আর্কাইভ  রবিবার ● ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ ● ১০ আশ্বিন ১৪২৯
আর্কাইভ   রবিবার ● ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২
 
 
শিরোনাম: মরিয়ম মান্নানের মা জীবিত উদ্ধার; ছিলেন স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে       ডেপুটি স্পিকারের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আ.লীগের দুই গ্রুপে সংঘর্ষ       এনআইডিতে লাগবে ১০ আঙুলের ছাপ       গাইবান্ধা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সিদ্দিক, সম্পাদক মোজাম্মেল       ঠাকুরগাঁওয়ে মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নিহত ২      

রংপুর নগরী পানিতে তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কা নগরবাসীর

বুধবার, ১ জুন ২০২২, সকাল ০৯:০১

ডেস্ক: আসন্ন বর্ষা মৌসুমে রংপুর নগরী পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশংকা করছে নগরবাসী। রংপুর সিটি করপোরেশনের যেসকল ড্রেন রয়েছে যে সকল ড্রেন ময়লা আর্বজনা ভরে গেছে। অনেক ড্রেন ভাঙাচোরা। সংস্কার করা হয় না অনেকদিন। ডেনের মুখগুলো বন্ধ। পানি নিষ্কাশনের কোন ব্যবস্থা নেই। এছাড়া নগরীর পানি নিষ্কাশনের জন্য একমাত্র শ্যামাসুন্দরী খালটিও দীর্ঘ দিন ধরে করা হচ্ছে না খনন ও সংস্কার।

রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রকৌশল দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের জুলাই মাসে নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য ৪৬ দশমিক ৯৯ কিলোমিটার আরসিসি ড্রেন নির্মাণ এবং দুটি ব্রিজ নির্মাণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। ৬২ কোটি ৬ লাখ টাকায় পৃথক ৬৩টি প্রকল্পের মাধ্যমে কাজ শুরু হয়। শেষ হবার কথা ছিল চলতি বছরের জুন মাসে। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ে এই প্রকল্পের কাজ শেষ হচ্ছে না। এজন্য আরও এক বছর মেয়াদ বাড়ানো কথা ভাবা হচ্ছে।

নগরীর বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, ৩৩টি ওয়ার্ডের কাজ শেষ হওয়ার কথা বলা হলেও বাস্তবে তা হয়নি। নগরীর প্রতিটি পাড়া মহল্লায় ড্রেন নির্মাণ হয়েছে। ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে বর্ধিত এলাকাতেও। কিন্তু প্রায় প্রতিটি ড্রেনের মুখ বন্ধ। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেই। এমনকি এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত পানি নামার পথও প্রায় বন্ধ। এছাড়া অনেক ড্রেন এখনো হস্তান্তর করেনি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। কোন কোন ড্রেনের কাজ চলমান রয়েছে। এ কারণে ভারি বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা হবে নগরীতে। রংপুর নগরীর পানি নিষ্কাশন হয় শ্যামাসুন্দরী খালে। সেখানে থেকে যায় ঘাঘট নদীতে। কিন্তু সেই শ্যামা সুন্দরী খালটিও পুরো দখল মুক্ত হয়নি। খালটি ভরাট হয়েছে। খালটির কোথাও কোথাও ময়লা আবর্জনার ভাগারে পরিণত হয়েছে। ফলে সেই বৃষ্টি হলে ফের দুর্ভোগে পড়ার আশঙ্কা করছেন নগরবাসী।

নগর মীরগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা সেকেন্দার রহমান বলেন, খালি ড্রেন বানালে তো হবে না। ড্রেনের পানি কোথায় পড়বে সেটাও তো দেখতে হবে। ড্রেনের পানি যেখানে পড়বে সেখানে তো ধানি জমি। তাহলে পানি নিষ্কাশন হবে না। জমিতেই আটকে থাকবে পানি।

নগর ভবনে কর্মরত প্রকৌশলীরা জানান, শ্যামা সুন্দরী খালের কিছু অংশ পরিস্কার করা হয়েছে। তবে খনন করা হয়নি। খননের জন্য প্রকল্প হাতে নিয়ে প্রাথমিক কাজ চলছে। নগরীর ধাপ পাশারীপাড়া এলাকার শিক্ষক রওশন আরা বেগম জানান, পরপর দুই বছরের বন্যায় নগরবাসীর অসহীন সমস্যার মুখে পড়েছিল। টানা ১০ দিন পানির নিচে থাকতে হয়েছে তাদের। কিন্তু বর্তমানে ড্রেনগুলোর যে অবস্থা তা এবারও পানিতে তলিয়ে যাবার আশংকা রয়েছে। নগরীর সেনপাড়া এলাকার বাসিন্দা সাংবাদিক রাজু আহামেদ জানান, তার এলাকায় সামান্য বৃষ্টি হলে তলিয়ে যায়। তার বাড়ির পাশে শ্যামাসুন্দরী খাল। খালটি খনন করা হলে সমস্যার কিছুটা সমাধান হতে পারে। নগরীর মুলাটোল এলাকার বাসিন্দা আবেদুল হাফিজ জানান, খালি ড্রেন বানালে তো হবে না। ড্রেনের পানি কোথায় পড়বে সেটাও তো দেখতে হবে। গত দুই বছর যে বন্যা হয়েছে তা আমি এই বয়সে দেখিনি। ১৯৮৮ সালে একবার বন্যা হইছে কিন্তু এত পানি হয়নি শহরে।  আমরা আর ওই রকম বন্যা দেখতে চাই না। সময় আছে ড্রেন দিয়ে পানি নামার ব্যবস্থা করতে হবে। পানি যদি দ্রুত নামতে পারে তাহলে জলাবদ্ধতা হবে না। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা আগে করতে হবে।

রংপুর আবহাওয়া অফিসের সহকারী পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, মধ্য জুন এর আগেই রংপুরে ব্যাপক বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। রংপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী আজম আলী জানান, জলাবদ্ধতা নিরসনের যে প্রকল্প সেই প্রকল্পের কাজ ৮০ ভাগ শেষ হয়েছে। সামান্য কিছু কাজ বাকি আছে, সেজন্য আরও এক বছর সময় চাইবো আমরা।

রংপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী আজম আলী বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনের যে প্রকল্প সেই প্রকল্পের কাজ ৮০ ভাগ শেষ হয়েছে। সামান্য কিছু কাজ বাকি আছে সে জন্য আরও এক বছর সময় চাইব আমরা।

রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা জানান, নগরজুরে ব্যাপক কাজ করা হয়েছে। ইতোপূর্বে এমন উন্নয়ন কাজ কখনো হয়নি। ড্রেন কালভার্ট, সড়ক সংস্কার করা হয়েছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে। কিছু কাজ বাকি আছে সেগুলোও চলছে, কাজ চলমান থেমে নেই। 

মেয়র বলেন, ড্রেনগুলোও সংস্কার করা হচ্ছে। তবে আমি বলব, এসব ড্রেন পরিষ্কার রাখতে নগরবাসীকেও এগিয়ে আসতে হবে। তারা যেন যেখানে-সেখানে ময়লা-আবর্জনা না ফেলে, ড্রেনের মুখ বন্ধ না করে। ড্রেনের মুখ বন্ধ না থাকলে পানি মহূর্তেই নেমে যাবে, জলাবদ্ধতা হবে না।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর রাত থেকে সকাল পর্যন্ত টানা বৃষ্টিপাতে নগরীর ৩৩ ওয়ার্ডের ৮০ শতাংশ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে যায়। আবহাওয়া অফিস বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছিল ৪৩৩ মিলিমিটার। ওই বৃষ্টিতে কয়েক লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ে।

মন্তব্য করুন


Link copied