আর্কাইভ  মঙ্গলবার ● ৪ অক্টোবর ২০২২ ● ১৯ আশ্বিন ১৪২৯
আর্কাইভ   মঙ্গলবার ● ৪ অক্টোবর ২০২২
 
 
শিরোনাম: জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয়: দেশের অধিকাংশ জেলায় বিদ্যুৎ নেই       মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেতুর রেলিংয়ে ধাক্কা, নিহত ৪       এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর কঠোর হুঁশিয়ারি       দিনাজপুরে ইউএনও হত্যা চেষ্টা  স্পর্শকাতর মামলার রায় পিছিয়ে গেলো       নানার বাড়ি বেড়াতে এসে প্রাণ গেল অপূর্বের      

তিস্তার পানি বিপদসীমার ২৮ সেন্টিমিটার উপরে, বড় বন্যার আশঙ্কা

সোমবার, ২০ জুন ২০২২, দুপুর ০৩:৫৭

লালমনিরহাট প্রতিনিধি: টানা কয়েকদিনের বৃষ্টি ও উজানের পাহাড়ি ঢলে তিস্তার পানি বিপদসীমার অতিক্রম করেছে। ফলে লালমনিরহাটের তিস্তা তীরবর্তি পরিবাররা বড় বন্যার আশঙ্কা করছে।

সোমবার (২০জুন) বেলা ১২টা থেকে দেশের বৃহত্তম সেচপ্রকল্প লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার তিস্তা ব্যারাজ ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ৮৮ সেন্টিমিটার। যা (স্বাভাবিক ৫২ দশমিক ৬০সেঃমি) ।  যা বিপদসীমার ২৮ সেন্টিমিন্টার উপর দিয়ে প্রবাহিত করছে পানি। তিস্তার পানি উপরে উঠলে পানি বিভিন্ন গ্রামে ডুকে পড়বেন বলে ধারণা করছেন তিস্তা তীরবর্তি মানুষরা।  

সোমবার ভোর থেকে ক্রমেই বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমায় নিচে থাকলেও সকাল ৯টার পর থেকেই বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিস্তার তীরবর্তী অঞ্চলের মানুষরা গেল কয়েক সপ্তাহে তৃতীয়বার তিস্তার পানি বৃদ্ধি হয়। যার ফলে তীরবর্তী মানুষরা এবার বড় বন্যার আশঙ্কা করছেন।

তিস্তা পাড়ের মানুষের জানান, প্রতি বছর জুন/জুলাই মাসে উজানের পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়ে থাকে। এবারও তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে।  এতে শুকিয়ে যাওয়া মৃত প্রায় তিস্তা তৃতীয় ধাপে আবারো ফুলে ফেঁপে উঠে ফিরে পেয়েছে চিরচেনা রুপ। হেঁটে পাড়ি দেয়া তিস্তায় চলতে শুরু করেছে নৌকা। হাকডাক বেড়েছে মাঝি মাল্লাদের। কর্মব্যস্থতা দেখা দিয়েছে তিস্তাপাড়ের জেলে পরিবারে।

অপর দিকে পানি প্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় তিস্তার তীরবর্তি জেলার ৫টি উপজেলার প্রায় ৫ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে। জেলার পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম, হাতীবান্ধার সানিয়াজান, গড্ডিমারী, সিন্দুর্না, পাটিকাপাড়া, সিংগিমারী, কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী, কাকিনা, আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা, পলাশী, সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ, রাজপুর, গোকুন্ডা, ইউনিয়নের তিস্তা নদীর তীরবর্তি নিম্নাঞ্চলের  প্রায় ৫ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে।

এ দিকে হঠাৎ তিস্তা নদীতে পানি বৃদ্ধি দেখে  তিস্তাপাড়ের মানুষ বড় কোন বন্যার শ্বঙ্কা করলেও বন্যা সতর্কীকরন কেন্দ্রের দাবি তিস্তায় বড় ধরনের বন্যার কোন এখনো আশংকা নেই। বৃষ্টির কারনে উজানের ঢেউয়ের ফলে পানি প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। উজানে ভারতে পানি প্রবাহ কমে যাচ্ছে। তাই ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি প্রবাহ কমে যাবে বলে দাবি করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া শাখা। পলি ও বালু জমে তিস্তা ভরাট হওয়ায় সামান্যতেই তিস্তার পানি প্রবাহ লোকালয়ে প্রবাহিত হয়ে বন্যার সৃষ্ঠি করে। তবে আতংকিত না হতে পরামর্শ বন্যা সতর্কীকরন কেন্দ্রের।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা(পিআইও) ফেরদৌস আলম বলেন, এ জেলায় প্রতিবছর তিস্তার পানির কারণে তারা ক্ষতির মুখে পড়েন। জেলা প্রসাশন পানিবন্দি পরিবারগুলোর তালিকা করতে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদকে বলা হয়েছে। তালিকা পেলে বরাদ্ধ নিয়ে ত্রাণ বিতরন করা হবে। তাই তিস্তা পাড়ের মানুষের এ নিয়ে কোন চিন্তার কারণ নেই বলে জানান।

পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া শাখার নির্বাহী প্রকৌশলী আসফা উদ দৌলা বলেন, উজানের পাহাড়ি ঢলে তিস্তার পানি প্রবাহ রাতে থেকে বাড়তে থাকে। ব্যারাজ রক্ষার্থে  সবগুলো জলকপাট খুলে দেয়া হয়েছে। তবে ভারতে পানি প্রবাহ কমে গেলে তিস্তার পানি কমে যাবে বলে ধরনা করা হচ্ছে। 

মন্তব্য করুন


Link copied