আর্কাইভ  শনিবার ● ৪ ডিসেম্বর ২০২১ ● ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৮
আর্কাইভ   শনিবার ● ৪ ডিসেম্বর ২০২১

রংপুরে পুলিশের অভিযানের পর যুবকের মৃত্যু, পদক্ষেপ জানতে চাইলেন হাইকোর্ট

মঙ্গলবার, ২ নভেম্বর ২০২১, দুপুর ০৪:৩৮

সেন্ট্রাল ডেস্ক: রংপুরের পুলিশের ‘অভিযানের’ পর তাজুল ইসলাম নামে এক যুবকের মৃত্যুর খবর উচ্চ আদালতের নজরে আনা হয়েছে। বুধবার (৩ নভেম্বর) এ বিষয়ে বিস্তারিত শুনানি ও আদেশ দেওয়া হবে।

মঙ্গলবার (২ নভেম্বর) হাইকোর্টের বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি খোন্দকার দিলিরুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল বেঞ্চে বিষয়টি নজরে আনেন ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাস গুপ্ত।

ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া জানান, ঘটনার পুরো বিষয়ে এসপির সঙ্গে কথা বলে খবর নিতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এ বিষয়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা উচ্চ আদালতকে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে রংপুর কাউনিয়া উপজেলার হারাগাছে একজনকে আটকের পর পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী হারাগাছ থানা ঘেরাও করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেছে। ভাঙচুর করা হয়েছে বেশ কয়েকটি গাড়ি। জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে রাবার বুলেট ও টিয়ারসেল ব্যবহার করেছে পুলিশ। নিহত তাজুল ইসলাম (৫৫) হারাগাছ পৌর এলাকার দালাল হাট নয়াটারী গ্রামের বাসিন্দা।

স্থানীয়রা জানান, হারাগাছ থানা পুলিশ সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে হারাগাছ পৌর এলাকার নতুন বাজার বছি বানিয়ার তেপথি মোড়ে অভিযানে যায়। সেখানে তাজুল ইসলামকে মাদকসহ আটকের পর মারধর করে পুলিশ। পুলিশের মারধরে তিনি জ্ঞান হারান। পুলিশ তাকে ধাক্কা দিলে পাশে দেয়ালে আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি। এর প্রতিবাদে থানা ঘেরাও করে ভাঙচুর চালায় এলাকাবাসী। তবে, মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছে পুলিশ।

পিটিয়ে হত্যার অভিযোগের ব্যাপারে কাউনিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা তারিন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘তিনি মাদকাসক্ত ছিলেন। তাকে পুলিশ ধরতে গিয়েছিল। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। মরদেহের সুরতহালের পর বিস্তারিত বলা যাবে।’

এলাকার পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘থানা এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। রাস্তার মোড়ে মোড়ে এলাকাবাসী অবস্থান নিলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।’

হারাগাছ থানার (ওসি) শওকত আলী সরকার জানান, তাজুল হেরোইন সেবন করছিলেন এমন খবর পেয়ে পুলিশ অভিযানে গিয়েছিল। আটকের পর তাকে হাতকড়া পরানো হয়। কিন্তু কাপড় নষ্ট করে ফেলায় পুলিশ তাজুলকে স্থানীয়দের জিম্মায় দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এর কিছুক্ষণ পর খবর আসে যে তিনি মারা গেছেন।

মন্তব্য করুন


Link copied