আর্কাইভ  শুক্রবার ● ১২ আগস্ট ২০২২ ● ২৮ শ্রাবণ ১৪২৯
আর্কাইভ   শুক্রবার ● ১২ আগস্ট ২০২২
PMBA
 
PMBA

ভূরুঙ্গামারী সীমান্ত দিয়ে অবাধে ঢুকছে মাদক ॥ উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা

বৃহস্পতিবার, ৪ আগস্ট ২০২২, রাত ০৮:৫৯

রাজারহাট(কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ কুড়িগ্রামের অধিকাংশ মাদকদ্রব্য ঢুকছে ভূরুঙ্গামারী সীমান্তের একাধিক পয়েন্ট দিয়ে। বিপদজনক এসব মাদকদ্রব্য বিভিন্ন হাত ঘুরিয়ে চলে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। সীমান্ত এলাকায় মাদকদ্রব্য সহজলভ্য হওয়ায় স্কুল,কলেজ গামী শিক্ষার্থী,যুবক ও এক শ্রেণির শ্রমিকরা মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে। 

কুড়িগ্রাম মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের তথ্য মতে,গত জুলাই মাসে তারা ১৮৫.১৭৫ কেজি গাজা, ইয়াবা টেবলেট ২৫৩২, ফেন্সিডিল ৭৫ বোতল, চোলাই মদ ১২ লিটার, টাপেন্টাডল ট্যাবলেট ৩২৬ পিচ, হেরোইন ৭৫ গ্রাম, ওয়াস ৮০০ লিটার, বিলাতি মদ ৪০ বোতল, মোট মামলার সংখ্যা-২২৪টি, আসামীর সংখ্যা ২৪১ জন। কুড়িগ্রাম জেলা পুলিশ আটক করেছে-৭০৯.৩২৯ কেজি গাজা,ইয়াবা টেবলেট ২৫২৯১,ফেন্সিডিল ১২৭২ বোতল, চোলাই মদ ৪০ লিটার,টাপেন্টাডল টেবলেট ৩২৬ পিচ, প্যাথেডিন ইনজেকশন ৪০০ পিস, হেরোইন ১৫৯.৮৫ গ্রাম,বিলাতি মদ ১৮৯ বোতল,মোট মামলার সংখ্যা-৩৯৬টি, আসামীর সংখ্যা ৪৯৩ জন। 
র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ান(র‌্যাব) আটক করেছে- ৫৮ কেজি গাজা, ইয়াবা টেবলেট ১৪১২৭, ফেন্সিডিল ৬৪ বোতল, হেরোইন ৩২ গ্রাম, মামলার সংখ্যা ২৩, আসামীর সংখ্যা ২৭ জন।

 বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) আটক করেছে ১৪২ কেজি গাজা, ইয়াবা ট্যাবলেট ৮৩৬১ পিচ, ফেন্সিডিল ৯৭১ বোতল, হেরোইন ৬৮.৬২ গ্রাম, বিলাতি মদ ১৬৫ বোতল, মোট মামলার সংখ্যা-১২০টি, আসামীর সংখ্যা ১০৯ জন।

ভূরুঙ্গামারী উপজেলাটি ভারত সীমান্ত বেষ্টিত হওয়ায় এ উপজেলার বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে অবাধে আসছে মদ, গাঁজা, হেরোইন, ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক। প্রতিদিন লাখ লাক টাকার মাদক কেনা বেচা হয় সীমান্তে বিভিন্ন পয়েন্টে। এখানে মাদক ব্যবসা এমন পর্যায়ে পৌঁছে গেছে যে, অর্ডার করলেই বাড়িতে চলে আসে মাদক।

অভিযোগ রয়েছে, মাদকের ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে স্থানীয় রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মি, অনেক জনপ্রতিনিধি ও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা। একারণে এলাকার সচেতন মহল এমনকি আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরাও মাদক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে নির্বিকার ভূমিকা পালন করেন। এ অবস্থায় স্কুলগামী শিক্ষার্থী ও যুব শ্রেণিকে নিয়ে অভিভাবক মহল উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ছে। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের প্রায় অর্ধশত স্পটে মাদকের রমরমা  ব্যবসা চলছে। শক্তিশালী সিন্ডিকেট এ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে। সূর্য অস্ত যাওয়ার সাথে সাথে এসব স্পটে মাদকের ভাসমান হাট বসে। জয়মনিরহাটের শিংঝাড় লালব্রীজের পাড় ও পুরাতন রেললাইনের দু’পাড়, সদর ইউনিয়নের সোনাতলী, মানিককাজি ঘাটের এপার-ওপার, লাকি সিনেমাহল পাড়া, গার্লসস্কুল পূর্বমোড়, ডিগ্রী কলেজের পাশে, নলেয়া, চর নলেয়া ও মধুছন্দা সিনেমা হলের পাশে, পাথরডুবী ইউনিয়নের বাঁশজানি, দিয়াডাঙ্গা, শিলখুড়ি, চর-ভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের নতুনহাট বাজার ও বাবুর হাট বাজারের পাশের কয়েকটি বাড়ি, তিলাই ইউনিয়নের দুধকুমোর নদের চরে খোচাবাড়ি এলাকা নামক একটি জায়গায়, পাইকেড়ছড়া ইউনিয়নের পাটেশ্বরী ও ফুটানীবাজারের আশে পাশের এলাকা, দক্ষিন তিলাই ঢাকাইয়া পাড়ার কয়েকটি বাড়িতে, শিলখুড়ির পাগলাহাট বাজারে, উত্তর ধলডাঙ্গা ও শালঝোড়ে এবং সোনাহাট স্থল বন্দরের আশপাসসহ, উপজেলার প্রায় অধিকাংশ এলাকায় মাদকের রমরমা ব্যাবসা চলছে।

জানা যায়, ভারতীয় সীমান্ত থেকে মাদক পাচার করে বাংলাদেশের আনার ক্ষেত্রে দু"দেশের প্রায় ২শতাধিক চোরাকারবারী সক্রিয় ভূমিকা রাখছে।   জনশ্রুতি রয়েছে, মাদক ব্যবসায়ীরা ভূরুঙ্গামারী উপজেলার কয়েকটি রুটে ভাগ করে নিরাপদে তাদের ব্যবসা চালিয়ে আসছে । এগুলো হলো শিংঝাড় থেকে মানিককাজি হয়ে বাগভান্ডার ও ছোট খাটামারি পর্যন্ত ফেনসিডিল আনার হাইওয়ে হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে । মানিক কাজি, পাথরডুবি ও বাশঁজানি হয়ে দিয়াডাঙ্গা পর্যন্ত রুটটি গাঁজা পরিবহনের রুট হিসেবে ব্যবহ্নত হচ্ছে । শালঝোড়, ধলডাঙ্গা, পাগলারহাট ও উত্তর তিলাই দিয়ে আসে মদ। এছাড়াও ছোট ছোট চালানে প্রায় সব রুট দিয়ে মাদকদ্রব্য আসছে।

কাজিয়ারচর, তিলাইয়ের ঢাকাইয়া পাড়া, চর- ভূরুঙ্গামারী হয়ে সোনাহাট স্থলবন্দর দিয়ে আসে হিরোইন ও ইয়াবার চালান।এসব মাদক সীমান্ত পেরিয়ে সড়ক পথে সদরে আসে। পরে বাস, মাইক্রোবাস, ট্রাক, ভ্যান-লরিতে করে দেশের বিভিন্ন স্থানে চলে যায়।
পুলিশ ও মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর মাঝে মধ্যে অভিযান চালিয়ে গাঁজা, হেরোইন, মদ ও ইয়াবাসহ মাদককারবারিকে আটক করলেও চিহ্নিত বড় বড় মাদক ব্যবসায়ীরা থাকছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে।

ভূরুঙ্গামারী সরকারি কলেজ পাড়ার নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক কয়েকজন ব্যাক্তি বলেন, আমাদের বাড়ির পাশেই দিনে রাতে মাদক কেনা বেচা ও মাদক পানের ধুম পড়ে যায়। মাদকের গন্ধে বাড়িতে থাকাই দায় হয়ে যায়। কিন্তুু মাদকসেবীদের ভয়ে নীরব হয়ে আছি। নাম প্রকাশের ভয়ে পুলিশকেও জানাতে পারছিনা।
সম্প্রতি মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্র অধিদপ্তরের একটি সেমিনারে জানান, প্রতিদিন অভিাবকরা মাদকসেবন কারী সন্তানের দ্বারা নির্যাতনের শিকার হয়ে বিচার নিয়ে আসছেন। শুধু তাই নয় অতিরিক্ত মাদক সেবন করে পাগলার হাটে এক ব্যক্তি মৃত্যুর অভিযোগ ওঠে।

এ বিষয়ে ভূরুঙ্গামারী থানার অফিসার ইনচার্জ আলমগীর হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, মাদকের বিষয়ে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত আছে। এ বিষয়ে কোন আপোষ নেই। মাদক নির্মূলে সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

কুড়িগ্রাম মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তর কুড়িগ্রামের সহকারী পরিচালক আবু জাফর বলেন, মাদক নির্মূলে সচেতনতা বৃদ্ধিতে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যম কর্মী ও স্থানীয় সুধিমহল নিয়ে কর্মশালা করছি। তিনি সংশ্লিষ্ট বিভাগের সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে বলেন, জেলার মধ্যে একটি মাত্র অফিস সেখানে আমাদের জনবল কম থাকায় ব্যাপক আকারে মাদক বিরোধী ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না।#

মন্তব্য করুন


Link copied