আর্কাইভ  শনিবার ● ৪ ডিসেম্বর ২০২১ ● ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৮
আর্কাইভ   শনিবার ● ৪ ডিসেম্বর ২০২১

রংপুরে তিনদিনের ইজতেমা শুরু

বৃহস্পতিবার, ২৫ নভেম্বর ২০২১, দুপুর ০৪:২৭

মমিনুল ইসলাম রিপন: রংপুর নগরে ঘাঘট নদীর কোল ঘেঁষে শুরু হয়েছে তাবলীগ জামায়াতের আঞ্চলিক ইজতেমা। বিশ্ব ইজতেমায় না যাওয়া রংপুর জেলার ২ লাখেরও বেশী মুসল্লী এতে অংশ নিবেন বলে ধারণা দিয়েছেন আয়োজক সংশ্লিষ্টরা।
বৃহস্পতিবার (২৫ নভেম্বর) ভোর থেকে নগরের রংপুর-সৈয়দপুর মহাসড়কের পাশে উত্তম হাজীরহাটের রব্বানীর চরে তিন দিনের এ ইজতেমা শুরু হয়।
ফজরের নামাজের পর আম বয়ান শুরু করে তাবলীগ জামাতের আলেমগণ। কোরআন ও হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে আল্লাহ ও নবী-রাসুলের হুকুম আহকাম মেনে চলার মধ্যেই ইহকাল ও পরকালে সুখ শান্তি রয়েছে বলে উল্লেখ্য করেন তারা।
শীতের তীব্রতা উপেক্ষা করে বিশাল আয়তনের এ মাঠে দূর-দূরান্ত থেকে আসা হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ মুসল্লি শামিয়ানার নিচে অবস্থান নেন। এখানে ১২টি খুঁটি বা খিত্তার নিচে একসঙ্গে ৫০ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন।
। আয়োজকরা জানিয়েছে, বুধবার (২৪ নভেম্বর) সকাল থেকেই রংপুর জেলাসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ধর্মপ্রাণ মানুষ ইজতেমা ময়দানে সমবেত হতে শুরু করেছেন। এখানে রংপুর মহানগর ও সদর উপজেলাসহ তারাগঞ্জ, বদরগঞ্জ, গঙ্গাচড়া, মিঠাপুকুর, পীরগঞ্জ, পীরগাছা এবং কাউনিয়া উপজেলার তাবলীগ জামাতের অনুসারীরা ছাড়াও বিভিন্ন এলাকা থেকে ইজতেমায় অংশ নিতে মুসল্লিরা আসছেন। 
ইজতেমায় বয়ান করতে রাজধানী ঢাকাসহ ইতোমধ্যে সৌদি আরব ও আফ্রিকা থেকে তাবলীগের মুরব্বীরা ময়দানে উপস্থিত হয়েছেন। সকাল থেকে স্থানীয় মুরুব্বিগণও বয়ান করছেন। পরবর্তীতে মাশোয়ারার ভিত্তিতে আগত আলেমগন বয়ানের মাধ্যমে দ্বীনের দাওয়াতে উদ্বুদ্ধ করবেন। 

এদিকে, ইজতেমা মাঠসহ আশপাশের এলাকাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবীরা নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তুলেছেন। র‌্যাব, পুলিশ, আনসার, ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরাসহ পোশাকধারী ও সাদা পোশাকে চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে। নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বসানো হয়েছে সিসি ক্যামেরাও।ইজতেমাকে নির্বিঘ্নে করতে পুলিশ কন্ট্রোল রুম খোলা রেখেছে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী।
যানবাহন রাখার ব্যবস্থা হিসেবে মাঠ সংলগ্নে গ্যারেজ তৈরি করা হয়েছে। রয়েছে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের ব্যবস্থা। মুসল্লিদের পয়ঃনিষ্কাশনে শৌচাগার, পাম্প ও ট্যাংকি স্থাপন করে অস্থায়ী গোসলখানা বানানো হয়েছে। এছাড়াও ইজতেমা মাঠের কোল ঘেঁষে থাকা ঘাঘট নদীর পাশাপাশি দুটি পুকুর প্রয়োজনীয় কাজে ব্যবহারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মাঠে রাতে আলোর জন্য হাজারের বেশি বৈদ্যুতিক বাল্ব সরবরাহ করা হয়েছে।
ইজতেমা প্রস্তুতি কমিটির সদস্য হাফিজুল ইসলাম হাফিজ বলেন, 'ইজতেমাতে রংপুর মহানগরীসহ আট উপজেলার মুসল্লিরা অংশ নিচ্ছেন। মাঠে বাঁশের খুঁটিতে টাঙানো পুরো শামিয়ানাটি ওয়াটার প্রুফ। এর নিচে এক সঙ্গে ৫০ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন।ইজতেমা মাঠের একটি স্কেচ ম্যাপ সংশ্লিষ্ট সবার হাতে পৌছে দেয়া হয়েছে। স্কেচ ম্যাপ অনুসরণ করে মুসল্লীরা নিজ নিজ উপজেলার হালকায় যেতে পারবেন। এবার ২ লাখের বেশি মানুষের উপস্থিতি ছাড়িয়ে যাবে বলে মনে করছেন তিনি।
ইজতেমা মাঠকে আলোকিত রাখতে বিদ্যুতের লাইন ছাড়াও শতাধিক জেনারেটর বসানো হয়েছে। চিকিৎসা সেবার জন্য সার্বক্ষণিক অর্ধ শতাধিক মেডিকেল টিম কাজ করবে মাঠে। তিনি আরও জানান, এই ইজতেমা শেষে এখান থেকে কয়েক হাজার মানুষ ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে ইসলামের দাওয়াত নিয়ে মুসল্লীরা যাবেন।
এদিকে ইজতেমাকে ঘিরে মাঠের আশপাশ ও রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়কের দুইপাশে ব্যবসার পসরা সাজিয়েছে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। যেন তিন দিনের এ আয়োজনকে ঘিরে বদলে গেছে উত্তম হাজীরহাট এলাকা। নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে যানবাহন চলাচলে ট্রাফিক পুলিশসহ স্বেচ্ছাসেবীরা কাজ করছেন। আগামী শনিবার (২৭ নভেম্বর) দুপুরে ইজতেমার শেষ দিনে বিশেষ মোনাজাত শেষে মানুষকে দ্বীনের দাওয়াত দেওয়ার জন্য এখান থেকে কয়েক হাজার মুসল্লি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাবেন।

মন্তব্য করুন


Link copied