা তাদের ভয়ভীতি দেখানো প্রসঙ্গে সাংবাদিকরা কথা বলেন শিল্পপতি নুর ইসলামের সাথে।  তিনি জানান, ওই এলাকায় আমি একটি বড় ধরনের পাটকল গড়ে তোলার উদ্যোগে নিয়েছি। এ জন্য  ওই এলাকায় ১২ একর জমি কিনবো। এর মধ্যে প্রায় ৭ একর জমি ক্রয় সম্পন্ন হয়েছে। তবে জমিজমা বিষয়ে আমার তেমন কোন অভিজ্ঞতা নেই। এসব দেখাশোনা করেন আমার নিয়োজিত ম্যানেজার জাকির হোসেন। তিনি কীভাবে কার কাছে জমি কিনছেন তা তিনিই ভালো বলতে পারবেন।
এ নিয়ে  হাজী নূর ইসলামের জমি কেনা সংক্রান্ত ম্যানেজার জাকির হোসেন সাংবাদিকদের বলেন  জমি কিনতে কিছু কৌশলের প্রয়োজন হয়। হিন্দু আইনে মেয়েরা পৈত্রিক সম্পত্তির ভাগ পায় না। ফলে এমন ভেজাল (সমস্যা) যেমন জমিতে আছে,সে সবের ওয়ারিশ খুঁজে তাঁদের কাছ থেকে আমরা জমি লিখে নিয়েছি। বাঁধা এলে টাকা দিয়ে ম্যানেজ করার চেষ্টা করছি প্রকৃত মালিকদের। আর এলাকায় যাতে জমি কিনতে কোন সমস্যা না হয় এ জন্য ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে ইতিপূর্বেই মোটা অংকের উৎকোচ দিয়েছি। গ্রামের হিন্দু পরিবারের ওপর জোরজুলুম,বাড়িতে আগুন দিচ্ছে এমন প্রশ্নে উত্তর তিনি এড়িয়ে যান। তবে গ্রামের হিন্দু পরিবারের সদস্যদের নামে একাধিক মিথ্যে মামলায় জড়িয়ে গ্রাম ছাড়া করার বিষয়ে তিনি (জাকির) জানান, ওরা আমাদের জমি কিনতে দিচ্ছেনা,আমাদের কাজে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। কাজেই বাধ্য হয়ে আমরা মামলার পথ বেচে নিয়েছি।
বাহাগিলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান শাহ ওরফে দুলু  সঙ্গে তিনি জাকির হোসেনের কাছে  কোন উৎকোচ নেননি বলে জানান। তিনি বলেন প্রকৃতপক্ষে ওই এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকেরা অত্যন্ত নিরীহ। এ সুযোগে দুর্বৃত্তরা তাদের ভয়ভীতি দেখানোর সুযোগ পাচ্ছে। এলাকার চেয়ারম্যান হিসেবে আমি চাইবো ওই দুর্বৃত্তদের আইনের আওতায় আনা হোক। তিনি আরো বলে বজরাং বাহিনীর লোকজন সেখানে বেশ কিছু হিন্দু পরিবারের ঘরবাড়িতে আগুন দিয়ে জমির আসর কাগজপত্র পুড়িয়ে ফেলা বা লুটকরার চেষ্টা করেছে।
বিষয়টি নিয়ে কথা হয় সৈয়দপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) উজ্জ্বল কুমার রায়ের সঙ্গে। তিনি জানান,আমি একাধিকবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এলাকার ওই জমিজমা সংক্রান্ত ঘটনাটি অনেক জটিল। এ নিয়ে অধিকতর তদন্ত করছে পুলিশ।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful