আর্কাইভ  মঙ্গলবার ● ১৬ আগস্ট ২০২২ ● ১ ভাদ্র ১৪২৯
আর্কাইভ   মঙ্গলবার ● ১৬ আগস্ট ২০২২
 
PMBA

রংপুরের কাউনিয়ায় হত্যা মামলায় বাবা ও ছেলেকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত

বৃহস্পতিবার, ৩০ জুন ২০২২, রাত ০৮:৪৫

মমিনুল ইসলাম রিপন ॥ রংপুরের কাউনিয়ায় মেয়েকে ইভটিজিং করার প্রতিবাদ করায় বাবা আবুল বাশারকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় বাবা ও ছেলেকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত।

বৃহসপতিবার বিকেলে রংপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত ২ এর বিচারক তারিক হোসেন এ রায় প্রদান করেন। রায় ঘোষনার সময় দুই আসামী আদালতে উপস্থিত ছিলো। পরে পুলিশী পাহারায় ফাঁসির দন্ড প্রাপ্ত দুই আসামীকে আদালতের হাজত খানায় নিয়ে যাওয়া হয় এর পর পরেই তাদের কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার বিবরনে জানা গেছে রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার জিগাবাড়ি গ্রামের মা মরজিনা বেগম ও বাবা আবুল বাশারত এর মেয়েকে পার্শ্ববর্তী বিশ্বনাথপুর গ্রামের মাহবুর ইসলাম স্কুলে যাওয়া আসার পথে প্রায়শই ইভটিজিং করতো এবং নানা ভাবে উত্যাক্ত করতো। বিষয়টি মেয়ের বাবা নিহত আবুল  বাশারত বেশ কয়েকবার বখাটে আসামী মাহবুর ইসলামের বাবা নুর আমিনকে বিচার দিলে বাবা নুর আমিন ছেলেকে শাসন না করে বরং ছেলের অপকর্মকে সমর্থন দিয়ে উল্টো তাকে নানান ভাবে হুমকি প্রদান করে আসছিলো।

এ নিয়ে তাদের সাথে কয়েক দফা ঝগড়াও হয়েছে। এই ঘটনার জের ধরে  ২০১৮ সালের ২৫ নভেম্বর তারিখে ভিকটিম আবুল বাশারত আসামী মাহবুর ইসলাম ও তার বাবা নুর আমিনের বিশ্বনাথপুর গ্রামের বাড়ির সামনে দিয়ে নিজের বাসা জিগাবাড়ি  ফেরার পথে আসামীরা অন্যান্য আসামীদের সহায়তায় আবুল বাশারতের উপর অতর্কিতে হামলা চালিয়ে ছোড়া দিয়ে তাকে উপর্যুপরি শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে গুরতর আহত করে।

এলাকাবাসি উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করলে সেখানে চিকিৎসাধিন অবস্থায় ওই রাতেই তিনি মারা যান। এ ঘটনায় নিহত আবুল বাশারতের স্ত্রী মর্জিনা বেগম বাদী হয়ে বখাটে আসামী মাহবুর ইসলাম তার বাবা নুর আমিন সহ ৭ জনের নাম উল্লেখ করে কাউনিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে। পুলিশ তদন্ত শেষে ৪ আসামীর বিরুদ্ধে আদালতে চার্জসীট দাখিল করে। 

মামলায় ২০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহন ও জেরা শেষে বাবা নুর আমিন ও বখাটে ছেলে মাহবুর ইসলামকে দোষি সাব্যস্ত করে বিজ্ঞ বিচারক ফাঁসির আদেশ প্রদান করে রায় প্রদান করেন। সেই সাথে দুজনকে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানার আদেশ দেন আদালত। অন্যদিকে দুই আসামী মাইদুল ও মাহফুজার রহমানকে বেকসুর খালাস প্রদান করা হয়।

 বাদী পক্ষে মামলা পরিচালনাকারী আইনজিবী অতিরিক্ত পিপি নয়নুর রহমান টফি জানান এ রায়ের মধ্য দিয়ে ন্যায় বিচার প্রতিষ্টিত হলো বলে তিনি মনে করেন। তিনি আরো বলেন মেয়েকে ইভটিজিং করার প্রতিবাদ করায় আসামী বাবা নুর আমিন ছেলে আসামী মাহবুর ইসলামকে শাসন না করে উল্টো বাবা ছেলে ও অন্যান্য আসামীরা মিলে ভিকটিম আবুল বাশারতকে খুন করেছে।

বাদীপক্ষ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে এবং ফাঁসির রায় দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানিয়েছে। অপরদিকে আসামী পক্ষের আইনজিবী রশীদ চৌধুরী বলেন তারা ন্যায্য বিচার পাননি এ আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপীর করবেন। 

 

মন্তব্য করুন


Link copied