আর্কাইভ  মঙ্গলবার ● ৪ অক্টোবর ২০২২ ● ১৯ আশ্বিন ১৪২৯
আর্কাইভ   মঙ্গলবার ● ৪ অক্টোবর ২০২২
 
 
শিরোনাম: রংপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় ২ জন নিহত       পঞ্চগড়ে নৌডুবিতে ইজারাদার ও অদক্ষ মাঝিকে দায়ী করে প্রতিবেদন দাখিল       অপুকে ডিভোর্সের ১৪৮ দিন পর বুবলীকে বিয়ে করেন শাকিব       সয়াবিন তেলের দাম লিটারে কমল ১৪ টাকা       বিএনপির চেয়ে আওয়ামী লীগ এক ডিগ্রী বেশি- রংপুরে জিএম কাদের      

রংপুরে ভুয়া প্রকল্পের কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা!

সোমবার, ১৮ জুলাই ২০২২, দুপুর ০৩:০১

মহানগর প্রতিনিধি: রংপুরের কাউনিয়ায় মৌলিক স্বাক্ষরতা প্রকল্পের নামে সরকারী কোষাগার থেকে প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একটি এনজিও। তবে এ সংক্রান্ত একটি অডিও ফাঁসের পর লুণ্ঠিত টাকা গলার ফাঁসে পরিণত হয়েছে বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা ন্যাশনাল এজেন্সি ফর গ্রীণ রেভুলেশন-নগর নামে ওই প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কয়েকজন কর্মকর্তার। অডিও ফাঁসের পর পুরো বিষয়টি ধামাচাপা দিতে কয়েকজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতাদের কাছে দেন-দরবার করছেন তারা।  

অনুসন্ধানে, মৌলিক স্বাক্ষরতা প্রকল্প (৬৪ জেলা) -এর আওতায় কাউনিয়ায় ৬৪০টি স্কুলের মেয়াদ শেষ হয় গত জুন মাসে। জুন ক্লোজিং-এর শেষ দিন প্রকল্পের ৬শ ৪০ জন শিক্ষক- সুপারভাইজারের ৬ মাসের বেতন ৯৪ লাখ ৫৬ হাজার টাকা ছাড় করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তরের উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো। ২৬ জুন ২০২২ তারিখ এনজিও নগরের নির্বাহী পরিচালক মোজাফ্ফর আহমেদ, প্রকল্প পরিচালক শাহেদুল হক এবং প্রকল্প কর্মকর্তা মো. জাকারিয়ার স্বাক্ষর করা মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের সিডিবি ৩৯৬৫৫৩৫ চেকের মাধ্যমে স্বাক্ষরিত একটি চেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অ্যাকাউন্টে প্রেরণ করা হয়। কিন্তু একই ব্যক্তিদের ৪ জুলাই স্বাক্ষর করা একই ব্যাংকের সিডিবি ৩৯৬৫৫৩৭ আরেকটি চেকের মাধ্যমে ৭৪ লাখ ৬৫ হাজার টাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অ্যাকাউন্টে প্রেরণ করেন। 

এনজিও নগরের চিফ প্রজেক্ট ভিজিটর  ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক  মাহমুদুল হাসান পিন্টু দ্বিতীয় চেকের টাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অ্যাকাউন্টে জমা করতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার একান্ত সহকারী ফারুক হোসেনের কাছে দেন। কিন্তু এই চেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিনা তারিন গ্রহণ করেননি। এরইমধ্যে প্রকল্পের সুপারভাইজার ও শিক্ষকরা মূল টাকা থেকে ২০ লাখ টাকা কম প্রেরণের বিষয়টি জানতে পেরে নিজেদের মধ্যে এর প্রতিবাদ শুরু করেন। চিফ প্রজেক্ট ভিজিটর মাহমুদুল হাসান পিন্টু প্রকল্পের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে অন্যান্যদের সঙ্গে অডিও কলে কথা বলেন।

তিনি জানান, প্রকল্পের কাগজপত্রে দুর্বলতার কারণে ২০ লাখ টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন সকলের সঙ্গে কথা বলে ঘুষ প্রদানের সিদ্ধান্ত নেয়ার দাবিও করেন পিন্টু। পিন্টুর এই কথোপকথনের একটি অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে প্রকল্পের প্রায় কোটি টাকা লোপাটের পুরো আয়োজন প্রকাশ হয়ে পড়ে। 

৬শ ৪০টি স্কুলের খোঁজে নামলেও একটি মাত্র স্কুলে একটি প্যানাফ্লেক্স ব্যানারের খোঁজ পাওয়া যায় উপজেলার গাজিরহাট সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। কয়েকজন শিক্ষার্থীকেও পাওয়া যায় সেখানে। ওই কেন্দ্রের শিক্ষার্থী নূর ইসলাম জানান,  তারা মাস খানেক আগে একদিন এসেছিলেন। এক দিনের জন্য বই হাতে ছবি তুলে আবার বইগুলো ফিরিয়ে নিয়ে যান। এই ফটো সেশনের জন্য তাদের কেক খাওয়ানো হয় বলে জানান মোক্তার হোসেন। কিছু স্থানে ঘরভাড়া নেয়া হলেও দুচার দিন ক্লাসের পর আর কেউ আসেনি, ভাড়াও পরিশোধ করেনি- একথা বলেন, মহেন্দ্র নাথ। 

এ ব্যাপারে মোবাইলফোনে কথা হয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাহমিনা তারিনের সঙ্গে। তিনি বলেন, কোন এনজিওর টাকা ইউএনওর অ্যাকাউন্টে গ্রহণের সুযোগ নেই। ওই চেক তিনি ছুঁয়েও দেখেননি বলে দাবি করেন। প্রকল্পটি ঠিকভাবে চলেনি স্বীকার করে তিনি বলেন, শুরুর পর সংশ্লিষ্টরা টাকা-পয়সা না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েছিলো। 

চিফ প্রজেক্ট ভিজিটর মাহমুদুল হাসান পিন্টু এনজিও নগরের পুরো নাম মুখস্থ না থাকায় মোবাইলফোনে দেখে বলেন, প্রকল্পটি কাগুজে ছিলো। পুরো সময় স্কুলগুলো না চললেও প্রকল্পের টাকা শেষ পর্যন্ত তোলা যাবে এমন আশা পাওয়ার পর তিনি দুয়েক দিনের মধ্যে কাগজপত্র তৈরি করে ঢাকায় গিয়ে ২০ লাখ টাকা ঘুষের বিনিময়ে শেষ পর্যন্ত টাকা উদ্ধার করতে পারার কৃতিত্ব দাবি করেন। 

মাহমুদুল হাসান পিন্টু বলেন, এ কাজে কয়েকজন সুপারভাইজারও তাঁর সঙ্গে ঢাকায় গিয়েছিলেন। চেক হাতে পাবার পর সেই চেকসহ সবাই মিলে সেলফি তুলে ফেসবুকেও দিয়েছেন।

এনজিওর  কো-অর্ডিনেটর শাহেদুল হক রাজু স্বীকার করেন প্রকল্পটির বাস্তবায়ন সেভাবে হয়নি। পিডি অফিসে ২০ লাখ টাকা ঘুষ দেয়া হয়েছে বলে জোড়ালোভাবেই দাবি করেন। আর সে কারণেই সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে।   

প্রকল্প পরিচালক শামিমুল হক পাভেল ২০ লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণের কথা অস্বীকার করে বলেন, ৯৪ লাখ টাকাই এনজিও নগরকে ইস্যু করা হয়েছে। তবে প্রকল্পটি অস্তিত্বহীন থাকার প্রসঙ্গে পাল্টা প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ৬ মাস ধরে চলা এই প্রকল্পের ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ সংশ্লিষ্টরা কেন তার কাছে অভিযোগ করলেন না?

মন্তব্য করুন


Link copied