আর্কাইভ  শুক্রবার ● ২১ জানুয়ারী ২০২২ ● ৮ মাঘ ১৪২৮
আর্কাইভ   শুক্রবার ● ২১ জানুয়ারী ২০২২

কারাগারে আটক জঙ্গীদের বোমা মেরে ছিনিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা নস্যাৎ (ভিডিও)

শনিবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২১, বিকাল ০৫:১৭

মমিনুল ইসলাম রিপন রংপুর, (৪ ডিসেম্বর) ২০২১॥কারাগারে আটক জেএমবি’র শীর্ষ নেতাদের আদালতে নেয়ার সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা ছিল নীলফামারী সদরে গ্রেফতার ৫ জেএমবির সদস্যের। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলা ও বড় কোন ভবনে হামলার পরিকল্পনা ছিল তাদের।  শনিবার বিকেলে রংপুর র‌্যাব-১৩ এর সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র‌্যাবের লিগ্যাল এন্ড  মিডিয়া উইং ঢাকার মুখপাত্র  কমান্ডর খন্দকার আল মঈন। শনিবার সকালে নীলফামারী সদর উপজেলার সোনা রায় ইউনিয়নের মাঝাপাড়া এলাকায় জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চালিয়ে ৫ জনকে গ্রেফতার করে র‌্যাব সদস্যরা। গ্রেফতারকৃতরা হল, নীলফামারীর মুশরত কুখাপাড়া এলাকারমৃত মকবুল হোসেনর পুত্র রংপুর অঞ্চলের জেএমবি’র সামরিক শাখার প্রধান অহিদুল ইসলাম ওরফে আহিদ ওরফে পলাশ।  তার অন্যতম সহযোগী  একই জেলার পশ্চিম কুচিয়ামোড়পাঠানপাড়া এলাকার ওয়াজুদ্দিন মাসুদের পুত্র ওয়াহেদ আলী ওরফে আব্দুর রহমান (৩০)  একই জেলার দক্ষিন বালাপাড়া এলাকার তছলিম উদ্দিনের পুত্র আব্দুল্লাহ আল মামুন ওরফে সুজা (২৬) উত্তর মুশরত কুখাপাড়া এলাকার মৃত মকবুল হোসেন পুত্র মোঃ জাহিদুল ইসলাম  ওরফে জাহিদ ওরফে জোবায়ের (২৭) সোনারাই কাচারিপাড়া এলাকার মৃত রজব আলীর পুত্র মোঃ নুর আমিন ওরফে সবুজ(২৮)।  এসময় তাদের কাছ থেকেবোমা তৈরীর সরঞ্জাম  ও ব্যবহৃত রাসায়নি দ্রব্য,একটি পিস্তল, একটি ম্যাগজিন, ৫ রাউন্ড গুলিসহ বোমা তৈরীর বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। 
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়,  গ্রেফতার জেএমবি সদস্যরা নীলফামারীর উত্তরা ইপিজেডকে ঘিরে নিজের শক্তি বৃদ্ধি করছিল। এরা জেএমবি’র সামরিক শাখার সক্রিয় সদস্য। গ্রেফতারকৃতরা ২০১৫-১৯ সালের মধ্যে বায়াত গ্রহণ করে জেএমবিতে সক্রিয় অংশ গ্রহণ করেন।  র‌্যাব জানায়, গ্রেফতারকৃত জঙ্গিরা জেএমবির সামরিক শাখার সদস্য। তারা আইইডি তৈরীর করার প্রশিক্ষন  নিয়ে নাশকতামূলক হামলার পরিকল্পনা করেছিল।  ২/৩মাস আগে আহিদ ইম্প্রভাইজড এক্সপ্লোসিভস ডিভাইস (আইইডি) তৈরী করেছিল। উক্ত বোমা তৈরীর সময় গভীর রাতে বোমা বিস্ফোরিত হয়ে আহিদের বাড়িতে আগুন ধরে যায়। তারা ইন্টারনেটের বিভিন্ন ওয়েব পেইজ দেখে কি ভাবে বোমা তৈরী করতে হয় এ বিষয়ে প্রশিক্ষন লাভ করে।  তারা অনলাইনে রংপুর অঞ্চলের আমিরের নির্দেশনায় বেশ কয়েকদিন ধরে আইইডি তৈরী করে জঙ্গি শরিফের বাড়িতে রাখে। তারা রংপুর অঞ্চলের ২০/২৫ জনকে জঙ্গি সংগঠনে আন্তর্ভুক্ত করেছে। 
তাদের মধ্যে রংপুর অঞ্চলের কয়েকজন শ্রমিক,অটোচালক, টেইলার ইত্যাদি পেশায় কাজ করে।  আহিদুল একটি খেলনা প্রস্তুত কোম্পানিতে চাকরি করে। সে দশম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছে।  সে এই অঞ্চলে জেএমবি’র সামরিক শাখার কার্যক্রম পরিচাণা করে আসছিল। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।  

মন্তব্য করুন


Link copied