আর্কাইভ  সোমবার ● ৩ অক্টোবর ২০২২ ● ১৮ আশ্বিন ১৪২৯
আর্কাইভ   সোমবার ● ৩ অক্টোবর ২০২২
 
 
শিরোনাম: পাঁচ দিনের ছুটির কবলে প্রশাসন       এলপিজি গ্যাসের দাম কমল       রংপুর মেডিকেলের উপপরিচালক ও সহকারী পরিচালসহ ৩ কর্মকর্তাকে বদলি       ঘোড়াঘাটের সাবেক ইউএনওকে হত্যাচেষ্টার রায় ৪ অক্টোবর       রংপুরে মাসব্যাপী শিল্প ও বাণিজ্য মেলা উদ্বোধন      

রংপুর সিটির চার কোটি টাকার ফুটওভার ব্রিজ কাজে আসছে না

রবিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, সকাল ০৯:১৩

সেন্ট্রাল ডেস্ক: রংপুর মহানগরীর যানজট নিরসন ও পথচারীর রাস্তা পারাপারের সুবিধার্থে প্রায় চার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে দুটি ফুটওভার ব্রিজ। কিন্তু উদ্বোধনের চার মাস পরও এখন পর্যন্ত ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার করছে না নগরবাসী। 

ব্রিজের নিচের অংশজুড়ে কিছু ব্যবসায়ীর অবৈধ দখলের কারণে আগের চেয়ে সড়কে বেড়েছে যানজট। রাস্তা পারাপারে বেড়েছে ভোগান্তি। দুর্ঘটনা ঘটছে প্রতিনিয়ত। ফুটওভার ব্রিজ দুটি নির্মাণে যথাযথ স্থান নির্ধারণ করতে না পারাসহ সিটি কর্পোরেশনের সঠিক পরিকল্পনার অভাব বলে মনে করছেন নগরবাসী। 

তবে সিটি মেয়র বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে রোড ডিভাইডারের মাঝে ফেন্সিং দিয়ে রাস্তা পারাপার বন্ধ করা হবে। এতে পথচারী ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহারে বাধ্য হবেন।
  
রসিকের প্রকৌশল শাখা সূত্রে জানা গেছে, রংপুর নগরীর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল সড়কে এবং সিটি কর্পোরেশন ভবনের প্রবেশ ফটকের কাছে অত্যাধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন দুটি ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে। ব্রিজ দুটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় চার কোটি টাকা। ব্রিজ দুটির ফাউন্ডেশন কংক্রিট ও পাটাতনসহ অন্যান্য অংশ স্টীলের। মূলত যানজট নিরসন ও পথচারীর চলাচলের সুবিধার্থে নিজস্ব অর্থায়নে ফুটওভার ব্রিজ দুটি নির্মাণ করেছে সিটি কর্পোরেশন।

সূত্র আরও জানিয়েছে, ফুটওভার ব্রিজের জন্য কাক্সিক্ষত জমি না পাওয়াতে বিকল্প স্থান হিসেবে সিটি কর্পোরেশন ভবনের পাশেই একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে। এটি পুলিশ লাইন্স স্কুল এ্যান্ড কলেজ মোড়ে নির্মাণের প্রস্তাব ছিল। এজন্য পুলিশ প্রশাসনের কাছে পাঁচ ফুট জমি চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা তা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় বাধ্য হয়ে সিটি কর্পোরেশন ভবনের পাশে নির্মাণ করা হয়েছে। গত বছরের ডিসেম্বরে ব্রিজ দুটির নির্মাণ কাজ শেষ হতো। কিন্তু সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের অনুমোদন পেতে প্রায় সাত মাস বিলম্ব হওয়ায় ফুটওভার ব্রিজ দুটির নির্মাণ কাজ পিছিয়ে যায়।

এ বছরের ২৮ এপ্রিল সিটি কর্পোরেশন ভবনের সামনে নির্মিত ফুটওভার ব্রিজটির উদ্বোধন করেন মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা। সম্প্রতি টার্মিনাল এলাকার ব্রিজটিও পথচারীদের পারাপারের জন্য খুলে দেয়া হয়। কিন্তু উদ্বোধনের গত তিন মাসে ফুটওভার ব্রিজ পারাপারে সাধারণ পথচারীর তেমন আগ্রহ দেখা যায়নি। রাস্তা পারাপারে দুর্ঘটনা এড়াতে ব্রিজ দুটি নির্মাণ করা হলেও সড়কের ডিভাইডার রাখা হয়েছে উন্মুক্ত। কোন ফেন্সিং না থাকায় পথচারী ঝুঁকি নিয়ে ইচ্ছেমতো রাস্তা পারাপার হচ্ছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নগরীর ব্যস্ততম সিটি বাজার সংলগ্ন সড়কে সব সময় যানজট লেগেই থাকে। ট্রাফিক পুলিশ থাকলেও দুর্বল ব্যবস্থাপনা ও বিভিন্ন যানবাহনের চালক এবং পথচারীর আইন মেনে চলার ক্ষেত্রে উদাসীনতার কারণে এই সড়কে থাকা ফুটওভার ব্রিজটি শুধু সৌন্দর্য হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। সিটি বাজার ও সিটি কর্পোরেশনসহ রাস্তার দু’পাশ থেকে মানুষজন বেপরোয়াভাবে পারাপার হচ্ছেন। কোন বাধ্যবাধকতা বা প্রতিবদ্ধকতা না থাকায় কারো মধ্যে ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহারে তেমন আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। 

তবে পথচারী বা সাধারণ মানুষ এই ব্রিজের সুবিধা না নিলেও কিছু ব্যবসায়ী ফুটওভার ব্রিজের নিচে গড়ে তুলেছেন ফলসহ বিভিন্ন দোকান। এর ফলে আগের যেকোন সময়ের চেয়ে এখন ফুটওভার ব্রিজের দু’পাশে যানজট, মানুষের জটলা আর রাস্তা পারাপারে বেড়েছে ভোগান্তি।

মাসুদ খান নামে এক পথচারী খরচের ব্যাগ হাতে নিয়ে ডিভাইডারের ফাঁকফোকর হয়ে রাস্তার ওপারে যাচ্ছিলেন। তিনি ফুট ওভার কেন ব্যবহার করছেন না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওই ব্রিজ দিয়ে তো কেউ পারাপার হয় না। সবকিছুর একটা সিস্টেম আছে, এখানে সেটা মানা হয়নি। ব্রিজটি যথাস্থানে দেয়া হয়নি। এ কারণে এটি কাজেও আসছে না।

মাঝেমধ্যে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের ফুটওভার ব্যবহার করতে দেখা যায়। তা ফুটওভার ব্রিজ দিয়ে পারাপারের জন্য নয়, তারা ফুটওভারে উঠে সেলফি  তোলে। বর্তমানে এটি সেখানকার নিত্যদিনের চিত্র।

শিক্ষার্থী বলেন, আমরা বেশিরভাগ সময় রাস্তার ওপর দিয়েই পারাপার হয়ে থাকি। এটা যদি ক্যান্ট. পাবলিক স্কুল মোড়ের মতো হতো, অর্থাৎ ডিভাইডারে ফেন্সিং থাকত, তাহলে সবাই ব্রিজের ওপর দিয়েই পারাপার করত। আমরা চাই নগরীতে এমন আরও ফুটওভার ব্রিজ হোক, তবে সেটা যেন পরিকল্পিতভাবে নির্মাণ করা হয়।

নগরীর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকার বাসিন্দা রিয়াজুল ইসলাম বলেন, টার্মিনালে সব সময় যানজট থাকবেই। ওখানে ফুটওভার ব্রিজের নিচে বাস থামিয়ে বেশিরভাগ বাসশ্রমিক যাত্রী ওঠা-নামা করে আসছেন। এতে গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম এই মহাসড়ক পারাপারে চরম দুর্ভোগের সঙ্গে ঝুঁকি বাড়ছে। ফুটওভার ব্রিজ আছে কিন্তু মানুষের মধ্যে সচেতনতার অভাব থাকায় সেটি কোন কাজে আসছে না। তাছাড়া ওই সড়কের পুরো ডিভাইডার অরক্ষিত এবং রেলিং নেই। যার কারণে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই মানুষজন রাস্তা পারাপার হয়ে আসছে।

তিনি বলেন, ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহারে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করার উদ্যোগ নিতে হবে। মানুষের সচেতনতা বাড়ানো হলে ব্রিজ নির্মাণের সুফল মিলবে। এখন তো ফুটওভার ব্রিজ দিয়ে পারাপার না হয়ে রাস্তার নিচ দিয়ে পারাপার করলে কেউ জরিমানা করছে না। আমাদের ট্রাফিক পুলিশ এ নিয়ে নীরব। যদি পুলিশ এবং সিটি কর্পোরেশন এই বিষয়টি নিয়ে তৎপর হয় এবং সুচিন্তিত পরিকল্পনা থেকে কাজ করে, তাহলে চার কোটি টাকা ব্যয়ের সার্থকতা থাকবে।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) রংপুর মহানগর কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ ফখরুল আনাম বেঞ্জু বলেন, নাগরিক সুবিধার মধ্যে চলাচলের প্রশস্ত রাস্তা, ফুটপাথ ও ফুটওভার ব্রিজ থাকলেই হবে না। এসব ব্যবহারের উপযোগীও করতে হবে। কিন্তু আমরা এই নগরীতে ভিন্ন চিত্র দেখছি। ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহারে মানুষকে উদ্বুদ্ধকরণ, ট্রাফিক সিস্টেম এবং মেট্রোপলিটন পুলিশের যে দায়বদ্ধতা রয়েছে, তা কিন্তু চোখে পড়ছে না। সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে সমন্বয় করে আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা উচিত।

খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে ফুটওভার ব্রিজ দুটির মাঝখানের ডিভাইডারে রেলিং বা ফেন্সিং  তৈরি করা হবে জানিয়ে রংপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বলেন, মানুষ যাতে নিরাপদে এপার থেকে ওপারে পারপার হতে পারে, এজন্য সিটি বাজারের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে। দুটি ব্রিজ নির্মাণে আমাদের চার কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। কিন্তু আমরা খেয়াল করছি ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহারে মানুষ তেমন সচেতন নন। কেউ আইন মেনে চলতে চান না। আমরা নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়েই রাস্তা পারাপার হতে অভ্যস্ত। অনেক সময় দুর্ঘটনাও ঘটছে। তারপরও ঝুঁকিপূর্ণ রাস্তা পারাপার বন্ধ হচ্ছে না। 
 
তিনি আরও বলেন, আমরা এখন পরিকল্পনা নিয়েছি, রাস্তার মাঝের ডিভাইডার বন্ধ করে দেয়া হবে। ক্যান্ট. পাবলিক স্কুলের মোড়ের আদলে এই দুটি ফুটওভার ব্রিজের নিচে বড় বড় করে রেলিং করা হবে। 

মন্তব্য করুন


Link copied