আর্কাইভ  মঙ্গলবার ● ৫ জুলাই ২০২২ ● ২১ আষাঢ় ১৪২৯
আর্কাইভ   মঙ্গলবার ● ৫ জুলাই ২০২২
PMBA
PMBA

রংপুর ইপিজেড: ২ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে

সোমবার, ৩০ মে ২০২২, সকাল ০৮:৫৭

ডেস্ক: গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়া ‘রংপুর চিনিকলে’র মালিকানাধীন সাহেবগঞ্জ বাণিজ্যিক খামারের জমিতে ‘রংপুর ইপিজেড’ স্থাপনের কার্যক্রম শুরু হওয়ায় খুশি স্থানীয়রা। উত্তর জনপদের প্রান্তিক মানুষের কাছে এ যেন এক নতুন স্বপ্নের ঠিকানা। সম্প্রতি সাইনবোর্ড টানানোর মাধ্যমে দেশের ১০ম ইপিজেড হিসেবে রংপুর ইপিজেড এর কার্যক্রম শুরুর পর থেকে স্থানীয়দের খুশি আরও বেড়েছে। এই ইপিজেড বাস্তবায়ন হলে এলাকার সাঁওতাল সম্প্রদায়সহ জেলার প্রায় ২ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলে স্বপ্ন দেখছেন এখানকার সকল পেশার মানুষ।

জানা যায়, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে মাত্র ৬ কিলোমিটার দূরে গোবিন্দগঞ্জ-দিনাজপুর ভায়া-ঘোড়াঘাট আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশেই বন্যামুক্ত উঁচু জমিতে এই ইপিজেড স্থাপন করা হচ্ছে। এই ইপিজেড থেকে ৩২ কিলোমিটার দূরে হিলি স্থলবন্দর আর ৭০ কিলোমিটার দূরে সৈয়দপুর এবং ৩৪ কিলোমিটার দূরে সম্প্রসারণাধীন বগুড়া বিমানবন্দরের অবস্থান। এছাড়া প্রস্তাবিত ইপিজেড থেকে মহিমাগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনের দূরত্ব ১৭ ও গাইবান্ধা রেলস্টেশনের দূরত্ব ৩২ কিলোমিটার এবং ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের দূরত্ব মাত্র ৭ কিলোমিটার। যোগাযোগ ও মালামাল সরবরাহ এবং পরিবহনের ক্ষেত্রে এই ইপিজেড সুবিধাজনক অবস্থানে থাকায় বেপজা এই স্থান নির্বাচনে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে।

শিল্পমন্ত্রণালয়ে প্রেরিত রংপুর চিনিকল ও উপজেলা প্রশাসনের প্রতিবেদনে জানা গেছে, রংপুর চিনিকলের আওতাধীন সাহেবগঞ্জ খামারটি ১৯৫৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। সে সময় উপজেলার সাপমারা ইউনিয়নের নরেঙ্গবাদ মৌজার সাঁওতালদের ২১৬ একর ৭৭ শতাংশ এবং অন্যান্যদের ৫৬৬ একর ২ শতাংশ, চকরহিমাপুর মৌজার সাঁওতালদের ১০৩ শতাংশ ও অন্যান্যের ৪৯ একর ৮৫ শতাংশ, রামপুর মৌজার সাঁওতালদের ৫০ একর ১৬ শতাংশ ও অন্যান্যদের ২৬০ একর  ১৭ শতাংশ, সাপমারা মৌজার সাঁওতালদের ৫০ একর ৩ শতাংশ ও অন্যান্যদের ২১৩ একর ১ শতাংশ, মাদারপুর মৌজার সাঁওতালদের ১৫৮ একর ৪৪ শতাংশ ও অন্যান্যের ৩৩৬ একর ১৬ শতাংশ জমি এলএ কেসের মাধ্যমে অধিগ্রহণ ও ডিড অব এগ্রিমেন্ট দলিলমূলে সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামারটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। এর মোট জমির পরিমাণ ১ হাজার ৮৪২ একর।

বর্তমানে চিনিকলটির উৎপাদন বন্ধ থাকায় সাহেবগঞ্জ বাণিজ্যিক খামার পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে। সরকার রুগ্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান সচল করার অংশ হিসেবে বন্ধ হওয়া ইক্ষু খামারের ৪৫০ একর জমিতে ইপিজেড স্থাপন করে বিকল্প ব্যবস্থায় কর্মসংস্থানের উদ্যোগের নেয়। এর অংশ হিসেবে ২০১৯ সালের ১৩ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বেপজা গভর্নর বোর্ডের ৩৪তম সভায় গৃহীত অন্যান্য সিদ্ধান্তের মধ্যে রংপুর চিনিকলের সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামারের ১ হাজার ৮৩২ একর জমিতে ‘রংপুর রপ্তানী পক্রিয়াজাতকরণ এলাকা’ (আরইপিজেড) স্থাপনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। সে মোতাবেক শিল্পমন্ত্রণালয় এ জমি বেপজার অনুকূলে হস্তান্তরের নির্দেশনা দেয়। ওই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে নিমিত্তে তপশীলি জমির বাজার মূল্য ২০২০ সালের ২৫ জুলাই ওই জমির মৌজা ও জমির শ্রেণিভিত্তিতে জমির মূল্য নির্ধারণ করে। বাংলাদেশ রপ্তানী প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা) ইতিমধ্যে খামারটি রংপুর চিনিকলের নিয়ন্ত্রণাধীন হওয়ায় চিনিকলের নামানুসারে ইপিজেড এর নামকরণ করেছে রংপুর ইপিজেড (আরইপিজেড)। গত ২৫ মে আরইপিজেড এর নামে গোবিন্দগঞ্জ-দিনাজপুর ভায়া-ঘোড়াঘাট আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে ৩টি সাইনবোর্ড লাগানোর কারণে এলাকায় বইছে আনন্দের বন্যা।

আরইপিজেড সংলগ্ন কাইয়াগঞ্জ গ্রামের আমির হোসেন বলেন, কাজের জন্য আগে ছেলে-মেয়েদের ঢাকা পাঠাতাম। এখানে ইপিজেড নির্মাণ সম্পন্ন হলে তারা এখানেই তাদের কাজ পাবে। কাটাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জোবায়ের হাসান শফিক মাহমুদ গোলাপ বলেন, সাহেবগঞ্জ বাণিজ্যিক খামারে আরইপিজেড বাস্তবায়ন হলে এই এলাকার বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান হবে।

গেবিন্দগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফ হোসেন বলেন, সাহেবগঞ্জ বাণিজ্যিক খামারে এই ইপিজেড স্থাপনে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। সে মোতাবেক বেপজা তাদের যাবতীয় কার্যক্রম এগিয়ে নিয়েছে।

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ প্রধান জানান, আরইপিজেড নির্মাণ ও উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করলে উত্তরে জনপদ দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সমগ্র গাইবান্ধা জেলা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রায় ২ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে এখানে।

মন্তব্য করুন


Link copied