আর্কাইভ  সোমবার ● ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ● ২৪ মাঘ ১৪২৯
আর্কাইভ   সোমবার ● ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

শিরোনাম: রংপুরে শিবিরের ৬ নেতা কর্মী গ্রেফতার       রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুদকের অভিযান       তুরস্ক ও সিরিয়ায় ভূমিকম্পে নিহত ১২০০ ছাড়াল       ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৫৬০, তুরস্কে জরুরি অবস্থা ঘোষণা       ভূমিকম্পে তুরস্ক-সিরিয়ায় ৩১৩ জনের মৃত্যু      

রংপুর সিটি নির্বাচন: দলীয় কোন্দলে পরাজয়ের আশঙ্কা আ.লীগ প্রার্থীর

রবিবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২২, রাত ১০:২১

ডেস্ক: রংপুর সিটি নির্বাচনে হারার আগে হেরে বসে আছে আওয়ামী লীগ। জাতীয় পার্টিকে ওয়াকওভার দিতেই দুর্বল প্রার্থী দেয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেন নেতাকর্মীদের অনেকে। অন্যদিকে দুজন বিদ্রোহী প্রার্থী মাঠে থাকলেও এ নিয়ে কোনো উদ্যোগ নিচ্ছেন না কেউ।

দলটির কেন্দ্রীয় একাধিক নেতা মনে করেন, পদ-পদবির দিক থেকে হেভিওয়েট তিন নেতাসহ সাত মনোনয়নপ্রত্যাশীকে বিবেচনায় নেননি দলের প্রধান শেখ হাসিনা। কারণ হিসেবে তারা উল্লেখ করেন, কলহবিবাদে লিপ্ত প্রার্থীদের মধ্য থেকে কাউকে প্রার্থী করা হলে বাকিরা একজোট হয়ে তাকে হারিয়ে দিতেন। সাম্প্রতিক জেলা পরিষদ নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী অ্যাডভোকেট ইলিয়াস হোসেনের পরাজয় তেমনই একটি উদাহরণ।

জেলা পরিষদ নির্বাচনে স্থানীয় নেতাদের বিতর্কিত ভূমিকার ভূরি ভূরি অভিযোগ এখন কেন্দ্রীয় নেতাদের টেবিলে। আওয়ামী লীগের একজন কেন্দ্রীয় নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, দুর্দিনের একজন ত্যাগী নেতা হিসেবে অ্যাডভোকেট ইলিয়াস আহমেদকে মনোনয়ন দিয়েছিলেন দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা। কিন্তু তাকে হারাতে শুরু হয় টাকার খেলা। টাকা বিতরণের প্রমাণসহ রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দেন প্রার্থী নিজেই। অভিযোগটি আমলেও নেয় প্রশাসন। কিন্তু আওয়ামী লীগের স্থানীয় শীর্ষ নেতাদের নিষ্ক্রিয়তায় বিষয়টি ধামাচাপা পড়ে গেলে হেরে যান ইলিয়াস হোসেন।

এবারের সিটি করপোরেশন নির্বাচন সামনে রেখে মহানগর আওয়ামী লীগের দুই শীর্ষ নেতাসহ অনেকে ছিলেন মনোনয়নপ্রত্যাশী। জেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম রাজুকে নিয়েও গুঞ্জন ছিল শেষ দিকে। কিন্তু অপেক্ষাকৃত আলোচনার বাইরে থাকা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট হোসনে আরা লুৎফা ডালিয়াকে দলের টিকিট দেন স্বয়ং দলীয় প্রধান।

এদিকে দশম সংসদের সদস্যের (সংরক্ষিত) পর দলের বর্তমান কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যপদ পান ডালিয়া। সবশেষ পেলেন রংপুর সিটির নির্বাচনে মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন। সমকালীন আর কোনো নেতাই দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছ থেকে এতভাবে মূল্যায়িত হননি বলে আক্ষেপ আছে দলটির অনেক নেতার। আর এ কারণে অন্যান্য সময় কারণে-অকারণে দলীয় নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করলেও তার দেয়া মেয়র প্রার্থীকেও সহজে মেনে নিতে পারছেন না অনেকে।

জানা গেছে, সময় ঘনিয়ে এলেও দলীয় প্রার্থীর পক্ষে প্রস্তুতির কোনো কিছুই এখনও দৃশ্যমান করতে পারেনি আওয়ামী লীগ। মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার পর যাচাই-বাছাইয়ের পর্ব শেষে এখন ঘর গোছানোয় মনোযোগ দিয়েছেন নির্বাচনের সব প্রার্থী। কিন্তু এ ক্ষেত্রে প্রধান প্রতিপক্ষ জাতীয় পার্টি ও দলটির প্রার্থী যতটা গোছালো, উৎফুল্ল আর আত্মবিশ্বাসী, ঠিক ততটাই অগোছালো, অস্বস্তি আর দিগ্‌ভ্রান্ত আওয়ামী লীগ ও এর প্রার্থী।

মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি সাফিউর রহমান ছিলেন মনোনয়নপ্রার্থী। শুরু থেকে দলীয় প্রার্থী ডালিয়ার সঙ্গে তাকে দেখা না গেলেও গত ১ ডিসেম্বর রাতে মহানগর কমিটির বিশেষ সভা করেছেন দলীয় কার্যালয়ে। খোলামেলা বক্তব্যে নির্বাচনী কৌশল ও ব্যয় নিয়ে কথা বলেন তিনি। একই সময় জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়েও এ বিষয়ে বিশেষ সভা হয়। জেলা আওয়ামী লীগের সভায় হোসনে আরা লুৎফা অংশ নেন। পরে রংপুর বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক সাখাওয়াৎ হোসেন উভয় ইউনিটের নেতাদের নিয়ে মহানগর আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে বৈঠক করেন। কিন্তু বৈঠকগুলো খুব একটা ফলপ্রসূ হয়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট অনেকে।

মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলে তাদের মনোভাব জানা গেছে। অনেকেই অভিযোগ করেন, প্রার্থী ঘোষণার পর কোনো প্রকার দলীয় সিদ্ধান্ত ছাড়াই মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তুষারকান্তি মণ্ডল এককভাবে প্রার্থীকে নিয়ে বিচ্ছিন্ন কর্মকাণ্ড করছেন, যা অনেকেই মেনে নিতে না পেরে নিষ্ক্রিয় রয়েছেন।

রংপুর মহানগরীর ৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহিন কাদেরী বলেন, নৌকার জন্য কাজ করব, প্রার্থীর বিষয় বড় নয়।

২১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি সাইদুজ্জামান সোহাগ এই প্রার্থীর জনসম্পৃক্ততা না থাকায় হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘১০ বছরে স্থানীয়ভাবে কোনো যোগ্য প্রার্থী তৈরি হয়নি। মূলত তাদের শিক্ষা দেয়ার জন্য নেত্রী ডালিয়া আপাকে মনোনয়ন দিয়েছেন।’

৩২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও তাজহাট থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মাহবুবুর রহমান প্রার্থী হিসেবে হোসনে আরা লুৎফা ডালিয়াকেই যোগ্য প্রার্থী দাবি করলেও অসুস্থতার কারণে ভোটের কাজ করতে পারছেন না বলে জানান।

১১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মিলন হোসেন নিজে কাউন্সিলর প্রার্থী হওয়ায় বিএনপি-জাতীয় পার্টি সবার ভোটই প্রয়োজন। তাই অনেক সময় তিনি প্রকাশ্যে কাজ করতে পারবেন না বলে জানান। তবে তার লোকজন দলের প্রার্থীর জন্য কাজ করবেন। প্রার্থীর অবস্থা নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।

এদিকে এই নির্বাচনে অংশ নিতে অ্যাডভোকেট হোসনে আরা লুৎফা ডালিয়া ছাড়াও মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আতাউর জামান বাবু ও কোতোয়ালি থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি লতিফুর রহমান মিলন। শীর্ষ নেতারা দুই বিদ্রোহী প্রার্থীকে বোঝাতে কোনো ভূমিকাই পালন করছেন না।

আরেক দিকে নির্বাচনের ডামাডোলের মধ্য রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মমতাজউদ্দিন আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম রাজুর বিরোধ মারাত্মক অস্বস্তিতে ফেলেছে দলের সাধারণ নেতাকর্মীদের। সম্প্রতি জেলা আওয়ামী লীগের তলবিসভা ডেকে সভাপতি মমতাজকে সাময়িক অব্যাহতি দেয়ার ঘটনায় বিব্রত কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ। গত ১ নভেম্বর জেলা আওয়ামী লীগের সভায় যেতে না পারলেও মহানগর আওয়ামী লীগের সভায় যোগ দিয়েছিলেন প্রবীণ নেতা মমতাজউদ্দিন আহমেদ। খবর- সময় টিভি

মন্তব্য করুন


Link copied