আর্কাইভ  সোমবার ● ৩ অক্টোবর ২০২২ ● ১৮ আশ্বিন ১৪২৯
আর্কাইভ   সোমবার ● ৩ অক্টোবর ২০২২
 
 
শিরোনাম: পাঁচ দিনের ছুটির কবলে প্রশাসন       এলপিজি গ্যাসের দাম কমল       রংপুর মেডিকেলের উপপরিচালক ও সহকারী পরিচালসহ ৩ কর্মকর্তাকে বদলি       ঘোড়াঘাটের সাবেক ইউএনওকে হত্যাচেষ্টার রায় ৪ অক্টোবর       রংপুরে মাসব্যাপী শিল্প ও বাণিজ্য মেলা উদ্বোধন      

তিস্তা নদীতে হু হু করে পানি বাড়ছে

সোমবার, ৬ জুন ২০২২, দুপুর ১১:২১

ডেস্ক: উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি হু হু করে বাড়ছে। গত কয়েকদিন ধরে ডালিয়া ও কাউনিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই করছে। নদীতে অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধির কারণে কাউনিয়ায় তিস্তার তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল গ্রামগুলোতে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবীব বলেন, চলতি সপ্তাহে বন্যার আশঙ্কা রয়েছে রংপুরে। এই সময়ে ভারি বৃষ্টি ছাড়াও ভারত থেকে পাহাড়ি ঢল আসার আশঙ্কা রয়েছে। গত শুক্রবার ঢাকা বন্যার পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে শনিবার ও রোববার ভারি বর্ষণ ও ভারত থেকে পাহাড়ি ঢলের কারণে তিস্তা ও ধরলা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। ফলে নিচু এলাকায় বন্যা দেখা দিতে পারে। এমনকি বেড়িবাঁধ ভেঙে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হতে পারে।

তিনি বলেন, গত তিনদিন ধরে ডালিয়া ও কাউনিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমা ছুঁইছুঁই করছে। রোববার সকাল ৯টায় তিস্তার পানি ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার শূন্য দশমিক ৬৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এখানে পানির বিপৎসীমার মাত্রা হলো ৫২ দশমিক ৬০ সেন্টিমিটার। এরআগে ডালিয়া পয়েন্টে গত শনিবার শূন্য দশমিক ৮৩ সেন্টিমিটার এবং শুক্রবার শূন্য দশমিক ৯৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। অপরদিকে রোববার সকাল ৯টায় কাউনিয় রেলওয়ে সেতু পয়েন্টে পানির বিপৎসীমার মাত্রা হলো ২৯ দশমিক ২০ সেন্টিমিটার। গত শুক্রবার ও শনিবার দুইদিনে গড়ে এই পয়েন্টে ১ দশমিক ৪৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

এদিকে ঢাকা বন্যার পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে সর্তকবার্তায় রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার বালাপাড়া ও টেপামধুপুর ইউনিয়নের তিস্তা নদী তীরবর্তী হরিচরণশর্মা, আজমখা, হয়বৎখা, বিশ্বনাথ, চরগনাই, রাজিব, ঢুষমারা, গোপিডাঙ্গা, গদাই, পাঞ্চরভাঙ্গা, তালুকশাহাবাজ গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

কাউনিয়া উপজেলার টেপামধুপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাশেদুল ইসলাম বলেন, আমার ইউনিয়নের ৬টি মৌজা খুব ঝুঁকিতে। ভারি বৃষ্টি ও উজানের ঢলে নদীর পানি বৃদ্ধি পেলে ছয় মৌজার প্রায় সব বাড়িতেই পানি ঢুকে পড়ে। দেখা দেয় নদীভাঙন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সর্তকবার্তায় এই অবস্থায় পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন।

বালাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনসার আলী বলেন, গত কয়েকদিন ধরে উজানে তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে, এতে করে নদীর তীরবর্তী গ্রামগুলোতে বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে তিস্তা খনন না হওয়ায় পলি জমে নদীর মধ্য ভাগ উঁচু হয়ে গেছে। ফলে উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে বন্যা হয়ে বতসবাড়ি ও আবাদি জমিগুলো তলিয়ে যায়। বিভিন্ন ফসলের ক্ষেতের ক্ষতি হয়। তীরবর্তী গ্রামগুলোতে ভাঙন দেখা দেয়।

রংপুর জেলা প্রশাসক আসিব আহসান জানান, বন্যায় যাতে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে ব্যাপারে সরকারিভাবে সব ধরনের আগাম প্রস্তুতি নেয়া আছে। বন্যা আশ্রয়ণ কেন্দ্রসহ সব ধরনের প্রস্তুতি আমাদের আছে। বন্যা মোকাবিলায় জনবল, শুকনো খাবার, চাল, টাকা সবই মজুত আছে। যখন যা প্রয়োজন হবে, তা দিতে পারব আমরা। ইতিমধ্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের বন্যার আশঙ্কা আছে এমন সংলগ্ন নদীর তীরবর্তী এলাকার মানুষদের সব সময় খোঁজখবর নেয়ার জন্য বলা হয়েছে।

মন্তব্য করুন


Link copied