আর্কাইভ  শুক্রবার ● ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২ ● ১৫ আশ্বিন ১৪২৯
আর্কাইভ   শুক্রবার ● ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২
 
 
শিরোনাম: রুপালি পর্দা- প্রেম, বিয়ে, সন্তান কেন এত অসম্মান?       ঠোঁটের কালচে দাগ দূর হোক, ফিরিয়ে আনুন গোলাপি ভাব       বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে ১০ দিন সকল প্রকার আমদানি রফতানি বন্ধ       বিদেশিদের কাছে বিএনপির অপশাসনের চিত্র তুলে ধরুন: প্রধানমন্ত্রী       পূজাকে বিয়ের প্রস্তাব পাঠিয়েছেন শাকিব      

রংপুর বিভাগে অগ্নিকান্ডের  ৭০ শতাংশই বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট

মঙ্গলবার, ১ ফেব্রুয়ারি ২০২২, বিকাল ০৬:২৯

নিজস্ব প্রতিবেদক॥রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় গতএক বছরে ২১সালে অগ্নিকান্ড সংঘঠিত হয়েছে ৪ হাজার ২৫৩ টি। সংঘটিত অগ্নিকান্ডের মধ্যে শহর এলাকার ৭০ শতাংশ অগ্নিকান্ডই বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে হয়েছে বলে ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে ।

সংঘটিত অগ্নিকান্ডের ফলে ৬ জন নারী-পুরুষ নিহত এবং ২২ জন আহত হয়েছে। এসব অগ্নিকান্ডে সোয়া ২৫ কোটির বেশী টাকা মূল্যের সম্পদ পুড়ে ভস্মিভুত হয়েছে। এছাড়া ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার কর্মীরা এ সময়ে প্রায় সাড়ে ৭৭ কোটি টাকা মূল্যের সম্পদ উদ্ধার করেছেন। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরীর দল  ১১৬ টি দূর্ঘটনায় নিহত ৭৬ জন পুরুষ ও ১৪ জন নারীর লাশ উদ্ধার করেছেন।  


রংপুর বিভাগীয় ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স দপ্তর সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, বিগত ২০২১ সালের এক বছরে রংপুর বিভাগের রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও এবং পঞ্চগড় জেলায় মোট ৪ হাজার ২৫৩ টি বিভিন্ন ভাবে অগ্নিকান্ড সংঘটিত হয়েছে।

এ সময়ে সংঘটিত অগ্নিকান্ডের ফলে ৬ জন নারী-পুরুষ নিহত এবং ২২ জন আহত হয়। এর মধ্যে ৫ জন পুরুষ ও ১ জন নারী নিহত এবং ১৮ জন পুরুষ ও ৪ জন নারী আহত হয়েছেন।

এসব অগ্নিকান্ডে সোয়া ২৫ কোটির বেশী টাকা মূল্যের সম্পদ পুড়ে ভস্মিভুত হয়েছে। অগ্নিকান্ডে হতাহতের মধ্যে গ্যাস সিলিন্ডার এবং বিভিন্ন মার্কেট ও হাট-বাজারের অগ্নিকান্ডেই বেশী রয়েছে। একই সময়ে  ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা বিভিন্ন র্দূঘটনা এবং অগ্নিকান্ডে নিহত ৫ জন পুরুষ ও ৪ জন নারী এবং আহত ২৩ জন পুরুষ ও ৩ জন নারীকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন।

এছাড়া ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার কর্মীরা এ সময়ে প্রায় সাড়ে ৭৭ কোটি টাকা মূল্যের সম্পদ উদ্ধার করেছেন। এ ছাড়াও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরীর দল  ১১৬ টি দূর্ঘটনায় নিহত ৭৬ জন পুরুষ ও ১৪ জন নারীর লাশ উদ্ধার করে।সংঘটিত অগ্নিকান্ডের মধ্যে বৈদূতিক শর্ট সার্কিট থেকে সবচেয়ে বেশী ১ হাজার ২০৬ টি অগ্নিকান্ড হয়েছে। এছাড়া ইলেকট্রিক চুলা, গ্যাস ও মাটির চুলা থেকে ৯১৭ টি অগ্নিকান্ড ঘটেছে।

এরপরেই রয়েছে বিড়ি-সিগারেটের আগুন থেকে ৮২৪ টি, ছোট শিশুদের আগুন নিয়ে খেলার মাধ্যম ৩২০ টি, উত্তপ্ত ছাই ও জ্বালানী থেকে সৃষ্ট ২৬৩ টি, খোলা বাতির যথেচ্ছা ব্যাবহার থেকে ১৮৩ টি, উশৃঙ্খল জনতা এবং শত্রুতা মুলক ভাবে অগ্নিসংযোগে ৮০ টি, যন্ত্রাংশের ত্রুটি জনিত কারনে ৪৫ টি, গ্যাসের লাইনের ত্রুটি থেকে ১৩ টি, গ্যাস সিলিন্ডার এবং বয়লার বিস্ফোরনের মাধ্যমে ৮ টি, যানবাহনের দূর্ঘটনার কারনে ৩ টি, বজ্রপাতের মাধ্যমে ২ টি, মেশিনের মিস ফায়ারে ২ টি, রাসায়নিক বিক্রিয়ায় ১ টি, বাজি পোড়ানোর মাধ্যমে ১ টি, উচ্চতাপ জনিত কারনে ১ টি এবং অজ্ঞাত অন্যান্য কারনে ৩৮৪ টি অগ্নিকান্ড সংঘটিত হয়েছে।      

     
ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স বিভাগের রংপুর বিভাগীয় কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপ পরিচালক মোহাম্মদ ছালেহ উদ্দিন জানান, সংঘটিত অগ্নিকান্ডের শহর এলাকার ৭০ শতাংশ অগ্নিকান্ডই বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে সূত্রপাত হয়েছে।

এতে বিভিন্ন মিল-কারখানা, আবাসিক ভবন, পাটের গুদাম, বস্ত্র ও সুতার কারখানা এবং গুদাম, সরকারী-বেসরকারী অফিস এবং বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে এসব অগ্নিকান্ড সংঘটিত হয়েছে। এর কারন হিসেবে তিনি জানান, নিম্নমানের নকল বৈদ্যূতিক ক্যবল এবং ফিটিংস সুইস, সকেট সহ অন্যান্য বৈদ্যূতিক সামগ্রী ব্যবহারের মাধ্যমে বাসাবাড়ী এবং বাণিজ্যিক স্থাপনা সমূহে বৈদ্যুুিতক সংযোগ দেয়ার ফলে  সাধারনতঃ অগ্নিকান্ডের সূত্রপাত হয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে একশ্রেণীর অসাধু ব্যাবসায়ী, ঠিকাদার ও ইলেট্রিশিয়ানের অসাধু কর্মকান্ড মূলত দায়ী।

এছাড়াও একশ্রেণীর মানুষ স্বস্তায় কম মূল্যের বৈদ্যুুিতক সামগ্রী ব্যবহার করতে গিয়ে এসব ভয়াবহ দূর্ঘটনার শিকার হয়ে থাকে। বিদ্যুতের লোড ক্যাপাসিটি এবং নিয়ম না জেনেই অধিক ক্ষমতা সম্পন্ন যন্ত্রপাতির ব্যাবহার। অসচেতনতা, চোরাই ভাবে বৈদ্যুতিক সংযোগের মাধ্যমে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার। বিদ্যুৎ ব্যবহারে জ্ঞানের অভাবের ফলে বৈদ্যূতিক সর্টসার্কিট হয়ে এসব ভয়াবহ অগ্নিকান্ড সংঘটিত হয়ে থাকে।

বিশেষ করে আবাসিক ভবন সমুহে সবচেয়ে বেশী ক্ষতি হয়ে থাকে বলে তিনি জানান। এ জন্য জনসাধারনকে সচেতন হওয়ার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, নিজেদের মূল্যবান আবাসনের জন্য বাড়ি-ঘর এবং মিল কল-কারখানা নির্মান করার সময় বৈদ্যূতিক ক্যাবল এবং যন্ত্রপাতির সঠিক মান যাচাই-বাছাই করে সে সব ব্যাবহার করা উচিৎ বলে তিনি জানান।

এ সব ব্যাপারে জন সাধারনের ব্যাপক স্বচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। 

প্রাপ্ত সূত্রে আরো জানা গেছে, ২০২১ সালের পহেলা জানুয়ারী থেকে ৩১ শে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে সংঘটিত অগ্নিকান্ডের মধ্যে ১ হাজার ৩৪১ টি বাসা-বাড়ী ও আবাসীক ভবনে, ৯৩০ টি গোশালা ও খড়ের গাদা থেকে, ৬২৪ টি রান্নাঘর থেকে, ৩১৩ টি বিভিন্ন দোকান থেকে, ৯৯ টি হাট-বাজার থেকে, ৮৭ টি বস্তি থেকে, ৬৪ টি বিভিন্ন হোটেল রেঁস্তোরা থেকে, ৫১ টি হয়েছে শপিংমল ও মার্কেট থেকে, ৪২ টি পাট গুদাম ও পাটকল থেকে, ৩৯ টি গ্যাস লাইন ও গ্যাস সিলিন্ডার থেকে, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ২৫ টি, গাড়ীর আগুনে ২১ টি, কল কারখানায় ১৫ টি, হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ১৫ টি, বিদ্যূৎ উপ কেন্দ্রে ২১ টি, সরকারী বিভিন্ন গুরুত্বর্পূন স্থাপনা কেপিআই এ ৪ টি এবং অন্যান্য কারনে ৫৭৩ টি অগ্নিকান্ড সংঘটিত হয়েছে।  

 

 

মন্তব্য করুন


Link copied