আর্কাইভ  রবিবার ● ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ ● ১০ আশ্বিন ১৪২৯
আর্কাইভ   রবিবার ● ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২
 
 
শিরোনাম: রংপুরে ভুয়া চাকুরীদাতা প্রতারক চক্রের ২ সদস্য গ্রেফতার       মরিয়ম মান্নানের মা জীবিত উদ্ধার; ছিলেন স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে       ডেপুটি স্পিকারের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আ.লীগের দুই গ্রুপে সংঘর্ষ       এনআইডিতে লাগবে ১০ আঙুলের ছাপ       গাইবান্ধা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সিদ্দিক, সম্পাদক মোজাম্মেল      

রংপুর ক্যান্টনমেন্ট ঘেরাও দিবস আজ

সোমবার, ২৮ মার্চ ২০২২, সকাল ০৮:২৫

মমিনুল ইসলাম রিপন: ১৯৭১ সালের ২৮ মার্চ রংপুরবাসী ক্যান্টনমেন্ট ঘেরাও করে সৃষ্টি করেছিল স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের অনন্য ইতিহাস। এই দিনে বাঁশের লাঠি তীর-ধনুক নিয়ে স্বাধীনতাপ্রিয় প্রতিবাদী মানুষ রংপুর ক্যান্টনমেন্ট ঘেরাও করেন। ওই দিন শত শত মানুষ আত্মহুতি দিলেও তাদের রাষ্টীয় স্বীকৃতি আজও মেলিনি।   

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ঐতিহাসিন ভাষণের পর দেশের মানুষ  প্রস্তুতি গ্রহণ করে সশস্ত্র সংগ্রামের। এরই অংশ হিসেবে রংপুর ক্যান্টনমেন্ট ঘেরাও এর ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে স্বাধীনতাকামী মানুষ। দিনক্ষন ঠিক হয় ২৮ মার্চ। ঘেরাও অভিযানে যোগ দেয়ার আহবান জানিয়ে রংপুরের বিভিন্ন হাটে-বাজারে ঢোল পিটানো হয়। আর এ আহবানে অর্ভূতপূর্ব সারা মেলে। সাজ সাজ রব পড়ে যায় চারিদিকে। যার যা আছে তাই নিয়ে ক্যান্টনমেন্ট আক্রমণের জন্য প্রস্তুতি নেয় এ অঞ্চলের ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে ছাত্র, কৃষক, দিনমজুরসহ সকল পেশার সংগ্রামী মানুষ। এক্ষেত্রে মিঠাপুকুর ও বদরগঞ্জ উপজেলার ওরাঁও  এবং সাওতাল সম্প্রদায়ের তীরন্দাজ ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য।

তীর-ধনুক, বল্লম, দা, বর্শা নিয়ে তারা যোগ দিয়েছিল ঘেরাও অভিযানে। ২৮ মার্চ রোববার সকাল থেকে রংপুরের বিভিন্ন এলাকার মানুষ সংগঠিত হতে থাকে। সকাল ১১টা বাজতে না বাজতেই সাজ সাজ রব পড়ে যায় চারিদিকে। জেলার মিঠাপুকুর, বলদীপুকুর, মানজাই, রানীপুকুর,তামপাট, পাঠিচড়া, বুড়িহাট, গঙ্গাচড়া, শ্যামপুর, দমদমা, লালবাগ, গনেশপুর, দামোদরপুর, পাগলাপীর, সাহেবগঞ্জ সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার মানুষ একত্রিত হতে থাকে। সবার হাতে লাঠি-সোটা, তীর-ধনুক, বর্শা, বল্লম, দা ও কুড়াল। তারা ক্যন্টনমেন্ট আক্রমনের প্রস্তুতি গ্রহণ করে এগিয়ে যেতে থাকেন।  
বীরমুক্তিযোদ্ধা সদরুল আলম দুলু বলেন, হাজার হাজার মানুষ যখন ক্যান্টনমেন্ট ঘেরাও প্রস্তুতি নেয় সে সময়  ক্যান্টনমেন্ট থেকে গোটা দশেক জীপ বেরিয়ে আসে এবং মিছিল লক্ষ্য করে শুরু হয় একটানা মেশিনগানের গুলিবর্ষণ। মাত্র ৫ মিনিটে চারিদিক নিস্তব্ধ হয়ে যায়। শত শত লাশ পরে থাকে মাঠে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মাঠের মধ্যে ছড়িয়ে থাকা মানুষগুলোকে টেনে হিঁচড়ে ্এনে এক জায়গায় জড়ো করা হয় পুড়িয়ে ফেলার জন্য। কিন্তু তখনো যারা বেঁচে ছিল তাদের গোঙ্গানিতে বিরক্ত হয়ে উঠেছিল পাঞ্জাবী জান্তারা। পরে তাদেরকে বেয়োনেট দিয়ে খুঁচিয়ে চিরতরে থামিয়ে দেয়া হয় । 
 

২০ নং ওয়ার্ড কাউন্সিল তৌহিদুল ইসলাম বলেন, আমার বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা তৈয়বুর রহমান সেদিনের আন্দোলনে নেতৃত্ব দিযেছিল। তার কাছে শুনেছি, পাস্তিনিদের গুলিতে আহতদের আর্তনাদে  সেদিন গোটা এলাকার আকাশ বাতাস ভারী হয়ে উঠছিল।  সেদিন ৫ থেকে ৬ ’শ মৃতদেহ পেট্রোল ঢেলে জ্বালিয়ে দেয় হানাদাররা। ২৮ মার্চ মুক্তিযুদ্ধ তথা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সাথে এটাই মুখোমুখি প্রথম যুদ্ধ। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, সেদিনের সেই ত্যাগের স্বীকৃতি, জাতীয় ভাবে আজো মেলেনি। তিনি এই দিন যারা শহীদ হয়েছেন তাদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দাবি করেন। 

প্রতি বছর এই দিনে বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে নানা অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে পালিত হয় ক্যান্টনমেন্ট ঘেরাও দিবস। রংপুরবাসী এই দিনে “রক্ত গৌরব” স্মৃতিস্তম্ভের পাদদেশে ফুল দিয়ে সম্মান প্রদর্শন করেন।

মন্তব্য করুন


Link copied