আর্কাইভ  রবিবার ● ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ ● ১০ আশ্বিন ১৪২৯
আর্কাইভ   রবিবার ● ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২
 
 
শিরোনাম: উত্তরবঙ্গে তাপমাত্রা কমার আভাস       অস্কারে যাচ্ছে ‘হাওয়া’       রংপুরে জাপানি নাগরিক হত্যায় ইছাহাকের খালাসের আদেশ স্থগিত       রংপুরে ভুয়া চাকুরীদাতা প্রতারক চক্রের ২ সদস্য গ্রেফতার       মরিয়ম মান্নানের মা জীবিত উদ্ধার; ছিলেন স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে      

রংপুরে পদ্মা সেতুর উদ্বোধনে বর্ণিল আয়োজন

শনিবার, ২৫ জুন ২০২২, রাত ১০:২৬

মমিনুল ইসলাম রিপন: রংপুরের বিভাগীয় কমিশনার আবদুল ওয়াহাব ভূঞা বলছেন, বাঙালি এবং বাংলাদেশকে দাবিয়ে রাখা যাবে না; সেই কথার সার্থকতা প্রমাণ করেছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। পদ্মা সেতু শুধু সেতুই নয়, এটি একটি স্বপ্নের সফল ও বিস্ময়কর বাস্তবায়ন। প্রধানমন্ত্রী দেখিয়ে দিয়েছেন বাঙালি সব কাজই পারে। বাংলাদেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নেয়ার শক্তি এই সেতু। আমরা ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হবো, এটাও এখন খুবই সম্ভব। আমাদের এগিয়ে যাবার সাহস, স্বপ্ন ও অনুপ্রেরণার উৎস প্রধানমন্ত্রী এবং বিশ্বকে তাক লাগানো নবস্থাপনা পদ্মা সেতু।
শনিবার (২৫ জুন) সকালে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে রংপুর জেলা প্রশাসন আয়োজিত অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের তিনি পদ্মা বিজয়ের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে এসব কথা বলেন।
রংপুর বিভাগবাসীর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা ও অভিনন্দন জ্ঞাপন করে আবদুল ওয়াহাব ভূঞা বলেন, সব ষড়যন্ত্র, সংকট ও বাঁধাকে পিছনে ফেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে, এতে মানুষের কোনো সন্দেহ নেই। আমরা আজ অত্যন্ত খুশি। প্রধানমন্ত্রীকে অনেক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা। তিনি যতদিন প্রধানমন্ত্রী থাকবেন, বাংলাদেশ ততোই এগিয়ে যাবে। উন্নয়নের গতি বাড়বে।
একই অনুষ্ঠানে স্বাধীনতা পরবর্তী পদ্মা সেতুকে গর্বের স্থাপনা উল্লেখ করে রংপুরের জেলা প্রশাসক আসিব আহসান বলেন, পদ্মা সেতু শুধু দক্ষিণের নয়, এটি পুরো বাংলাদেশের। স্বাধীনতা পরবর্তী আমাদের সব থেকে গর্বের স্থাপনা এই সেতু। এটি শুধু দক্ষিণের ২১ জেলাকে যুক্ত করবে তা নয়, বাংলাদেশের পুরো অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করবে। আজকে এই সেতুর উদ্বোধনের মধ্যদিয়ে সারা দেশে অর্থনীতির ব্যাপক পরিবর্তন ঘটবে। আমরা আনন্দিত, গৌরবান্বিত পদ্মা সেতু আমাদের সেতু, এটি বাংলাদেশের সেতু।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ পুলিশের রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি দেবদাস ভট্টাচার্য্য, রংপুর সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র মাহমুদুর রহমান টিটু, রংপুর জেলার পুলিশ সুপার ফেরদৌস আলী চৌধুরী, রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মমতাজ উদ্দিন আহম্মেদ, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি সাফিউর রহমান সফি,সাধারণ সম্পাদক তুষার কান্তি মন্ডল, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট ছাফিয়া খানম প্রমুখ।
এরআগে সেতু উদ্বোধন উপলক্ষে সকাল নয়টায় রংপুর টাউন হল চত্বর থেকে একটি বর্ণিল আনন্দ শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রায় প্রতীকী পদ্মা সেতু, ঘোড়ার গাড়িসহ পদ্মাকন্যা শেখ হাসিনাকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বানানো ফেস্টুন, প্লাকার্ড আর মুখরিত স্লোগান নগরবাসীর উদ্বেলিত উচ্ছস্বিত করে। শোভাযাত্রা নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে জিলা স্কুল মাঠে গিয়ে শেষ হয়।  
মুন্সীগঞ্জের মাওয়া প্রান্ত থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকভাবে পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের পর জিলা স্কুল মাঠের বটতলায় বেলুন উড়িয়ে সেতুর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অংশ নেয় রংপুর জেলা প্রশাসন। পরে উপস্থিত সরকারি, বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, সংস্থা, সংগঠন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে আগতদের মিষ্টিমুখ করানো হয়। 
সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় একই মাঠে আতশবাজি ফুটিয়ে আনন্দ-উল্লাস আর রংপুর অঞ্চলের খ্যাতনামা শিল্পীদের পরিবেশনায় স্মরণীয় করে রাখায় পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী দিনটি। রংপুর নগরের মতো জেলার প্রতিটি উপজেলা শহরেও উদ্বোধন উপলক্ষে শোভাযাত্রা করা হয়েছে। 
এদিকে পদ্মা সেতুর উদ্বোধন আমেজে সারা দেশের মতো রংপুরকে বর্ণিল সাজে সাজানো হয়। নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড়ে প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে তোরণ স্থাপন, পোস্টারিং, ফেস্টুন সাটানো। মোড়ে মোড়ে দৃষ্টিনন্দন পদ্মা সেতুসহ প্রধানমন্ত্রীর ছবি সম্বলিত ব্যানারও সাটানো হয়। এছাড়াও নগরজুড়ে বাজানো হয়েছে ভাওয়াইয়ার সুরে মন মাতানো পদ্মা সেতুর গান।   

মন্তব্য করুন


Link copied