আর্কাইভ  শুক্রবার ● ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২ ● ১৫ আশ্বিন ১৪২৯
আর্কাইভ   শুক্রবার ● ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২
 
 
শিরোনাম: রুপালি পর্দা- প্রেম, বিয়ে, সন্তান কেন এত অসম্মান?       ঠোঁটের কালচে দাগ দূর হোক, ফিরিয়ে আনুন গোলাপি ভাব       বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে ১০ দিন সকল প্রকার আমদানি রফতানি বন্ধ       বিদেশিদের কাছে বিএনপির অপশাসনের চিত্র তুলে ধরুন: প্রধানমন্ত্রী       পূজাকে বিয়ের প্রস্তাব পাঠিয়েছেন শাকিব      

গুচ্ছগ্রামের টাকা আত্মসাৎ করায় গাইবান্ধার সাবেক ইউএনওর পদাবনতি

সোমবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২২, বিকাল ০৫:৫৭

ডেস্ক: প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ করায় গাইবান্ধা সদরের সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) দুই বছরের জন্য এক ধাপ পদাবনতি ও আত্মসাৎ করা টাকা নিজের বেতন থেকে পরিশোধের শাস্তি দিয়েছে সরকার। বর্তমানে স্থানীয় সরকার বিভাগে পদায়নের জন্য ন্যস্তকৃত মোহাম্মদ শফিকুর রহমানের বিরুদ্ধে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্প্রতি এই শাস্তি দিয়ে আদেশ জারি করেছে।

গতকাল রোববার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কে এম আলী আজম স্বাক্ষরিত এক আদেশে তার এই শাস্তি এবং টাকা পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়। আদেশে বলা হয়, মোহাম্মদ শফিকুর রহমান গাইবান্ধা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে কর্মরত থাকাকালে গুচ্ছগ্রাম-২য় পর্যায় (সিডিআরপি) প্রকল্পের আওতায় গাইবান্ধা সদরে বরাদ্দকৃত ৫ কোটি ৫৪ লাখ ৯২ হাজার ৫০০ টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রকল্প কমিটি গঠন না করা, একক দায়িত্বে কাজ করা, মাটির কাজ না হওয়া সত্ত্বেও ঘরের বরাদ্দকৃত টাকা উত্তোলন করা, অ্যাকাউন্ট পে- চেকের মাধ্যমে টাকা উত্তোলন না করে নগদ টাকা উত্তোলন করা, বদলিজনিত কারণে দায়িত্ব হস্তান্তরের পরও বিধিবহির্ভূতভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়া, ৫৩ লাখ ৯২ হাজার টাকা ব্যাংকে জমা না রেখে গোপনীয় সহকারীর কাছে জমা রাখা, কারিগরি ও সাধারণ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মতে প্রাক্কলন অনুযায়ী কাজ না করার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৩ (ক), ৩ (খ) ও ৩ (গ) বিধি অনুযায়ী অদক্ষতা, অসদাচরণ ও দুর্নীতিপরায়ণতার অভিযোগে এ মন্ত্রণালয়ের ২০১৯ সালের ১৮ ডিসেম্বর বিভাগীয় মামলা করে কৈফিয়ত তলব করা হয় এবং একই সঙ্গে তিনি ব্যক্তিগত শুনানি চান কি না তা জানতে চাওয়া হয়।

অভিযুক্ত কর্মকর্তা অভিযোগনামা ও অভিযোগ বিবরণীর পরিপ্রেক্ষিতে গত ২০২০ সালের ২১ জানুয়ারি লিখিত জবাব দাখিল করে ব্যক্তিগত শুনানির জন্য আবেদন করলে গত ৮ মার্চ তার ব্যক্তিগত শুনানি গ্রহণ করে ন্যায় বিচারের স্বার্থে মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়।

এতে আরও বলা হয়, তদন্ত কর্মকর্তা কর্তৃক ৫ অক্টোবর দাখিলকৃত তদন্ত প্রতিবেদনে মোহাম্মদ শফিকুর রহমানের বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর আওতায় আনীত অদক্ষতা, অসদাচরণ এবং দুর্নীতিপরায়ণ-এর অভিযোগগুলো সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা ২০১৮-এর ৪ (৫) এর (ক), (গ) ও (ঙ) অনুযায়ী গুরুদণ্ড আরোপের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে দ্বিতীয় কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়।

মোহাম্মদ শফিকুর রহমান গত বছরের ২২ ডিসেম্বর দ্বিতীয় কারণ দর্শানো নোটিসের জবাব দাখিল করলে তার জবাব সন্তোষজনক বিবেচিত না হওয়ায় এবং তার বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালার ৪(৩) (ক) বিধি অনুযায়ী নিরুপদে অবনমিতকরণ এবং আত্মসাৎকৃত ৪৩ লাখ ৩৩ হাজার ৩৮০ টাকা তার বেতন-ভাতা থেকে আদায়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে গুরুদণ্ড আরোপের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি কর্মকমিশনের মতামত চেয়ে ১১ মার্চ চিঠি পাঠানো হয়।

সরকারি কর্মকমিশন মোহাম্মদ শফিকুর রহমানকে নিচুপদে অবনমিতকরণ ও আত্মসাৎকৃত ৪৩ লাখ ৩৩ হাজার ৩৮০ টাকা তার বেতন-ভাতা থেকে আদায়ের সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত পোষণ করে ১৮ আগস্ট চিঠি পাঠায়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ৪(৬) অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্য সারসংক্ষেপ পাঠালে তা অনুমোদন পায়। এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন


Link copied