আর্কাইভ  মঙ্গলবার ● ৪ অক্টোবর ২০২২ ● ১৯ আশ্বিন ১৪২৯
আর্কাইভ   মঙ্গলবার ● ৪ অক্টোবর ২০২২
 
 
শিরোনাম: রংপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় ২ জন নিহত       পঞ্চগড়ে নৌডুবিতে ইজারাদার ও অদক্ষ মাঝিকে দায়ী করে প্রতিবেদন দাখিল       অপুকে ডিভোর্সের ১৪৮ দিন পর বুবলীকে বিয়ে করেন শাকিব       সয়াবিন তেলের দাম লিটারে কমল ১৪ টাকা       বিএনপির চেয়ে আওয়ামী লীগ এক ডিগ্রী বেশি- রংপুরে জিএম কাদের      

বীর বিক্রম শওকত আলী আর নেই; প্রধানমন্ত্রীর শোক

সোমবার, ২২ আগস্ট ২০২২, দুপুর ১১:৪৯

ডেস্ক: কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শওকত আলী সরকার বীর বিক্রম মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)। 

বীর মুক্তিযোদ্ধা শওকত আলী সরকার বীর বিক্রমের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা এক শোক বার্তায় মহান মুক্তিযুদ্ধে শওকত আলী সরকারের বীরত্বপূর্ণ অবদানের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে বলেন, তাঁর মৃত্যুতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ একজন নিবেদিতপ্রাণ নেতা হারালো এবং দেশ ও দলের অপূরণীয় ক্ষতি হলো।

সোমবার (২২ আগস্ট) ভোর ৫টায় ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি। চিলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহবুবুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। শওকত আলী সরকার দীর্ঘদিন ধরে লিভারের সমস্যায় ভুগছিলেন। তিনি ঢাকায় চিকিৎসাধীন ছিলেন। মৃত্যুকালে এই বীর মুক্তিযোদ্ধা স্ত্রী, চার মেয়ে ও দুই ছেলে রেখে গেছেন।

চিলমারী উপজেলা পরিষদ কার্যালয় সূত্র জানায়, মরদেহ সোমবার রাতে ঢাকা থেকে চিলমারীতে নেওয়া হবে। মঙ্গলবার বেলঅ ১১ টায় চিলমারী সরকারি ডিগ্রি কলেজ মাঠে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।

শওকত আলী সরকার ১৯৪৮ সালে চিলমারী উপজেলার রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের দক্ষিণ ওয়ারী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম ইজাব আলী সরকার এবং মায়ের নাম শরিতুজ নেছা। 

শওকত আলী সরকার ‘বীর বিক্রম’ খেতাবপ্রাপ্ত একজন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা। তিনি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে ১১ নং সেক্টরের সাবসেক্টর মাইনকারচরের অধীন কুড়িগ্রামের রৌমারী-চিলমারী অঞ্চলে সম্মুখ যুদ্ধে অংশ নেন। ওই সেক্টরের আবুল কাশেম চাঁদ কোম্পানির সেকেন্ড ইন কমান্ড ছিলেন। ৭১ সালের ১৩ নভেম্বর উলিপুরের হাতিয়া যুদ্ধে পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন। যুদ্ধকালীন বীরত্ব ও সাহসিকতার সঙ্গে পাক বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখ যুদ্ধ চালিয়েছিলেন। এজন্য পাকিস্তানি বাহিনীর কাছে তিনি ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ ছিলেন। 

মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অবস্থানের কারণে পাক বাহিনী তার বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন চিলমারী থানায় মামলাকরেছিল বলে জেলার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস থেকে জানা যায়। তার বীরত্বের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে বীর বিক্রম খেতাবে ভূষিত করে।

বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী শওকত আলী সরকার চিলমারী উপজেলা পরিষদের পাঁচ বারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন। উপজেলা পরিষদ চালুর পর থেকেই তিনি চিলমারী উপজেলা পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া প্রায় ৩৫ বছর ধরে তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

শওকত আলী সরকারের মৃত্যুতে চিলমারী উপজেলাসহ কুড়িগ্রাম জেলায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। জাতির এই সূর্য সন্তানের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন জেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা ও রাজনীতিবিদরা।

কুড়িগ্রাম উত্তরবঙ্গ যাদুঘরের প্রতিষ্ঠাতা ও একুশে পদকপ্রাপ্ত আইনজীবী আব্রাহাম লিংকন বলেন, ‘আমরা একজন সাহসী মানুষকে হারালাম। তার অভাব কখনও পূরণ হবার নয়। শুধু খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা নয় আমরা একজন সাহসী ও বিচক্ষণ রাজনীতিককে হারালাম। মহান আল্লাহ তাকে জান্নাত দান করুন।’

মন্তব্য করুন


Link copied