আর্কাইভ  রবিবার ● ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ ● ১০ আশ্বিন ১৪২৯
আর্কাইভ   রবিবার ● ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২
 
 
শিরোনাম: রংপুরে ভুয়া চাকুরীদাতা প্রতারক চক্রের ২ সদস্য গ্রেফতার       মরিয়ম মান্নানের মা জীবিত উদ্ধার; ছিলেন স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে       ডেপুটি স্পিকারের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আ.লীগের দুই গ্রুপে সংঘর্ষ       এনআইডিতে লাগবে ১০ আঙুলের ছাপ       গাইবান্ধা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সিদ্দিক, সম্পাদক মোজাম্মেল      

ফেন্সিডিল ঢেলে দেন স্ত্রী, টাকা নেন ইউপি সদস্য

রবিবার, ১২ জুন ২০২২, রাত ০৮:৪৩

লালমনিরহাট প্রতিনিধি: লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে ইউপি সদস্য বাদশা'র বাড়িতেই অবৈধ ফেন্সিডিলের আসর বসে। আর সেই আসরে ফেন্সিডিল পরিবেশন করেন তারই স্ত্রী স্বপ্না বেগম। 

ইউপি সদস্য বাদশা মিয়া কালীগঞ্জ উপজেলার গোড়ল ইউনিয়ন পরিষদের ৪নং ওয়ার্ড সদস্য। তিনি ওই ওয়ার্ডের মালগাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

স্থানীয়রা জানান, কালীগঞ্জ উপজেলার গোড়ল ইউনিয়ন সীমান্তের নিকটবর্তি হওয়ায় দীর্ঘ দিন ধরে এ ব্যবসায় জড়িত বাদশা মিয়া। ব্যবসা ঠিক রাখতে এবার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে গোড়ল ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচিত হয়ে জনপ্রতিনিধির লেবাসে চলছে মাদক ব্যবসা। এছাড়াও ওই বাড়ি থেকে রংপুরসহ বিভিন্ন স্থানের লোকজন আসেন ফেন্সিডিল খেতে। সীমান্ত কাছেই হওয়াতে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা বড় চালান পাচার করে সোজা বাদশা মেম্বরের বাড়িতে পাঠান। দেশের বিভিন্নস্থানে তার বাড়ি থেকে ফেন্সিডিল চলে যায়। আর এসব অনেকেই জেনেও ইউপি সদস্য হওয়াতে মুখ খুলেন না।

PMBAদীর্ঘ দিন এ ব্যবসার সাথে জড়িত থাকায় স্থানীয় প্রশাসনের সাথে ভাল সখ্যতা গড়ে উঠে বাদশা মিয়ার। তাই মাদক বিক্রেতা ও পরিবহনকারীরা প্রায় দিন প্রশাসনের হাতে আটক হলেও বড় ব্যবসায়ী বাদশা মিয়া রয়েছেন ধরাছোঁয়ার বাহিরে। অবৈধ কোন সুবিধার বিনিময়ে স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি জেনেও না জানার ভান করছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

চাহিদা বিবেচনায় স্থানীয় মাদকসেবীদের জন্য নিজ বাড়িতেই ফেন্সিডিলের বার খুলেছেন ইউপি সদস্য বাদশা মিয়া। তার আলীসান বাড়ির বারান্দায় বসার ও বিশ্রামের ব্যবস্থাও রয়েছে। প্রতিনিয়ত মাদকসেবীরা তার বাড়িতেই ভির জমায়। হাতের কাছে নিরাপদ মাদক সেবনের ব্যবস্থা পেয়ে উৎতি স্কুল কলেজ পড়ুয়া তরুন যুবকরা ছুটছে ওই ফেন্সিডিলের বারে। এভাবেই নষ্ট হচ্ছে এলাকার তরুন যুবকরা। যুব সমাজ রক্ষায় অবৈধ এ বার বন্ধ করতে প্রশাসনের ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় সুশিল সমাজ।

ইউপি সদস্য বাদশার স্ত্রী স্বপ্না বেগম নিজেই তার বাড়ির ফেন্সিডিল বারে সেবীদের চাহিদামত পরিমাপ করে গ্লাসে ঢেলে দেন ফেন্সিডিল। ফেন্সিডিল সেবনে যা প্রয়োজন সবই রয়েছে ওই টেবিলে। ১০০ মিলিগ্রাম এক বোতল ফেন্সিডিলের খুচরা দাম ধরা হয় এক হাজার থেকে এগারশত টাকা। যার যত গ্রাম দরকার তাকে ততগ্রাম ঢেলে দিয়ে টাকা নেন।

নগদ ক্যাশ বা বিকাশ দুই ভাবেই টাকা পরিশোধের ব্যবস্থা রয়েছে। ইউপি সদস্যের বাড়িতে প্রশাসনের ঝামেলামুক্ত ভেবে মাদকসেবীদের বর্তমান নিরাপদ বার ইউপি সদস্য বাদশার বাড়ি।

ভিডিওতে দেখা যায়, ইউপি সদস্য বাদশা'র স্ত্রী স্বপ্না বেগম টাকা নিয়ে নিজেই পাশের রুম থেকে ফেন্সিডিল এনে টেবিলের গ্লাসে পরিবেশন করছেন। পুরো বোতল নয় অর্ধেক বা একচতুরাংশ সেবন করারও ব্যবস্থা রয়েছে। যত টাকা ততটুকুই ফেন্সিডিল গ্লাসে পরিবেশন করা হয়। এমন দৃশ্যের জন্য ওই বাড়িতে একাধিক দিন সোর্সকে পাঠানো হয়।

ভিডিও দেখা যায়, ইউপি সদস্যের স্ত্রী স্বপ্না বেগম এক দিন ২০টাকা কম পাওয়ায় ওই ব্যক্তির সাথে খারাপ আচরন করেন।
তখন ওই ব্যক্তি বলেন, এখানে প্রশাসন আসে না?  

স্বপ্না বেগম বলেন, এটা মেম্বরের বাড়ি। এখানে প্রশাসনের ক্ষমতা রাখে না। ম্যাজিস্ট্রেট হলে সমস্যা থাকে। তখন স্বপ্না বেগম বলেন, আজ দাম বাড়া জন্য ৫শ মাল ফেরত দিয়েছি। যেখানে কম পাবেন সেখানে গিয়ে খান। এখানে আসছেন কেন?। ইনট্যাক খান, খোলা খাবেন কেন?

ওই ব্যক্তি বলেন, সব সময় ইউপি সদস্যের (মেম্বরের) বাড়ি এখানে নিরাপত্তা বেশি। সেজন্য আসি। এটাকে দুর্বল ভাবেন কেন? ।

ফেন্সিডিলের টাকা সরাসরি ইউপি সদস্য বাদশা মিয়ার হাতে দেয়ার সময় বিগত দিনের স্ত্রীর খারাপ আচরনের বর্ননা দেন। যা শুনে তিনি(বাদশা) তার স্ত্রীকে বিষয়টি নিয়ে শাসন করেন। বলেন, ২০ টাকার জন্য তোকে এ কথা বলতে হবে কেন?

নগদ টাকা না থাকায় টাকা বিকাশে দিতে চাইলে বিকাশের নম্বরও বলেন ইউপি সদস্যের স্ত্রী স্বপ্না বেগম। উক্ত নম্বরে টাকা পৌছানোর সত্যতা পেয়ে তবেই ফেন্সিডিল পরিবেশন করেন ইউপি সদস্যের স্ত্রী। ওই নম্বরটিতে কল করলে আনোয়ার নামে একজন ফোন ধরে বলেন, বাদশা মেম্বরকে চিনি তবে এটা তার নম্বর নয়। স্থানীয় এক বিকাশ ব্যবসায়ীর নম্বরও দেয়া হয়েছে ফেন্সিডিলের এ বারে।

তবে এসব বিষয় অস্বীকার করে গোড়ল ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য বাদশা মিয়া বলেন, কার সাথে কথা বলছ? আমাকে চিন? কথাবার্তা ভাল করে বলবা। আপনার বাসায় ফিন্সিডিল বিক্রির বিষয়টি আপনি জানেন কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জানি না। বলেই ফোন কেটে দেন।

কালীগঞ্জ থানার ওসি এটিএম গোলাম রসুল বলেন, ইউপি সদস্য যত বড় মাপের নেতা হোক না কেন তাকে ধরা হবে। এই থানায় মাদক ব্যবসা করতে দিবে না। তিনি আরো বলেন, আমি নতুন এখনো অনেক কিছু আমার জানা নেই, ধীরে ধীরে তথ্য সব পাচ্ছি। সবাই সহযোগিতা করলে মাদক নিমূল করা সম্ভব। তাই সবার সহযোগিতা কামনা করছি।

জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম বলেন, ইউপি সদস্যের বাড়িতে ফেন্সিডিল ব্যবসা আমাদের কাছে তেমন কোন তথ্য নেই। এখন জানলাম অবশ্যই দ্রুত অভিযান চালানো হবে।

মন্তব্য করুন


Link copied