আর্কাইভ  সোমবার ● ২৯ নভেম্বর ২০২১ ● ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৮
আর্কাইভ   সোমবার ● ২৯ নভেম্বর ২০২১

পাটগ্রামে নৌকার কাণ্ডারি হতে চান জুয়েল

শনিবার, ২০ নভেম্বর ২০২১, সকাল ০৮:২৮

নিজস্ব প্রতিনিধি: ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে লালমনিরহাটের পাটগ্রামের বিভিন্ন ইউনিয়নে চলছে নির্বাচনী তোড়জোড়।  

সম্ভাব্য প্রার্থীরা ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে কুশলাদি বিনিময় করছেন। দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি।

কে হবেন নৌকার কাণ্ডারি তা নিয়ে হাটে-বাজারে, চায়ের দোকানে চলছে আলোচনা ও সমালোচনা। সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণায় সরগরম এখন মাঠ-ঘাট।

সরেজমিনে উপজেলার কুচলিবাড়ী ইউনিয়নে গিয়ে দেখা যায়, ভোটারদের সমর্থন পেতে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীরা সমানতালে ছুটে চলছেন। এলাকার উন্নয়নে দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। 

এই ইউনিয়নে রয়েছেন সম্ভাব্য ৭ থেকে ৮ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী। সম্ভাব্য প্রার্থীরা সাধারণ জনগণের মাঝে ছড়িয়ে দিচ্ছেন উন্নয়নমুখী নানা ধরণের আশ্বাস ও আশার বাণী। দলীয় সমর্থন পাওয়ার জন্য তৎপর হয়ে উঠেছেন ইউনিয়নের সম্ভাব্য প্রার্থীরা। চেয়ারম্যান প্রার্থীরা তাদের ভোট ব্যাংক বাড়াতে সভা সমাবেশসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন।

এই ইউনিয়নের একজন তরুণ নতুন চেয়ারম্যান প্রার্থী নুরে আলম আজাদ জুয়েল। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ ধারণ ও লালনকারী জুয়েল মুক্তিযোদ্ধা ও আওয়ামী লীগ পরিবারের সদস্য। তিনি মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা আশরাফুল হকের জ্যেষ্ঠ পুত্র। তার পিতা মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা আশরাফুল হক মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে প্লাটুন কমান্ডার হিসেবে বীরত্বের সাথে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করেন। যুদ্ধ পরবর্তি তিনি প্রতিষ্ঠাকালীন লালমনিরহাট জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন।

পঁচাত্তরের নৃশংস হত্যাকান্ডে জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যার পরবর্তিতে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি দ্বিতীয় দফায় লালমনিরহাট জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। নুরে আলম আজাদ জুয়েলের মামা বীর মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুর রহমান মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে সম্মুখ সমরে পাকিস্তানী সেনাদের গুলিতে শহীদ হন। 

শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুর রহমান তার পিতার সহযোদ্ধা ছিলেন। তার পিতা মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা আশরাফুল হক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকতার পাশাপাশি একজন সাদামনের সমাজসেবক ছিলেন।

নুরে আলম আজাদ জুয়েল আওয়ামী পরিবারের সন্তান হওয়ায় ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সাথে জড়িয়ে যান। তিনি ৯০ এর দশকে পাটগ্রামের রাজনীতি, বিশেষ করে ছাত্ররাজনীতির এক বিপ্লব, এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। এ সময়েই তিনি পাটগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগ শাখার সাধারণ সম্পাদক, পরবর্তিতে পাটগ্রাম থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও আহ্বায়ক নির্বাচিত হন। যার ফলশ্রুতিতে ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার ও পরবর্তিতে চারদলীয় জোট সরকারের ক্ষুদ্ধ রোষানলে পড়েন। এ সময়ে তিনি ও তার পরিবার অনেক হামলা ও হয়রানিমলূক মামলার শিকার হন। তিনি এমন চরম প্রতিকূল পরিবেশে নানা বাধাবিপত্তির মধ্যে লেখাপড়া চালিয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন।

বর্তমানে তিনি পাটগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগনিক সম্পাদক ও জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য। তিনি ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮, ২০১৪ এবং ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বিশেষ করে ২০০৭ সালের 'ওয়ান ইলেভেন' এ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের শাসনামলে হয়রানি ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই আওয়ামী লীগের সভাপতি, বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা গ্রেফতার হলে পাটগ্রামে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলার পেছনে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। এসময় তিনিও কারাবন্দি হন এবং তাকে অনেক হয়রানি ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় আসামি করা হয়। এক কথায় তিনি তৃণমূল আওয়ামী লীগের দুর্দিনের কান্ডারি। তিনি রাজনীতির পাশাপাশি সমাজসেবামূলক অনেক সংগঠনের সাথে যুক্ত হয়ে মানবতার সেবায় কাজ করছন। যার ফলশ্রুতিতে তিনি কুচলিবাড়ী ইউনিয়নে একজন মানবিক নেতা এবং একজন তরুণ উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।

জুয়েল জানান, সময় এখন তারুণ্যের। ভবিষ্যতের বাংলাদেশও তারুণ্যের জন্যই। আর তারুণ্যের উপযোগী দেশ ও সমাজ বিনির্মাণ করা গেলে সমৃদ্ধ হবে জাতি। নৌকার কাণ্ডারি হয়ে তিনি নির্বাচিত হলে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অক্ষুন্ন রেখে একটি আধুনিক ইউনিয়ন বিনির্মাণে এবং দারিদ্র, দুর্নীতি, মাদক, সন্ত্রাস ও বাল্যবিবাহমুক্ত সমাজ গড়ার লক্ষ্যে অঙ্গীকারবদ্ধ।

এজন্য স্থানীয় ভোটারসহ সাধারণ জনগণের দোয়া ও ভালোবাসা কামনা করেন তিনি।

মন্তব্য করুন


Link copied