আর্কাইভ  বৃহস্পতিবার ● ১৮ আগস্ট ২০২২ ● ৩ ভাদ্র ১৪২৯
আর্কাইভ   বৃহস্পতিবার ● ১৮ আগস্ট ২০২২
 
PMBA

 কুড়িগ্রামে নিয়োগ বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে শিক্ষকের নাক ফাটালেন সভাপতি

সোমবার, ১৮ জুলাই ২০২২, রাত ০৮:৩৬

কুড়িগ্রাম সংবাদদাতা : নিয়োগ বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার সিরাজ উদ্দিন দাখিল মাদ্রাসার এক শিক্ষকের নাক ফাটিয়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মোখলেছুর রহমান। এ ঘটনায় সোমবার সকালে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আহত শিক্ষক সুলতান আহমেদকে উদ্ধার করে।
 
জানা যায়, সম্প্রতি উক্ত মাদ্রাসার তিনটি পদে পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। সোমবার সকালে ওই তিনটি পদের নিয়োগ বোর্ড গঠনের বিষয়ে মাদ্রাসা সুপার ইউনুস আলীর সাথে পরামর্শ করতে আসেন পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোকলেছুর রহমান।
 
এসময় তিনটি পদেই মাদ্রাসা সভাপতির মনোনীত প্রার্থীকে নিয়োগ দানের পায়তারার অভিযোগ তোলেন একই মাদ্রাসার সহকারি শিক্ষক সুলতান আলী। শিক্ষক সুলতানের পুত্রও একটি পদের প্রার্থী হওয়ায় তিনি সভাপতিকে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার নিয়োগ আয়োজনের দাবী জানান। এসময় সভাপতি মোকলেছুর রহমান ক্ষিপ্ত হয়ে অন্যান্য শিক্ষক কর্মচারীদের সামনেই শিক্ষক সুলতান আহমেদকে এলোপাতারী কিলঘুষি মারেন।
 
এতে করে শিক্ষকের সুলতানের নাক ফেটে রক্ত ঝড়ে এবং মুখমন্ডল সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতপ্রাপ্ত হন। খবর পেয়ে সুলতানের পরিবারের লোকজন এগিয়ে আসলে পথিমধ্যে ওই সভাপতি ও তার লোকজন সুলতান আহমেদের ছেলে মাহবুবার রহমান বিল্পব (২৫) এবং বড় ভাই বুলু মিয়াকে লাঠি দিয়ে পিঠিয়ে রক্তাক্ত জখম করেন । এঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা দেখা দিলে পুলিশ খবর পেয়ে আহতদের উদ্ধার করেন।
 
আহত শিক্ষক সুলতান অভিযোগ করেন,প্রায় ৩০/৩৫লাখ টাকার বিনিময়ে সভাপতি তার মনোনীত তিন প্রার্থীকে নামমাত্র নিয়োগের মাধ্যমে নিয়োগ প্রদানের পায়তারা করছেন,আমার ছেলেও একজন প্রার্থী হওয়ায় আমি সভাপতি ও মাদ্রাসা সুপারকে স্বচ্ছ নিয়োগের আয়োজনের দাবী জানালে সভাপতি আমার উপর অতর্কিত হামলা করেন।
 
মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোকলেছুর রহমানের সাথে মুঠো ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা ফোনে কথা বললেও তিনি কথা বলেননি।
 
মাদ্রাসা সুপার ইউনুছ আলী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন,আমি অসুস্থ্য মানুষ,নিয়োগ বোর্ড গঠনের সভা আহবান সংক্রান্ত পরামর্শের জন্য সভাপতি এসেছিলেন,কিন্তু তিনি আকস্মিক এমন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাবেন এটা ভাবতেও পারিনি।
 
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুজ্জামান সরকার বলেন,এবিষয়ে আমি কিছু জানিনা,আমাকে ওই প্রতিষ্ঠান থেকেও কিছু জানানো হয়নি।
 
রাজারহাট থানার অফিসার ইনচার্জ রাজু সরকার বলেন, এঘটনায় শিক্ষক সুলতান আলীর একটি অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

মন্তব্য করুন


Link copied