আর্কাইভ  বুধবার ● ৭ জুন ২০২৩ ● ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩০
আর্কাইভ   বুধবার ● ৭ জুন ২০২৩
 width=
 width=
শিরোনাম: তাপপ্রবাহ চলতে পারে আরও ৫ দিন       নীলফামারীতে র‌্যাবের অভিযানে গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার       নীলফামারীতে শিহাব হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবীতে মানববন্ধন       নীলফামারীতে বিশ্ব পরিবেশ দিবসে পুরস্কার বিতরন       সৈয়দপুরে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের উদ্যোগে কর্মশালা      

ইভিএম শেখাচ্ছেন জাপার মোস্তফা

শুক্রবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২২, রাত ০৯:৩৭

মহিউদ্দিন মখদুমী: রংপুর সিটি করপোরেশন (রসিক) নির্বাচন এবার ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) হবে। ইভিএম মানে ছোট ভয়, না জানি কী হয়। ভয় তাড়াতে নির্বাচন কমিশন ৩৩টি ওয়ার্ডে ক্যাম্প স্থাপন করে ভোটারদের ইভিএমে ভোট প্রদানের ভোটিং শেখাবেন। এর আগেই জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা উঠান বৈঠকে উপস্থিত ভোটার জনগনকে ইভিএমে ভোট দেয়ার পদ্ধতি শেখাচ্ছেন।

ইভিএমের বোর্ড হাতে নিয়ে দেখিয়ে দিয়ে বুঝাচ্ছেন কোথায় টিপ দিতে হবে। কতবার দিতে হবে। কি ভাবে চাপ দিলে ভোট নষ্ট হবে। এটিকে ভালো চোখে দেখছেন জনগণ। তবে অনেকেই বলছেন, মোস্তফা নিজের ভোটের পরিসংখ্যান কমাতে চায় না। ১৮টি বর্ধিত এলাকাসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডের খুব সাধারণ জনগণ মোস্তফার লোক নামে পরিচিতি। যারা এর আগে ইভিএমে ভোট দেয়নি। তাদের মনেও ইভিএম নিয়ে ভয় আছে। এই ভয় তাড়াতে মোস্তফা নিজেই ইভিএমের বিলবোর্ড হাতে শেখাতে নেমেছেন। সূত্রমতে, রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচনে মোস্তফা পেয়েছিল ৭৭ হাজার ৮’শ ৫ ভোট। প্রয়াত মেয়র ঝন্টুর কাছে পরাজিত হয়েছিল ২৬ হাজার ২শত ৫০ ভোটে। দ্বিতীয় নির্বাচনে ১ লাখ ৬০হাজার ৪৮৯ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়েছিল মোস্তফা। ঝন্টুকে ৯৮ হাজার ভোটে পরাজিত করেছিলেন তিনি। মোস্তফার ওই বিপুল ভোটের নেপথ্যে এরশাদ, লাঙ্গল, রাঙ্গাঁ ও মোস্তফা ইমেজ একত্রিত হয়ে সম্মিলিত বিজয় এসেছিল।

এবার এরশাদ নেই, রাঙ্গাঁও নেই তার পাশে। কিন্তু মোস্তফা মানেই হলো দ্রুত গামি যান। যিনি বসে থাকেন না। ২০১৭ সালে মেয়র নির্বাচিত হয়ে দীর্ঘ পাঁচ বছর মেয়র থ্কাাকালিন সময়েও তিনি মাঠে গণসংযোগ ও ব্যক্তি সম্পর্ক তৈরীতে ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন। প্রতিদিন যে কোন পাড়া কিংবা মহল্লায় সকাল-বিকেলে-সন্ধ্যা কিংবা রাতে জনগণের সাথে সময় কাটিয়েছেন। জনগণের জন্য নিবেদিতপ্রাণ হয়ে কাজ করে তিনি জনগণের মন জয় করার চেষ্ঠা করেছেন। সময় যত গড়িয়েছে মোস্তফার কাজের গতি বেড়েছে। শক্ত হয়েছে পায়ের তলার মাটিও। মানুষের কাছে গিয়ে ব্যক্তি সম্পর্ক বৃদ্ধি করার কারণে মোস্তফা নামটি একটি ইমেজে পরিণত হয়েছে। তাই এবার মোস্তফা একাই একশ।

প্রায় দুই বছর আগে সিটির দ্বিতীয় নির্বাচনে তাকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেয় জাতীয় পাটি। এই ঘোষণার পর শক্তিশালী ওয়ার্ড কমিটি গঠন করে নিজের অবস্থান পোক্ত করেছেন। এবার তার সাথে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করার মতো হ্যাভিওয়েট প্রার্থী মাঠে নেই। বিএনপির প্রার্থী নেই। দ্বিতীয় নির্বাচনে বিএনপির কাওসার জামান বাবলা যে ৩৫ হাজার ১শত ৩৬ ভোট পেয়েছিল সেটিকেও নিজের পক্ষে টানতে চাইছেন মোস্তফ। যে কারণে ইভিএম ভয় জয় করতে জনগণকে নিজেই ইভিএমে ভোট প্রদানের পদ্ধতি শেখাতে নেমেছেন।

জাতীয় সেচ্ছাসেবক পার্টি রংপুর মহানগর শাখার সভাপতি ফারুক হোসেন মন্ডল বলেন, জাতীয় পার্টির প্রার্থী হলেও ব্যক্তি মোস্তফার সততা আছে। ব্যক্তি জীবনে তার আদর্শ আছে।  অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সাথে এখানেই দুরত্ব মোস্তফা ভাইয়ের। মোস্তফা পাড়া মহল্লার জনতার সাথে মিশে থাকে। ভোটের মাঠে এটি পজেটিভ কাজ করছে। এবার এক্সসেপশনাল বিজয় আসবে।

জেলা জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব হাজী আবদুর রাজ্জাক বলেন, রংপুরে জাতীয় পার্টি ও লাঙ্গল ইমেজ আছে। মোস্তফার ইমেজ এখন উচ্চ পর্যায়ে। এই তিনের সমন্বয়ে সিটির মেয়র পদে বিরাট বিজয় আসবে।

উল্লেখ্য যে, এবার দুই লাখ ১২ হাজার ৩০২ জন পুরুষ এবং দুই লাখ ১৪ হাজার ১৬৭ জন নারী ভোটার ২২৯টি কেন্দ্রে ইভিএম পদ্ধতিতে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন । আগামী ২৭ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলবে।

মন্তব্য করুন


 

Link copied