আর্কাইভ  বৃহস্পতিবার ● ১৮ আগস্ট ২০২২ ● ৩ ভাদ্র ১৪২৯
আর্কাইভ   বৃহস্পতিবার ● ১৮ আগস্ট ২০২২
 
PMBA

মাস্টার্স পাসের ৫ বছরেও পাননি চাকরি, রংপুরে কালো কালি মেখে প্রতিবাদ

বুধবার, ৫ জানুয়ারী ২০২২, রাত ১২:২৮

স্টাফ রিপোর্টার: পাঁচ বছর আগে অর্থনীতিতে মাস্টার্স পাস করে শতাধিক সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরির আবেদন করেছেন। লিখিত ও ভাইভায় উত্তীর্ণ হলেও শেষ পর্যন্ত অধরাই থেকে গেলো চাকরি। এতে নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস ও বৈষম্য দূর করার দাবিতে মুখে ও মাথায় কালো কালি মেখে রংপুর প্রেস ক্লাবের সামনে মঙ্গলবার (৪ জানুয়ারি) দিনভর হাতে লেখা ব্যানার নিয়ে একা অবস্থান ও মানববন্ধন করেছেন বেকার যুবক রেদওয়ান রনি।

রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার মাদারগঞ্জ গ্রামের আব্দুল লতিফ মণ্ডলের একমাত্র ছেলে রেদওয়ান রনি। তিনি জানান, তার বাবা স্থানীয় মাদ্রাসায় চাকরি করতেন। ২০১২ সালে অবসর নেওয়ার পর থেকে তিনিও বেকার। বৃদ্ধ বাবা-মা ও তিন বোনকে নিয়ে অনাহারে অর্ধাহারে মানবেতর দিন কাটছে তার।

আন্দোলনকারী এই যুবক জানান, ২০০৯ সালে এসএসসি ও ২০১১ সালে এইচএসসি পাস করার পর রংপুর সরকারি কলেজ থেকে ২০১৬ সালে অর্থনীতিতে অনার্স পাস করেন। এরপর ২০১৭ সালে রংপুর কারমাইকেল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে একই বিভাগে মাস্টার্স পাসের পর চাকরি পেতে এ পর্যন্ত শতাধিক সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে আবেদন করেছেন। তবে মেলেনি কাঙ্ক্ষিত চাকরি।

তার দাবি, ‘বর্তমান সমাজ ব্যবস্থা হয়ে পড়েছে টাকা নির্ভর। যাদের কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা আছে, তারা আগাম প্রশ্ন পেয়ে যায় এবং চাকরিও হয়ে যায়। কিন্তু আমার মতো দুর্ভাগা যারা, এক হাজার টাকা দেওয়ার সামর্থ্য নেই, তাদের মিলছে না চাকরি। সে কারণে অন্ধকার সমাজের প্রতিচ্ছবি হিসেবে মুখে কালি মেখে মানববন্ধনে একা দাঁড়িয়েছি।’

রনি বলেন, ‘পীরগঞ্জ হচ্ছে সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর আসন। তার সুপারিশ নিয়ে জমা দিয়েছি বিভিন্ন দফতরে, তবে চাকরি হয়নি আমার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুর্নীতিসহ সব ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন। তারপরও কেন প্রশ্নফাঁস হচ্ছে? যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও চাকরি হচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জিরো টলারেন্স নীতির বাস্তবায়ন চাই, সে জন্যই মানববন্ধনে দাঁড়িয়েছি।’ 

তিনি বলেন, ‘মাস্টার্সের পর অন্তত ২০টি সরকারি দফতরে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছি। এরপরও কেন আমার চাকরি হবে না? সম্প্রতি জনস্বাস্থ্য অধিদফতরে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর মৌখিক পরীক্ষায় ডাকা হয়। সেখানে ভাইভা বোর্ডে সব প্রশ্নের উত্তর দিয়েছি। আশা ছিল চাকরি নামের সোনার হরিণটা বোধহয় পেয়ে যাবো। কিন্তু হলো না। কয়েকদিন আগে সমাজ সেবা বিভাগে চাকরির লিখিত পরীক্ষার জন্য ঢাকায় ডাকা হলো। ধারদেনা করে গেলাম, কিন্তু আগের দিন ঘোষণা দেওয়া হলো পরীক্ষা স্থগিত। আমি করুণা চাই না, আমার যোগ্যতা থাকার পরও কেন চাকরি পাচ্ছি না- সেটাই প্রশ্ন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আবেদন, আমাকে চাকরির ব্যবস্থা করে দেন। বৃদ্ধ বাবা-মা ও বোনদের নিয়ে দুবেলা দুমুঠো খেয়ে বেঁচে থাকতে চাই। এটাই আমার আকুতি।’

মন্তব্য করুন


Link copied